বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ব্রিটেনের স্ট্রেনে রক্ষা নেই, এবার মুম্বইয়ে নতুন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে আফ্রিকার কোভিড প্রজাতি
নতুন প্রজাতির কোভিড সংক্রমণ শরীরের তিনটি অ্যান্টিবডিকে বোকা বানাতে সক্ষম।
নতুন প্রজাতির কোভিড সংক্রমণ শরীরের তিনটি অ্যান্টিবডিকে বোকা বানাতে সক্ষম।

ব্রিটেনের স্ট্রেনে রক্ষা নেই, এবার মুম্বইয়ে নতুন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে আফ্রিকার কোভিড প্রজাতি

  • মুম্বইয়ে খোঁজ মিলল দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পাড়ি দেওয়া কোভিডের আর এক অচেনা স্ট্রেনের। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রজাতির সংক্রমণ একই সঙ্গে তিনটি অ্যান্টিবডিকে বোকা বানাতে সক্ষম।

ব্রিটেন থেকে আগত নতুন কোভিডস্ট্রেন নিয়ে দুশ্চিন্তার মাঝেই মুম্বইয়ে খোঁজ মিলল দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পাড়ি দেওয়া কোভিডের আর এক অভিনব স্ট্রেনের। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রজাতির সংক্রমণ তিনটি অ্যান্টিবডিকে বোকা বানাতে সক্ষম।

মহারাষ্ট্রের খারগড়ের টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার মুম্বই সংলগ্ন অঞ্চলে এই প্রজাতির ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে তিন রোগীর শরীরে। জানা গিয়েছে, ব্রিটেনের মতোই জটিল বিভাজন দেখা গিয়েছে নতুন প্রজাতির কোভিড ভাইরাসে, যার সঙ্গে মিল রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায় অতিমারী সৃষ্টিকারী E484K প্রজাতির। 

খারগড়ে টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের ACTREC বিভাগের গবেষক দলের সদস্য হেমাটোপ্যাথোলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রোফেসর নিখিল পটকর জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় দেখতে পাওয়া করোনাভাইরাসের তিন বিভাজিত প্রজাতির অন্যতম E484K এর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে ৭০০টি নমুনার মধ্যে ৩টি নমুনায়। 

তাঁর দাবি, এই প্রজাতির কোভিড ভাইরাস মানবশরীরে তৈরি হওয়া তিনটি অ্যান্টিবডির পাহারা এড়াতে পারে বলেই আরও ভয়াবহ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইতিমধ্যে এই নতুন প্রজাতির কোভিড ভাইরাসকে ইউরোপে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সৃষ্টিকারী ব্রিটেনের স্ট্রেনের তুলনায় ‘আরও জটিল সমস্যা’ বলে উল্লেখ করছে। 

চরিত্রগত ভাবে যে কোনও ভাইরাসই শরীরে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে। এই তত্ত্বের ভিত্তিতে দক্ষিণ আফ্রিকার স্ট্রেন বিশ্বব্যাপী Covid-19 টিকাকরণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, তার অপেক্ষায় রয়েছেন বিজ্ঞানীরা। 

পটকরের মতে, ‘E484K প্রজাতি ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হওয়া অ্যান্টিবডি দ্বারা নিকেশ হওয়ার সম্ভাবনা কম। এই কারণেই টিকাকরণ এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে তার আচরণ এখনও অনিশ্চিত।’সাধারণত ক্যানসার রোগীদের জন্য জেনেটিক সিকোয়েন্সিং করে থাকলেও কোভিড অতিমারীর মোকাবিলায় নভি মুম্বই, পানভেল ও রায়গড়ের অন্য রোগীদের জন্যও এই পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে খারগড়ের টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার। 

গত এপ্রিল মাসে কোভিড ভাইরাসের ৪-৫টি প্রজাতির সন্ধান পেয়েছিল সেন্টারের ACTREC বিভাগের গবেষক দল। সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা বেড়ে ১০-১২টি হয়ে দাঁড়ায়। পটকর জানিয়েছেন, ‘আশ্চর্যের বিষয়, তিন পুরুষ রোগীর নমুনায় পাওয়া কোভিড ভাইরাসে E484K অভিযোজন ধরা পড়ে। তাঁদের বয়স যথাক্রমে ৩০,৩২ ও৪৩ বছর।’

জানা গিয়েছে, এই তিন রোগীর দুই জন ঠানের বাসিন্দা এবং তৃতীয় জনের বাড়ি রায়গড়ে। তিন জনেরই মৃদু কোভিড উপসর্গ দেখা দিয়েছিল, যার জেরে দুই জনহোম কোয়ারেন্টাইন এবং একজন হাসপাতালে ভরতি হলেও ভেন্টিলেশনে থাকার প্রয়োজন হয়নি।

বন্ধ করুন