এবারের বাজেটে ডুয়াল করনীতি নিয়ে এসেছে কেন্দ্র। পুরনো নিয়মে আয়কর দিতে পারেন কোনও ব্যক্তি। নতুন নিয়মে আয়কর দিলে কোনও ছাড় মিলবে না। কিন্তু ইনকাম স্ল্যাব অনুযায়ী আগের চেয়ে কম হারে আয়কর দিতে হবে। নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন যাদের বছরে পনেরো লক্ষ টাকা, তার এতে ৭৮ হাজার টাকা লাভ করবেন।
এবারের বাজেটে ডুয়াল করনীতি নিয়ে এসেছে কেন্দ্র। পুরনো নিয়মে আয়কর দিতে পারেন কোনও ব্যক্তি। নতুন নিয়মে আয়কর দিলে কোনও ছাড় মিলবে না। কিন্তু ইনকাম স্ল্যাব অনুযায়ী আগের চেয়ে কম হারে আয়কর দিতে হবে। নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন যাদের বছরে পনেরো লক্ষ টাকা, তার এতে ৭৮ হাজার টাকা লাভ করবেন।

New Income Tax structure- কী কী নিয়ম বদলাচ্ছে পয়লা এপ্রিল থেকে, জেনে নিন

নয়া কর কাঠামো চালু হচ্ছে নতুন অর্থবর্ষে

অর্থমন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে যে কোনও অবস্থাতেই অর্থবর্ষের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে না। ফলে ৩১ মার্চ শেষ হচ্ছে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষ। পয়লা এপ্রিল থেকে শুরু হবে নয়া অর্থবর্ষ। ইতিমধ্যেই করোনার প্রকোপের ফলে লকডাউনের জেরে বেশ কয়েকটি ডেডলাইন পিছিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। যেমন ২০১৮-১৯ এর রিটার্ন দেওয়ার ডেডলাইন বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিথিল করা হয়েছে প্যান-আধার সংযুক্তীকরণের সময়সীমা ও অ্যাডভান্স ট্যাক্স দেওয়ার শেষদিন। কিন্তু বাজেটে করা বিভিন্ন নিয়ম পয়লা এপ্রিল থেকে লাগু হবে। সেগুলি এক নজরে একটু ঝালিয়ে নেওয়া যাক।

১. বাজেটে যে নতুন ট্যাক্স স্ল্যাব ঘোষণা করা হয়েছে সেগুলি পয়লা এপ্রিল থেকে চালু করা হবে। তবে পুরনো ট্যাক্স স্ল্যাবও কেউ চাইলে ব্যবহার করতে পারেন। পুরনো ট্যাক্স স্ল্যাবের ক্ষেত্রে এক্সেম্পশন মিলবে।

নতুন কর কাঠামোয়, আড়াই লাখ অবধি কোনও কর দিতে হবে না। আড়াই থেকে পাঁচ লক্ষ অবধি ৫ শতাংশ, পাঁচ লক্ষ থেকে সাড়ে সাত লক্ষ অবধি দশ শতাংশ, সাড়ে সাত থেকে দশ লক্ষ অবধি পনেরো শতাংশ, দশ থেকে সাড়ে বারো লক্ষ অবধি ২০ শতাংশ, ১৫ লক্ষ অবধি ২৫ শতাংশ, ও তার বেশি হলে ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

কিন্তু নয়া কর কাঠামোয় কার্যত কোনও করছাড় মিলবে না। হাউজ রেন্ট অ্যালোয়েন্স, এলটিএ, Section 80C-র ওপর কোনও ডিডাকশন মিলবে না। এই ডিডাকশনগুলি থাকলে ট্যাক্সেবল ইনকাম অনেকটা কমে যায়। কোন করকাঠামো ব্যবহার করা উচিত সেটি উপার্জন ও কী কী ইনভেস্টমেন্ট আছে, তার ওপর নির্ভর করবে।

মূলত তরুণ ও বয়স্কদের জন্যেই নতুন কর কাঠামো সুবিধাজনক বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। তবে দুটি করকাঠামোতেই এনপিএস ডিডাকশন মিলবে।

২. মিউচুয়াল ফান্ড থেকে যে ডিভিডেন্ড পাওয়া যাবে তা যে অর্থ পাচ্ছেন, তাকে ট্যাক্স দিতে হবে। ডিভিজেন্ড ডিস্ট্রিবিউশন ট্যাক্স লোপ হওয়ার পর এখন দায় এসে পড়েছে গ্রাহকের ওপর। বছরে কোনও লগ্নিকারী ৫০০০ টাকার বেশি ডিভিডেন্ড পেলে তাঁকে দশ শতাংশ টিডিএস দিতে হবে।

৩. এমপ্লয়ার্স কন্ট্রিবিউশন NPS, superannuation fund ও EPF- এ বছরে ৭.৫ লক্ষের বেশি হলে, গ্রাহককে ট্যাক্স দিতে হবে সেই টাকার ওপর।

একটি কথা মনে রাখা ভালো, নতুন কর কাঠামোতেও NPS-এর ওপর এম্প্লয়ার্স কন্ট্রিবিউশনে ছাড় মিলবে। সর্বোচ্চ বেসিক ও ডিএ-র দশ শতাংশ এই খাতে ছাড় মিলতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মীরা মাইনের ১৪ শতাংশ অবধি ছাড় ক্লেম করতে পারবেন।

৪. যারা প্রথমবার বাড়ি কিনছেন ও বাড়ির দাম ৪৫ লক্ষের কম হয়ে, অতিরিক্ত করছাড় পেতে পারেন। যারা লোন নিয়ে বাড়ি কিনেছেন তারা অতিরিক্ত দেড় লক্ষ টাকা করছাড় পাবেন বর্তমানের দুই লাখের ওপর।

৫. স্টার্টআপে যারা কাজ করেন, তাদের ESOP-এর ওপর কোনও কর দিতে হবে না। এটি শেয়ার পাওয়ার ৪৮ মাস , বা চাকরি ছেড়ে দিলে, বা শেয়ার বিক্রি করলে, যেটি আগে আসবে, তখন অবধি শর্তটি বৈধ থাকবে।


বন্ধ করুন