বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ভারতে ঢুকে পড়েছে ব্রিটেনে দেখা দেওয়া নতুন কোভিড প্রজাতি, আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের
নতুন প্রজাতির করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ করতে জেনোমিক সিকোয়েন্সিং পদ্ধতিতে আরও বেশি পরীক্ষা করা জরুরি. বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
নতুন প্রজাতির করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ করতে জেনোমিক সিকোয়েন্সিং পদ্ধতিতে আরও বেশি পরীক্ষা করা জরুরি. বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতে ঢুকে পড়েছে ব্রিটেনে দেখা দেওয়া নতুন কোভিড প্রজাতি, আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের

  • নতুন প্রজাতির ভাইরাস সংক্রমণ ভারতে ইতিমধ্যে ঢুকে পড়তেই পারে। তবে খোঁজ করলে তবেই তার সন্ধান পাওয়া যাবে। এই কারণেই জেনোমিক সিকোয়েন্সিং পদ্ধতিতে আরও বেশি পরীক্ষা করা জরুরি।

গত সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিটেনে আত্মপ্রকাশ করা কোভিড সংক্রমণের নতুন প্রজাতি সম্ভবত এতদিনে ভারতে পৌঁছে গিয়েছে। মঙ্গলবার এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। 

ভাইরাসের এই নতুন সংস্করণ, যার পোশাকি নাম VUI–202012/01 সাধারণ করোনাভাইরাসের তুলনায় ৭০% দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে আগেই সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। জীবাণুর এই নয়া অভিযোজনকে খুঁজে বের করতে এবং তার দ্রুত হারে ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে একমাত্র কাজে দেয় জেনোম-সিকোয়েন্সিং প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা বা RT-PCR টেস্ট, দাবি বিশেষজ্ঞদের।

কোভিড সংক্রমণের এই নতুন প্রজাতির প্রকোপ থেকে বাঁচতে মঙ্গলবার রাত থেকে ব্রিটেন থেকে আগত সব বিমান নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। এ ছাড়া, ব্রিটেন থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দরে কোভিড পরীক্ষার ফল পজিটিভ হলে তাঁদের পুনরায় RT-PCR টেস্ট করা এবং আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিল্লির ছয় জন-সহ মোট ২২ জন বিমানযাত্রী পজিটিভ দেখা দিলে তাঁদের নমুনা ফের পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। 

ইনস্টিটিউট অফ জেনোমিক্স অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজির অধিকর্তা অনুরাগ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘কোভিড সংক্রমণের নতুন প্রজাতি ভারতে না আসার সম্ভাবনা কম।’ তবে তাঁর মতে, এই প্রজাতির ভাইরাস বেশি সংক্রামক হলেও যাঁরা মাস্ক ব্যবহার করছেন না, তাঁদেরই সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। 

অশোক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ ত্রিবেদি স্কুল অফ বায়োসায়েন্সেস-এর ভাইরোলজিস্ট ও অধিকর্তা শাহিদ জামিল বলেন, ‘নতুন প্রজাতির ভাইরাস সংক্রমণ ভারতে ইতিমধ্যে ঢুকে পড়তেই পারে। তবে খোঁজ করলে তবেই তার সন্ধান পাওয়া যাবে। এই কারণেই আমাদের জেনোমিক সিকোয়েন্সিং পদ্ধতিতে আরও বেশি পরীক্ষা করা জরুরি। কোভিড সংক্রমণের নিরিখে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত এবং হতেই পারে ভাইরাসের নতুন কোনও প্রজাতি এ দেশেও ইতিমধ্যে প্রবেশ করেছে।’

তাঁর দাবি, ভারতে প্রতি ৩,০০০ রোগীর ক্ষেত্রে একটিমাত্র জেনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়। অথচ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৩০০ রোগীর ক্ষেত্রে একটি জেনোম সিকোয়েন্সিং করা দরকার।

মঙ্গলবার সরকারি বিবৃতি দিতে গিয়ে নীতি আয়োগ সদস্য ভি কে পাল জানিয়েছেন, আইসিএমআর, বায়োটেকনোলজি দফতর ও কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ-এর অধীনে থাকা গবেষণাগারগুলিতে ব্রিটেন থেকে আগত যাত্রী-সহ আরও বেশি সংখ্যক পজিটিভ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হবে।

 

বন্ধ করুন