বাড়ি > ঘরে বাইরে > আমাকেও মেরে ফেলুন, হাহাকার করে আদালতে অচৈতন্য মুকেশের স্ত্রী
আদালত চত্বরের বাইরে ভেঙে পড়লেন অক্ষয় সিং ঠাকুরের স্ত্রী। ছবি সৌজন্যে এএনআই।
আদালত চত্বরের বাইরে ভেঙে পড়লেন অক্ষয় সিং ঠাকুরের স্ত্রী। ছবি সৌজন্যে এএনআই।

আমাকেও মেরে ফেলুন, হাহাকার করে আদালতে অচৈতন্য মুকেশের স্ত্রী

  • আমিও সুবিচার চাই। আমাকে আর আমার ছেলেকেও মেরে ফেলা হোক। আমার স্বামী নিরপরাধ। সমাজ কেন আমাদের পিছনে পড়েছে?

‘আমাকেও মেরে ফেলা হোক।’ বৃহস্পতিবার দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালতে নির্ভয়াকাণ্ডে দোষী ৪ আসামির ফাঁসি রদের আবেদন নাকচ হওয়ার পরে এই আর্জি জানালেন দণ্ডিত মুকেশ সিংয়ের স্ত্রী।

বিচারকক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে অক্ষয় সিং ঠাকুরের স্ত্রী চিৎকার করে বলেন, ‘আমিও সুবিচার চাই। আমাকে আর আমার ছেলেকেও মেরে ফেলা হোক। আমার স্বামী নিরপরাধ। সমাজ কেন আমাদের পিছনে পড়েছে? সুবিচার পাব এই আশায় এতদিন বেঁচেছিলাম, কিন্তু গত সাত বছর ধরে প্রতিদিন আমাদের মেরে ফেলা হচ্ছে।’

চরম হতাশায় নিজের চটি দিয়েই নিজেকে মারতে থাকেন ওই যুবতী। এরপরেই তিনি কিছু ক্ষণের জন্য জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে শান্ত করে আদালত চত্বরের বাইরে নিয়ে যান আইনজীবীরা।

ঘটনার জেরে এ দিন নির্ভয়ার বাবা-মায়ের আইনজীবী অবশ্য বলেন, ‘অক্ষয় আমাদের সমাজেরই সদস্য ছিল। প্রত্যেকেই অস্বাভাবিক মৃত্যুতে বেদনাতুর হয়ে পড়েন। কিন্তু অক্ষয় ক্ষমার যোগ্য নয়।’

গত ৫ মার্চ নির্ভয়াকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ৪ আসামির নামে নতুন মৃত্যুপরোয়ানা জারি করে দিল্লির নিম্ন আদালত। নির্দেশ অনুযায়ী, আগামিকাল শুক্রবার ভোর ৫.৩০ মিনিটে মুকেশ সিং (৩২), পবন গুপ্তা (২৫), বিনয় শর্মা (২৬) ও অক্ষয় সিং ঠাকুর (৩১) ফাঁসির আদেশ একসঙ্গে কার্যকর হবে। এ দিন নিম্ন আদালত জানিয়ে দিয়েছে, এই চার জনের ফাঁসি রুখতে আর কোনও আইনি পথ অবশিষ্ট নেই।

এ দিন সকালে দিল্লি আদালতে তার আবেদন খারিজ হওয়ার রায়ের বিরুদ্ধে আসামি মুকেশ সিংয়ের আর্জি আবার খারিজ হয়ে যায়। ওই আর্জিতে সে দাবি করেছিল, নির্ভয়ার গণধর্ষণ ও নিগ্রহের সময় সে দিল্লিতে উপস্থিত ছিল না।

বন্ধ করুন