বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > কোভ্যাক্সিন টিকা নিয়ে মৃত শ্রমিকের ভিসেরা রিপোর্টে মিলল না বিষের হদিশ
কোভ্যাক্সিন টিকা নেওয়ার পরে মৃত শ্রমিক দীপক মারাউইর ভিসেরা রিপোর্টে বিষক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়া গেল না।
কোভ্যাক্সিন টিকা নেওয়ার পরে মৃত শ্রমিক দীপক মারাউইর ভিসেরা রিপোর্টে বিষক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়া গেল না।

কোভ্যাক্সিন টিকা নিয়ে মৃত শ্রমিকের ভিসেরা রিপোর্টে মিলল না বিষের হদিশ

  • ভিসেরা রিপোর্টে বলা হয়েছে, মৃতের শরীরে কোনও বিষাক্ত পদার্থ পাওয়া যায়নি। ভিসেরায় ইথাইল অ্যালকোহল ও অ্যান্টাসিড মিলেছে।

ভোপালে কোভ্যাক্সিন টিকা নেওয়ার পরে মৃত স্বেচ্ছাসেবক দীপক মারাউইর ভিসেরা রিপোর্টে বিষক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়া গেল না। 

গত ১২ ডিসেম্বর কোভ্যাক্সিন তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশগ্রহণ করেন মধ্যবয়েসি শ্রমিক দীপক মারাউই। ২১ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। ৯ জানুয়ারি তাঁর পরিবার ভোপালের পিপলস মেডিক্যাল কলেজে তৃতীয় পর্যায়ের ভ্যাক্সিন ট্রায়ালের জেরেই মারাউইর মৃত্যুহয়েছে বলে অভিযোগ জানালে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। 

গান্ধী মেডিক্যাল কলেজের ময়না তদন্ত রিপোর্ট জানায়, সম্ভাব্য বিষক্রিয়ার কারণে হৃদযন্ত্র ও ফুসফুস বিকল হয়েই মৃত্যু হয়েছে মারাউইর। কিন্তু এফ এস এল সাগরের দেওয়া ভিসেরা রিপোর্টে বলা হয়েছে, মৃতের শরীরে কোনও বিষাক্ত পদার্থ পাওয়া যায়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী, মারাউইর ভিসেরায় ইথাইল অ্যালকোহল ও অ্যান্টাসিড মিলেছে। 

মধ্য প্রদেশ চিকিৎসক সংগঠনের আইন বিভাগের প্রধান অশোক শর্মা জানিয়েছেন, ‘ভিসেরা রিপোর্টে বিষাক্ত পদার্থ পাওয়া না যাওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি বিষাক্ত কিছু খাননি। দ্রুত হজম প্রক্রিয়ার ফলে বিষাক্ত কোনও পদার্থের উপস্থিতি নির্ধারণ করা কঠিন। হতে পারে তিনি মদ্যপান করেছিলেন, যার জেরে পেটখারাপ হয়েছিল। তবে নিশ্চিত কিছু বলা অসম্ভব।’

মৃতের ছেলে আকাশ মারাউই বলেন, ‘আমার বাবার জন্য সুবিচার চাই। তিনি রোজগারহীন ছিলেন এবং তাই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশগ্রহণ করে আয় করতে চেয়েছিলেন। ওঁর কাছে মদ কেনার টাকা ছিল না। ভ্যাক্সিন ট্রায়ালের পরে তিনি কোথাও যাননি। তাই আমরা নিশ্চিত যে তিনি মদ্যপান করেননি।’

আকাশ আরও বলেন, ‘বাবা আর ফিরবেন না, কিন্তু তাঁর মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে জানার এবং দোষীর শাস্তি যাতে নিশ্চিত করা হয়, সেই দাবিজানানোর অধিকার আমাদের আছে।’

সমাজ আন্দোলন কর্মী রচনা ধিংড়া বলেন, ‘একটি মানুষ বিষ না খেয়ে বিষক্রিয়ায় মারা গেলেন। এ কী করে সম্ভব? এই প্রশ্নের জবাব সরকারকে দিতে হবে। টিকাকরণ প্রক্রিয়া বন্ধ করা ও মারাউইর মৃত্যুর আসল কারণ জানার চেষ্টা না-করে পিপলস মেডিক্যাল কলেজ ও ভারত বায়োটেক-এর স্বার্থ বাঁচাতে বেশি আগ্রহী রাজ্য সরকার।’

ভ্যাক্সিন ট্রায়ালে অংশগ্রহণের সময় মারাউই সমস্ত শর্ত পূরণ করেছিলেন এবং টিকা নেওয়ার পরেও চেকআপে সুস্থ প্রমাণিত হয়েছিলেন বলে এর আগে মন্তব্য করেছিলেন পিপলস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের উপাচার্য রাজেশ কাপুর। ভিসেরা রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পরে অবশ্য তিনি প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকার করেছেন।

মধ্য প্রদেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রী বিশ্বাস সারং বলেন, ‘আমরা এই বিষয়ে ফরেন্সিক বিজ্ঞানীদের মতামত জানব।’

ঘটনার তদন্তে নেমেছে মধ্য প্রদেশ পুলিশও। ভোপালের ডিআইজি ইরশাদ ওয়ালি জানান, ‘আমরা ভিসেরা রিপোর্ট পেয়েছি এবং মারাউইর মৃত্যুর কারণ জানতে অনুসন্ধান চলেছে।’

বন্ধ করুন