বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > হাথরাসের তরুণীর ফরেন্সিক রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি, দাবি যোগীর পুলিশের
হাথরাসের ‘গণধর্ষণ'-এর ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে গুরুগ্রামে মিছিল (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
হাথরাসের ‘গণধর্ষণ'-এর ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে গুরুগ্রামে মিছিল (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

হাথরাসের তরুণীর ফরেন্সিক রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি, দাবি যোগীর পুলিশের

  • আমজনতার একাংশের অভিযোগ, ভবিষ্যতে যাতে কোনও নমুনা সংগ্রহ করা না যায়, সেজন্য পরিবারকে না জানিয়েই তড়িঘড়ি তরুণীর শেষকৃত্য করেছে পুলিশ।

হাথরাসে নিহত তরুণীর ফরেন্সিক রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি। এমনই দাবি করলেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল (আইন-শৃঙ্খলা) প্রশান্ত কুমার। যদিও পুলিশ আদৌও সঠিক সময়ে নমুনা সংগ্রহ করেছিল কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এক বিশেষজ্ঞ।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এডিজি দাবি করেন, ঘাড়ে আঘাত এবং সেই আঘাতের জন্য যে ধাক্কা লেগেছিল, তার জেরে তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আগ্রার ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির যে রিপোর্ট এসেছে, তাতে তরুণীর নমুনায় শুক্রাণু মেলেনি। যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যের পুলিশকর্তার কথায়, ‘ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির রিপোর্ট এসে গিয়েছে। তাতে পরিষ্কার বলা হয়েছে যে নমুনায় শুক্রাণু নেই। এটা থেকেই স্পষ্ট যে কোনও ধর্ষণ বা গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি।’

তাঁর দাবি, গত ২৫ সেপ্টেম্বর তরুণীকে আলিগড় হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছিল। সেদিন ধর্ষণের বিষয়ে জানানোর পরই তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এডিজি বলেন, ‘নিজের বয়ানে তরুণীও ধর্ষণের বিষয়ে বলেননি। প্রাথমিকভাবে তিনি মারপিটের কথা বলেছিলেন।’

রাজ্যে বিভিন্ন জাতের মানুষের মধ্যে হিংসা ছড়িয়ে দিতে এবং সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে ধর্ষণের খবর ছড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন প্রশান্ত। তিনি বলেন, 'মামলায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ এবং যাঁরা সামাজিক সম্প্রীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা নষ্টের চেষ্টা করছেন, আমরা তাঁদের চিহ্নিত করব।'

যদিও নাম গোপন রাখার শর্তে লখনউয়ের এক ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ধর্ষণ বা যৌন হেনস্থার এক সপ্তাহ পর যদি নমুনা সংগ্রহ করা হয়, তাহলে বীর্যের ডিএনএ মিলবে না। কারণ দেহে ফ্লুইড তৈরি হওয়ার ফলে তা ক্রমশ ধুয়ে য়ায়। আর হাথরাসের তরুণীর নমুনা ১০ দিনেরও বেশি সময় পরে সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ওই ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ।

তবে পুলিশের কাছে যে পুরোপুরি তদন্তের সুযোগ আছে, তা স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন তিনি। ওই বিশেষজ্ঞ জানান, ঘটনার সময় তরুণীর যে পোশাক পরেছিলেন, তা যদি সংরক্ষণ করা হয়, বা পুলিশ যদি পোশাক, ঘটনাস্থল ও নখের নমুনা সংগ্রহ করেন, তাহলে তা তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে। কারণ পোশাকে বীর্যের উপস্থিতি সারাজীবন থেকে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

লখনউয়ের আইনি বিশেষজ্ঞ রোহিত কন্থ জানিয়েছেন, তরুণী যদি মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে ধর্ষণের অভিযোগ করেন, তাহলে যাবতীয় ফরেন্সিক ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে। নির্যাতিত বয়ানই অগ্রাধিকার পাবে।

তবে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দাবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একাংশের অভিযোগ, ভবিষ্যতে যাতে কোনও নমুনা সংগ্রহ করা না যায়, সেজন্য পরিবারকে না জানিয়েই তড়িঘড়ি তরুণীর শেষকৃত্য করেছে পুলিশ। তবে তরুণীর পোশাক, নখের নমুনা সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বন্ধ করুন