বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > কৃষি আইন নিয়ে মিথ্যা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে হট্টগোল বিরোধীদের, লোকসভায় কটাক্ষ মোদীর
লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

কৃষি আইন নিয়ে মিথ্যা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে হট্টগোল বিরোধীদের, লোকসভায় কটাক্ষ মোদীর

  • মোদীর ভাষণের সময় ওয়াক-আউট করেন কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরা।

রাজ্যসভায় কোনওরকম বিরোধিতার মুখোমুখি হননি। কিন্তু লোকসভায় বিরোধীদের হই-হট্টগোলের মধ্যে পড়তে হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। তাতে পালটা আক্রমণ করে মোদী দাবি করলেন, কৃষকদের যাতে সঠিক তথ্য না পৌঁছায়, সেজন্য পরিকল্পিতভাবে হট্টগোল করছেন বিরোধীরা। যদিও কোনও লাভ হবে না।

মঙ্গলবার সংসদের নিম্নকক্ষে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের ভাষণের উপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবের শুরুর দিকে কোনওরকম বিরোধিতা ছাড়াই কথা বলছিলেন মোদী। কিন্তু কৃষি আইনের প্রসঙ্গ উঠতেই প্রতিবাদ জানাতে থাকেন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। তা নিয়ে প্রাথমিকভাবে রসিকতা করলেও যত সময় যাচ্ছিল, তত মন্তব্যের সঙ্গে শ্লেষও মিশিয়ে দিচ্ছিলেন মোদী। তাতেও অবশ্য দমেননি অধীর। তাঁর সঙ্গে আরও সাংসদ যোগ দেন। রীতিমতো হট্টগোল করতে থাকেন। স্পিকার ওম বিড়লার আর্জিতেও কাজ হয়নি। সেই প্রেক্ষিতে মোদী বলেন, ‘(লোকসভায়) যে আওয়াজ তোলা হচ্ছে এবং বাধা তৈরির যে চেষ্টা করা হচ্ছে, তা আদতে একেবারে সুপরিকল্পিত কৌশল। হট্টগোল করা কৌশল। নাহলে মিথ্যা এবং গুজবের পর্দাফাঁস হবে যাবে, সত্যি সকলের সামনে চলে আসবে এবং পুরো বিষয়টি তাঁদের পক্ষে কঠিন হয়ে যাবে। কিন্তু এরকম খেলার মাধ্যমে আপনারা কখনও মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবেন না।’

তার মধ্যেও হট্টগোল চলতে থাকে। তবে অনড় ছিলেন মোদীও। অধীর ফের কথা বলতে থাকলে মোদী বলেন, ‘অধীররঞ্জনজি প্লিজ, প্লিজ, এবার বাড়াবাড়ি হচ্ছে, এবার বাড়াবাড়ি হচ্ছে, আমি আপনাকে সম্মান করি। আমি যেখানে যা করছিলেন, সেখানে নথিভুক্ত হয়ে গিয়েছে। আর বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে বেশি প্রচার পেয়ে যাবেন বাবা!’ একইসঙ্গে দাবি করেন, কৃষি আইন তৈরির পর ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বেড়েছে। দেশের কোথাও মাণ্ডিও বন্ধ হয়নি। একইসঙ্গে ‘বিভ্রান্ত এবং বিভক্ত’ কংগ্রেসকে আক্রমণ করে মোদী বলেন, ‘যে কংগ্রেস ছ'দশক ধরে দেশের ক্ষমতায় ছিল, তাদের এমন অবস্থা য়ে রাজ্যসভায় কংগ্রেসের সাংসদরা একদিকে যান, লোকসভার নেতারা অপরদিকে যান।’ তারইমধ্যে কংগ্রেস সাংসদরা লোকসভা থেকে ওয়াক-আউট করেন। প্রাথমিকভাবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৌগত রায়দের বসে থাকতে গেলেও পরে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরাও সেই পথে হাঁটেন।

বিরোধীদের ওয়াক-আউটের পরে একেবারে সোজা ব্যাটে খেলা শুরু করেন মোদী। তিনি জানান, ভারতীয় কৃষকরা আত্মনির্ভর হয়ে উঠুন, সেটাই চায় কেন্দ্র। তিনি যেখানে চাইবেন, সেখানে নিজের শস্য বিক্রি করতে পারবেন। সেই দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ করার প্রয়োজন হবে। মোদী বলেন, ‘আমি হতবাক যে নতুন একটা তত্ত্ব উঠে এসেছে - আমরা তো চাইনি, তাহলে আপনারা কেন দেবেন!’ সঙ্গে তিনি জানান, তিন তালাক রদ, বিয়ের বয়স, পণপ্রথা নিয়ে কেউ আইনের দাবি জানাননি, কিন্তু তা করা হয়েছে। কারণ দেশের উন্নয়ন এবং প্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মোদীর আর্জি, উন্নয়নের জন্য কৃষকদের হাত ধরে এগিয়ে যেতে হবে।

বন্ধ করুন