করোনার জেরে কলকারখানা স্তব্ধ। শুধু ভারতে নয়, আমেরিকাতেও সেই হাল। অবস্থা এমনই খারাপ যে মার্কিন মুলুকে তেলের দাম নেতিবাচক হল। অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে কমতে শূন্যের মাত্রা ছাড়িয়ে নেতিবাচক -৩৭ ডলার হয়ে গেল। অর্থাত্, কেউ এর ব্যারেল তেল কিনলে তাকে ৩৭ ডলার দিতে হবে ব্যবসায়ীদের। আজব মনে হলেও এমনই হল সোমবার মার্কিন মুলুকে ট্রেডিংয়ের সময়।

ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ফিউচার্স বা ডবলুটিআই ফিউচার্স হচ্ছে আমেরিকায় তেলের দামের সূচক। দিনের শেষে এক ডলার তেলের দাম ১৭.৮৫ প্রতি ব্যারেল থেকে -৩৭.৬৩ ব্যারেল হয়ে যায়। করোনার পর থেকেই চাহিদার থেকে জোগান অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। WTI-এর স্টোরেজ ট্যাঙ্ক ভরে গিয়েছে কোথাও তেল রাখারই জায়গা নেই।

WTI-এর মে মাসের কন্ট্র্যাক্টের জন্য দাম এতটা কমেছে। অর্থাত্ যারা মে মাসের জন্য তেল বুক করে রেখেছিলেন, তারা ডেলিভারি চাইছিলেন না, কারণ ওই তেল আবার স্টোর করে রাখার জন্য খরচা লাগবে। তার থেকে কেউ যদি তেলটি নিয়ে নেয় ও তার সঙ্গে কিছু টাকাও নেয়, তাতেও কম ক্ষতি হবে বলে মনে করছিলেন ব্যবসায়ীরা। জুন মাসের কন্ট্র্যাক্টের জন্য যে তেল বিক্রি হচ্ছে, সেটা এখনও ব্যারেল প্রতি কুড়ি ডলারে মিলছে।

তবে ক্রুড ফিউচারের দাম নেতিবাচক হলেও গ্রাহকরা অত সস্তায় পাবেন না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে নিশ্চিত ভাবেই অনেকটা তারা লাভবান হবেন। মঙ্গলবার এখনও পর্যন্ত মে মাসের জন্য যে তেল বুক করা হয়, তার দাম যাচ্ছে ব্যারেল পিছু ১.৭৬ ডলার। যেখানে সব তেল জমা থাকে আমেরিকার, সেই ওকলাহামার কুশিংয়ের স্টোরেজ মে মাসের প্রথমেই ভরে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই দ্রুত উত্পাদন কমাতে হবে তেল সংস্থাগুলিকে।

এর অবশ্য সরাসরি কোনও প্রভাব ভারতের ওপর পড়বে না, কারণ ভারত ব্রেন্ট ক্রুড কেনে, ডবলুটিআই নয়। কিন্তু করোনার জেরে ও তার সঙ্গে ওপেকের মধ্যে মতভেদের জেরে তেল সংস্থাগুলি যে গভীর সংকটে পড়েছে, তার প্রভাব প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে সব অর্থনীতির ওপরই পড়তে বাধ্য।

বন্ধ করুন