বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > পরিবেশ ও শিল্পের অনন্য স্বাদ, যে ভাস্কর্যের মধ্যে রাত কাটানো যায়!
ছবি সৌজন্যে Deutsche Welle
ছবি সৌজন্যে Deutsche Welle

পরিবেশ ও শিল্পের অনন্য স্বাদ, যে ভাস্কর্যের মধ্যে রাত কাটানো যায়!

  • এক অভিনব প্রদর্শনীতে ভাস্কর্যের মধ্যে রাত কাটানোর সুযোগ জার্মানিতে।

শিল্পকীর্তি দেখতে হলে সাধারণত মিউজিয়াম বা আর্ট গ্যালারিতে যেতে হয়৷ কিন্তু জার্মানিতে এক অভিনব প্রদর্শনীতে ভাস্কর্যের মধ্যে রাত কাটানোরও সুযোগ রয়েছে৷ ফলে প্রকৃতি, পরিবেশ ও শিল্পের অনন্য স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে৷

খোলা আকাশের নীচে এই শিল্পকর্মের মধ্যে বাস করা যায়৷ ‘টাইনি বি' নামের প্রদর্শনী প্রকল্প আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীদের সৃষ্টি তুলে ধরছে৷ বেশিরভাগ শিল্পকীর্তি ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের মেৎসলারপার্কে শোভা পাচ্ছে৷ এর উদ্যোক্তা ও কিউরেটর কর্নেলিয়া সালফ্রাংক৷ তিনি বলেন, ‘‘সর্বোচ্চ ৩০ বর্গমিটার জায়গায় নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়েছিল৷ টেকসই উপাদান কাজে লাগিয়ে সেই বাসযোগ্য স্থান কীভাবে ভাস্কর্যের সঙ্গে মিশে যাবে, সেই প্রশ্ন মীমাংসার দায়িত্বও ছিল৷''

বায়োকেমিস্ট হিসেবে লিসা স্টেলৎসার আন্তঃবিষয়ক এক সংঘের অংশ, যেটি ‘মাই কো স্পেস' নামের জায়গাটি ডিজাইন করেছে৷ নবায়নযোগ্য কাঁচামাল দিয়ে সবকিছু তৈরি করা হয়েছে৷ মাশরুম বা ছত্রাক দিয়ে মোড়া মূল কাঠামোটি কাঠের তৈরি৷ লিসা বলেন, ‘‘নির্মাণের উপাদান হিসেবে মাশরুমের বৈচিত্র্য আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে৷ এখানে সেই সৌন্দর্য চোখে পড়ে৷ প্রথমত ছুঁলে অভিনব অনুভূতি হয়৷ প্যানেল অনুযায়ী সারফেসগুলিও পরস্পরের থেকে ভিন্ন৷ পরিবেশবান্ধব এই উপাদানের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে৷ সেটি অনেক পেট্রোলিয়াম-ভিত্তিক, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপাদানের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে৷''

বার্লিনের স্থপতি স্ভেন ফাইফার এই টিমের অন্যতম সদস্য৷ তিনিও এই প্রকল্প সম্পর্কে উৎসাহী৷ স্ভেন বলেন, ‘‘আমার কাছে এটা অনেকটা স্বপ্নের মতো৷ ভবিষ্যতে এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে, যাতে পরবর্তী প্রজন্মগুলিও আমাদের মতো সুযোগ পায়৷ স্থাপত্যসহ নতুন প্রায় সবকিছুই ডিগ্রেডেবল বা পরিবেশবান্ধব হতে হবে৷ অর্থাৎ ব্যবহার শেষ হলে উপকরণগুলি আবার যেন প্রকৃতির চক্রে ফিরিয়ে দিতে পারি৷''

শিল্পীদের সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে কোনো সীমা রাখা হয় নি৷ ‘টাইনি বি' প্রদর্শনীর কিউরেটর হিসেবে কর্নেলিয়া সালফ্রাংক বলেন, ‘‘লোর প্রুভো নামের ভাস্কর ‘বুব হিল্স বারোস' সৃষ্টি করেছেন৷ বক্ষদেশের মতো দুটি টিলার একদিক থেকে পানির দীর্ঘ বিম বেরিয়ে আসছে৷ অন্যদিকে রয়েছে বাসযোগ্য ভাস্কর্য৷ এটি এখনো পর্যন্ত এই প্রকল্পের সবচেয়ে উত্তেজক বা বিতর্কিত ভাস্কর্য৷ ব্রেস্ট হিলের ভেতরের অংশে মাটির নীচে গর্তও রয়েছে৷ অনেকটা খরগোশ বা ইঁদুরের গর্তের মতো৷ পুরোটা কাদামাটি দিয়ে তৈরি৷ শুধু উপরে স্তনবৃন্ত আসলে মুরানো গ্লাস৷ এখানে প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের সঙ্গে আমরা নিজেদের সম্পর্ক অনুভব করি এবং সেই জগতের মর্ম বুঝতে পারি৷''

কিউরেটর হিসেবে কর্নেলিয়া নিজে চীনা-ক্যানেডীয় শিল্পী টেরেন্স কো-র ট্রি হাউসে রাত কাটিয়েছেন৷ সেই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘এখানে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতার সময় আমি সচেতনভাবে চারিপাশের পরিবেশ অনুভব করেছি৷ বেশি সময় না হলেও কিছুক্ষণ ঘুম হয়েছে৷ মাইন নদীর তীরে উৎসবে ব্যস্ত মানুষের কণ্ঠ অসাধারণ লেগেছে৷ প্রাণী ও পোকার শব্দ পেয়েছি৷ উপরেই একটা মৌচাক ছিল৷ ফলে সব মিলিয়ে খুব সচেতনভাবে প্রকৃতির নির্যাস নিয়েছি৷''

সারা দিন ধরেই বাইরে থেকে বিনামূল্যে এই শিল্পকর্ম দেখা যায়৷ শহরের মধ্যে প্রকাশ্যে এমন শিল্পকর্মের ক্ষতি এড়াতে প্রহরী রাখতে হয়৷ সারাদিন পাঁচ ইউরো মাসুলের বিনিময়ে তিনটি ভাস্কর্যের ভেতরে প্রবেশ করা যায়৷ রাত কাটাতে হলে ১৬৬ ইউরো বা তার বেশি ভাড়া গুনতে হয়৷ পেটার হ্যোনিশ ড্যুসেলডর্ফের ভাস্কর টোমাস শ্যুটে-র ‘স্পার্টা হাট'-এ রাত কাটাতে এসেছেন৷ তিনি মনে করেন, ‘‘মিউজিয়ামে শিল্পকীর্তি দেখার তুলনায় এটা অবশ্যই ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা৷ এখানে শিল্পীর তৈরি কোনো বস্তু দেখার যে সুযোগ রয়েছে, তেমনটা কখনো সম্ভব নয়৷''

‘টাইনি বি' প্রদর্শনীতে শিল্প অভিজ্ঞতার মাধ্যম হয়ে উঠেছে ও নতুন অন্তর্দৃষ্টি সম্ভব করছে৷

বন্ধ করুন