ছবিটি প্রতীকী।
ছবিটি প্রতীকী।

দাম চড়তেই শুরু চোরের হানা, খেতপাহারায় ঘুম নেই পেঁয়াজচাষিদের

  • গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রদেশে পেঁয়াজের খেতে উপদ্রব বেড়েছে চোরের। প্রচণ্ড শীতের রাতে খেতে বসে থাকা প্রায় অসম্ভব। মাঝরাতে তাই বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যান কৃষকরা। সেই সুযোগে পেঁয়াজ চুরি করতে খেতে ঢোকে দুষ্কৃতীরা।

বাজারদর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফসলের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমে দুশ্চিন্তা বাড়ছে পেঁয়াজচাষিদের। চুরি রুখতে এবার চব্বিশ ঘণ্টা খেতপাহারার ব্যবস্থা চালু করেছেন তাঁরা।

অসময়ের বৃষ্টি এ বছর পেঁয়াজ উত্পাদনে অত্যধিক ক্ষতি সৃষ্টি করেচে। যার জেরে দেশজুড়ে পাল্লা দিয়ে চড়েছে পেঁয়াজের বাজারদর। পেঁয়াজের হাহাকার রুখতে বাধ্য হয়ে পেঁয়াজ আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

ভারতে মহারাষ্ট্রের পরেই পেঁয়াজ উত্পাদনকারী রাজ্যের তালিকায় রয়েছে মধ্যপ্রদেশের নাম। কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক উন্নয়ন মন্ত্রকের হিসেব বলছে, দেশের ১৬% পেঁয়াজ এই রাজ্যে উত্পাদিত হয়।

অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রদেশে পেঁয়াজের খেতে উপদ্রব বেড়েছে চোরের। তাই নিয়ে বিশেষ উদ্বিগ্ন মধ্যপ্রদেশের কৃষকরা। বিশেষ করে আশঙ্কা ঘনিয়েছে সর্বোচ্চ ফলনের জন্য প্রসিদ্ধ মান্ডসওরে, যেখানে খেতে ফলে থাকা পেঁয়াজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে দিনরাত পাহারার ব্যবস্থা করতে বাধ্য হয়েছেন স্থানীয় কৃষক সম্প্রদায়।

পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি রাজ্যের অন্যতম পেঁয়াজ উত্পাদনকারী অঞ্চল মালওয়ার পেঁয়াজখেত থেকে অন্তত ছয়টি চুরির খবর পাওয়া গিয়েছে। ফসলচোরের দল হানা দিয়েছে দেওয়াস ও খান্ডওয়াতেও।

চুরির সাম্প্রতিকতম ঘটনাটি ঘটেছে মান্ডসওরে। মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগড় থানার কাচনারা গ্রামের দুই কৃষিজীবী জগদীশ পটিদার ও দশরথ পটিদারের পেঁয়াজখেতে হানা দেয় চোরের দল। রাতারাতি মাটি খুঁড়ে প্রায় ৬০ হাজার টাকা দামের ফসল তারা লুঠ করে বলে অভিযোগ।

থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরে দশরথ জানিয়েছেন, ‘ভেবেছিলাম, দাম বাড়ার ফলে এ বছর ফসল বেচে ভালো আয় হবে আর সেই টাকায় একটা টিউবওয়েল বসাব। কিন্তু সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে।’

রাতে পাহারা দিতে গেলেও নানান সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা। দশরথ জানিয়েছেন, প্রচণ্ড শীতের রাতে কনকনে ঠান্ডা হাওয়া সহ্য করে খেতে বসে থাকা প্রায় অসম্ভব। মাঝরাতে তাই বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যান কৃষকরা। সেই সুযোগে পেঁয়াজ চুরি করতে খেতে ঢোকে দুষ্কৃতীরা। তবে সামাপ্রতিক ঘটনার পরে চোর আর্টকাতে খেতের কাছে কুঁড়েঘর তৈরি করে রাতযাপনের ব্যবস্থা করেছেন চাষিরা।

দশরথের মতোই অভিজ্ঞতা হয়েছে রিচ্ছাবাচ্ছা গ্রামের কৃষক জীতেন্দ্র ধনগড়ের। দিন পনেরো আগে তাঁর খেতে হানা দিয়েও পেঁয়াজ চুরি করে লুঠেরারা। তিরিশ হাজার টাকা দামের প্রায় ৬.৫ কুইন্টাল ফসল চুরি গিয়েছে তাঁর খেত থেকে। নীমচ এলাকাতেও এই রকম চুরির খবর পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার পুলিশ সুপার রাকেশ কুমার।

গত ২৮ নভেম্বর মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলায় ট্রাক থামিয়ে ৪০ টন পেঁয়াজ লুঠ করে দুষ্কৃতীরা। ট্রাকটি মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর যাচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। আবার গত মঙ্গলবার শিবপুরীর এক গুদাম তেকে চুরি গিয়েছে ১২ বস্তা পেঁয়াজ।

ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে জবলপুরের নিওয়াদগঞ্জেোর সবজিবাজারে হানা দিয়ে ৬৫০ কেজি পেঁয়াজ লুঠ করে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদল। চুরি যাওয়া ওই পেঁয়াজের বাজারমূল্য ৭৫,০০০ টাকা, দাবি পুলিশের।

বন্ধ করুন