করোনার বিরুদ্ধে লড়তে জানতে হবে রক্তের গ্রুপ। ফাইল চিত্র।
করোনার বিরুদ্ধে লড়তে জানতে হবে রক্তের গ্রুপ। ফাইল চিত্র।

রক্তের গ্রুপ বিশেষে শিকার খোঁজে করোনাভাইরাস, প্রকাশ রিপোর্টে

যারা A' গ্রুপের রক্ত বহন করছেন তাঁদের সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। আবার যারা 'O গ্রুপের রক্ত বহন করছেন তাঁদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম রয়েছে।

করোনাভাইরাসের আতঙ্কে কাঁপছে সারা বিশ্ব। হাজার হাজার মানুষ ইতিমধ্যে এই ভাইরাসের শিকার হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে এক গবেষণা বলছে, যারা A' গ্রুপের রক্ত বহন করছেন তাঁদের সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। আবার যারা 'O গ্রুপের রক্ত বহন করছেন তাঁদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম রয়েছে।

চিনের এক দল বিজ্ঞানীর করা এক গবষেণাপত্রে এমনই তথ্য সামনে এসেছে। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে মেডরেক্সিভ ওয়েবসাইটে। বিজ্ঞানীরা উহান ও শেনজেন হাসপাতালের ২ হাজার রোগীর তথ্য নিয়ে এই গবেষণা করেছেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, উহানের নাগরিকদের মধ্যে ৩৪ শতাং 'O' গ্রুপের রক্ত বহন করছেন, ৩২ শতাংশ বহন করছেন 'A' গ্রুপের রক্ত। আর ২৫ শতাংশ 'B' গ্রুপের বহন করছেন এবং ৯ শতাংশ বহন করছেন 'AB' গ্রুপ। এই তথ্য পেতে বিজ্ঞানীরা উহানের ৩ হাজার ৭০০ সুস্থ ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা করেছেন।

বিজ্ঞানীরা একইসঙ্গে আবার করোনা আক্রান্ত রোগীদের নিয়েও গবেষণা করেছেন। তাঁরা দেখতে পেয়েছেন, উহানে করোনা আক্রান্ত রোগীর ৩৮ শতাংশ 'A' গ্রুপের রক্ত বহন করছেন। আর অন্যদিকে, ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ রোগী 'B' গ্রুপের এবং ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ রোগী 'O' গ্রুপের রক্ত বহন করছেন। সবচেয়ে কম রোগী (১০ শতাংশ) 'AB' গ্রুপের রক্ত বহন করছেন।

ওই তথ্যগুলো পাওয়ার পর আবার শুরু হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তারপর ৩৮৯ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর রক্ত নিয়ে চলে গবেষণা। সেই সময় তাঁরা দেখতে পান করোনা আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগীই 'A' গ্রুপের রক্ত বহন করছেন। আর তুলনামূলক কম ব্যক্তি বহন করছেন 'O' গ্রুপের রক্ত। নতুন তথ্য তাদের এই তত্ত্বকে প্রমাণ করেছে। তাই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে 'A' গ্রুপের রক্তের বাহকরা সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন।

গত বছরের শেষের দিকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে চিনের উহানে। কিন্তু সেখানেই আটকে থাকেনি এই মারণ ভাইরাস। ১৩০ টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে রোগের জীবাণু। সারা বিশ্বের প্রায় সাত হাজার মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন করোনাভাইরাসে।

বন্ধ করুন