বাড়ি > ঘরে বাইরে > কেন্দ্রের আপত্তি উড়িয়ে সেনায় মহিলাদের পার্মানেন্ট কমিশনের সুপ্রিম নির্দেশ
ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস
ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস

কেন্দ্রের আপত্তি উড়িয়ে সেনায় মহিলাদের পার্মানেন্ট কমিশনের সুপ্রিম নির্দেশ

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এক মহিলা অফিসার বলেন, 'আমরা সেনা ছাড়তে চাইনি, সেনা আমাদের ছাড়তে চেয়েছিল।'

একাধিক বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল কেন্দ্র। তবে তা ধোপে টিকল না সুপ্রিম কোর্টে। বরং শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিল, সেনাবাহিনীতে কর্মরত সকল মহিলা অফিসারদের স্থায়ী কমিশন (পার্মানেন্ট কমিশন) দিতে হবে। সেক্ষেত্রে ১৪ নাকি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে তাঁরা সেনাবাহিনীতে কর্মরত, তাও বিবেচ্য হবে না।

আরও পড়ুন :মহিলা অফিসারদের স্থায়ী কমিশনে কেন্দ্রের নোটে বৈষম্যের ইঙ্গিত,মত সুপ্রিম কোর্টের


'শারীরিক সীমাবদ্ধতা' ও 'সামাজিক নিয়ম'-এর যুক্তি দেখিয়ে সেনাবাহিনীতে মহিলাদের স্থায়ী কমিশন ও উচ্চপদে নিয়োগের বিরুদ্ধে সওয়াল করেছিল কেন্দ্র। এদিন তা খারিজ করে দেয় বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি অজয় রাস্তোগির ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, এটা (কেন্দ্রের সওয়াল) অত্যন্ত বিরক্তিকর ও লিঙ্গ সাম্যের বিরোধী। কেন্দ্রের অবস্থান সমানধিকারের নীতি লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি, মহিলাদের কম্যান্ড পদে নিয়োগের জন্যও সার্বিক বাধা চাপানো যাবে না বলে নির্দেশ দেয় ডিভিশন বেঞ্চ।


২০১০ সালে দিল্লি হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল, পুরুষদের মতো বায়ুসেনা ও সেনায় কর্মরত মহিলাদের (যাঁরা শর্ট সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি-র জন্য নিযুক্ত হয়েছেন) স্থায়ী কমিশন অর্থাৎ ২০ বছর কাজের অনুমতি দিতে হবে। এনিয়ে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কেন্দ্র।

তবে সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৪ বছর পর্যন্ত কাজ করা (শর্ট সার্ভিস কমিশনড) মহিলারাই শুধুমাত্র স্থায়ী কমিশনের জন্য বিবেচিত হবেন। যে মহিলারা ১৪ বছরের বেশি কাজ করেছেন, স্থায়ী কমিশনের জন্য তাঁদের বিবেচনা করা হবে না। তবে পেনশন সংক্রান্ত সুবিধা মিলবে। আর যে মহিলারা ২০ বছরের বেশি কাজ করছেন, সুপ্রিম কোর্টের মামলা মিটে গেলে তাঁরা আর সেনাবাহিনীতে কাজের সুযোগ পাবেন না। অর্থাৎ তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে তাঁরা পেনশন সংক্রান্ত সুবিধা পাবেন।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ২০১৯ সালে নিজেদের নীতি অনুযায়ী ১০টি বিভাগে শর্ট সার্ভিস কমিশনড মহিলাদের জন্য স্থায়ী কমিশনের যে দরজা খুলে দিয়েছিল, তা সংবিধানের আদেশ মেনে। তবে কেন্দ্র আদালতে যে নোট জমা দিয়েছিল, তা লিঙ্গ বৈষম্যকে মদত জোগায়। কেন্দ্রের সওয়ালের রীতিমতো সমালোচনা করে ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দেশের জন্য বিভিন্ন সম্মান এনেছেন মহিলা অফিসাররা। কিন্তু তাঁদের ক্ষমতা নিয়ে কোনও ধারণা চাপিয়ে দেওয়াটা শুধু মহিলাদের পক্ষে অপমানজনক নয়, ভারতীয় সেনার জন্য তা অত্যন্ত অপমানজনক। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের ৭০ বছর পরও মহিলা অফিসায়দের সমানাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনার মানসিকতায় পরিবর্তনের প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্বভাবতই খুশি হয়েছেন মহিলা অফিসাররা। আদালতের বাইরে এক অফিসার বলেন, 'আমরা সেনা ছাড়তে চাইনি, সেনা আমাদের ছাড়তে চেয়েছিল।''

বন্ধ করুন