বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > পরিবেশ রক্ষার অজুহাতে উন্নয়ন প্রকল্প আটকে রাখবেন না, রাজ্যগুলিকে আর্জি PM Modi-র
ছবি: পিটিআই (PTI)

পরিবেশ রক্ষার অজুহাতে উন্নয়ন প্রকল্প আটকে রাখবেন না, রাজ্যগুলিকে আর্জি PM Modi-র

  • প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, ফ্লাইওভার, রাস্তা, এক্সপ্রেসওয়ে এবং রেলওয়ে প্রকল্পগুলি দীর্ঘ মেয়াদে কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করে। তাই ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনার সময় এই দিকটিও মাথায় রাখা প্রয়োজন।

পরিবেশ রক্ষার অজুহাত দেখিয়ে উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বাধা দেওয়া বন্ধ করুন। শুক্রবার বিভিন্ন রাজ্যের পরিবেশ মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।এর প এদিন ‘পরিবেশ’(Parivesh) পোর্টালের গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এই পোর্টালের মাধ্যমে একই স্থানে বনাঞ্চল, বন্যপ্রাণী, পরিবেশ, উপকূলীয় নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নথি, ছাড়পত্র সংক্রান্ত তথ্য মিলবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিবেশ সংক্রান্ত ৬,০০০টিরও বেশি প্রস্তাব এবং বনাঞ্চল উচ্ছেদ বিষয়ক ৬,৫০০টি প্রস্তাব রাজ্যগুলির কাছে অনির্দিষ্টকালের জন্য পড়ে আছে। তিনি রাজ্যগুলিকে শীঘ্রই সেগুলিতে সায় দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সেটা করা হচ্ছে বলেই হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অমীমাংসিত অবস্থায় আটকে রয়েছে।  আরও পড়ুন : পরিবেশের ছাড়পত্র পেতে ১৫০ দিন লাগে না, এখন কাজ ৯০ দিনেই : কেন্দ্র

শুধু প্রাকৃতিক পরিবেশই নয়। কাজের পরিবেশেও পরিবর্তন আনার বিষয়ে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই জাতীয় ছাড়পত্রের প্রক্রিয়াকরণ যাতে দ্রুত হয় তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করেন তিনি।

প্লাস্টিক দূষণ দূরীকরণ এবং পরিবেশে রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মতো পরিকল্পনার নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্র-রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর জন্য সম্মেলনটি আহ্বান করা হয়েছে। মোদি জুন মাসে লাইফ চালু করেছিলেন যাতে মানুষ তাদের গ্রহের সাথে তাল মিলিয়ে জীবনযাপন করতে পারে।

গত জুন মাসে 'LIFE' চালু করেন প্রধানমন্ত্রী। এই LIFE-এর সম্পূর্ণ অর্থ হল, লাইফস্টাইল ফর দ্য এনভাইরনমেন্ট মুভমেন্ট। অর্থাত্ জীবনযাত্রার সার্বিক বদলের মাধ্যমে প্রকৃতিকে রক্ষা করাই এই ভাবনার মূলে। এদিনের LIFE সম্মেলনে পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতি প্রণয়নে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

এদিন 'আর্বান নকশাল'দের বিরুদ্ধেও সতর্ক করে দেন প্রধানমন্ত্রী। মাওবাদী সংযোগে অভিযুক্ত বুদ্ধিজীবীদের ক্ষেত্রে সাধারণত এই বিশেষণটি ব্যবহার করেন ডানপন্থীরা। তাঁর মতে, তাদের ষড়যন্ত্রের প্রভাবেই পরিবেশগত প্রকল্পের ছাড়পত্র পেতে এত সময় লাগছে। আন্তর্জাতিক সংস্থার থেকে টাকা নিয়ে দেশের পরিবেশের উন্নয়নে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।

মোদী বলেন, গুজরাটের সর্দার সরোবর বাঁধটি ১৯৬১ সালে চালু হয়েছিল। সেই সময়ে জওহরলাল নেহেরু প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। নমোর অভিযোগ, পরিবেশের নামে 'নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের কারণে' সেই কাজ সম্পূর্ণ হতে কয়েক দশক সময় লেগে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাঙ্ক ষড়যন্ত্রের কারণে বাঁধের উচ্চতা বাড়াতে ঋণ দিতে অস্বীকার করেছিল। তাঁর কথায়, 'এই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে কিছুটা সময় লেগেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত গুজরাটের বাসিন্দারাই জিতেছিলেন। যে বাঁধকে এক সময়ে পরিবেশের জন্য ধ্বংসাত্বক বলে বর্ণনা করা হচ্ছিল, আজ সেটাই পরিবেশ রক্ষার সমার্থক হয়ে উঠেছে।'

এরপর প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, ফ্লাইওভার, রাস্তা, এক্সপ্রেসওয়ে এবং রেলওয়ে প্রকল্পগুলি দীর্ঘ মেয়াদে কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করে। তাই ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনার সময় এই দিকটিও মাথায় রাখা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, চলতি বছরেই নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দান টানেলের উদ্বোধন করা হয়েছিল। এই সুড়ঙ্গের ফলে যানজট থেকে মুক্তি পেয়েছেন আমজনতা। শুধু তাই নয়, হিসাব অনুযায়ী, এটি বছরে ৫.৫ মিলিয়ন লিটারেরও বেশি জ্বালানি বাঁচাতে সহায়তা করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি প্রতি বছর প্রায় ১৩ হাজার টন কার্বন নির্গমন হ্রাস করবে। এটি প্রায় ৬ লক্ষ গাছের সমান। 

বন্ধ করুন