বাড়ি > ঘরে বাইরে > প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় মজবুত হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি, দাবি নমোর
মধ্য প্রদেশে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অন্তর্গত আবাসনের গৃহ প্রবেশ অনুষ্ঠান উপলক্ষে ওয়েবকাস্ট-এ শনিবার ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: এএনআই।
মধ্য প্রদেশে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অন্তর্গত আবাসনের গৃহ প্রবেশ অনুষ্ঠান উপলক্ষে ওয়েবকাস্ট-এ শনিবার ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: এএনআই।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় মজবুত হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি, দাবি নমোর

  • প্রকল্প রূপায়ণের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও নারীশক্তির বিকাশ ঘটেছে এবং বাড়ি নির্মাণের ফলে উপভোক্তাদের ব্যক্তিগত আবেগ যুক্ত হয়েছে।

স্বাধীনতার পরে এবং গত ছয় বছরে দরিদ্রদের জন্য সরকারি আবাসন প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম প্রধান তফাৎ হল স্বচ্ছতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিকেন্দ্রীকরণ নীতি। শনিবার এই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

তাঁর দাবি, এই প্রকল্প রূপায়ণের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও নারীশক্তির বিকাশ ঘটেছে এবং বাড়ি নির্মাণের ফলে উপভোক্তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত আবেগ যুক্ত হয়েছে।

এ দিন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (গ্রামীণ) প্রকল্পে মধ্য প্রদেশের ১২,০০০ গ্রামে নির্মিত ১.৭৫ লাখ বাড়ির গৃহ প্রবেশ উপলক্ষে লাইভ ওয়েবকাস্টের মাধ্যমে উপভোক্তাদের উদ্দেশে স্বাগত ভাষণ দেন মোদী। অনুষ্ঠানে তিনি ধার, সিংগরাউলি ও গোয়ালিয়র জেলার বাছাই করা তিন অধিবাসীর সঙ্গে অনলাইনে কথা বলেন।

ওয়েবকাস্টে উপস্থিত ছিলেন মধ্য প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার, রাজ্য সভার সাংসদ জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এবং রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েতরাজ মন্ত্রকের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব মনোজ শ্রীবাস্তব-সহ বিভাগীয় কর্তারা।

এ দিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতা লাভের পরে প্রথম দশক থেকেই দেশের দরিদ্রজনের জন্য আবাসনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতি ১০-১৫ বছর অন্তর প্রকল্পের নাম পালটে গিয়েছে, কিন্তু কোটি কোটি গরিবের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা আখেরে কিছুই হয়নি।’

নমো বলেন, আগে যে সমস্ত পরিকল্পনা হয়েছে, তাতে হবু বাসিন্দাদের কখনও প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং অনবরত সরকারি হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত প্রকল্প সফল হয়নি। বাড়ি তৈরি হলেও প্রকল্পে স্বচ্ছতার অভাবে মান অত্যন্ত খারাপ হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাড়ি পেলেও বিদ্যুৎ, পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবা পেতে সরকারি দফতরে হত্যে দিয়েও লাভ হয়নি অধিবাসীদের। এই কারণে সরকারি আবাসনের প্রতি মানুষের মনে তৈরি হয়েছে প্রবল অনীহা। 

পুরনো এই তিক্ত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ত্রুটি সংশোধন করে ২০১৪ সালে নতুন কলেবরে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা চালু করে কেন্দ্রীয় সরকার। আগে গরিব নাগরিকদের বাড়ি পেতে সরকারের পিছনে দৌড়তে হত, কিন্তু এখন সরকারই তাঁদের খুঁজে বের করে পরিষেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। 

এ দিন মোদী বলেন, এই প্রকল্পে আবাসনের পাশাপাশি আরও একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা লাভ করছেন অধিবাসীরা। স্বচ্ছ ভারত অভিযান সূত্রে তাঁরা পাচ্ছেন স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, উজ্জ্বলা যোজনা সূত্রে পাচ্ছেন এলপিজি পরিষেবা, সৌভাগ্য যোজনা সূত্রে বিদ্যুৎ সংযোগ, উজালা যোজনায় এলইডি বাল্ব ছাড়াও পানীয় জলের সংযোগ-সহ অন্যান্য পরিষেবা।

কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি নির্মাণের কাজ সাবলীল গতিতে এগিয়ে চলায় এ দিন সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি, স্থানীয় কাঁচামাল ও শ্রম ব্যবহারের ফলে আখেরে গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ ঘটেছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

বন্ধ করুন