বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > 'সস্তা প্রচারের জন্য' যেন প্রণবের বই প্রকাশ না আটকায়, দাদাকে পালটা শর্মিষ্ঠার
প্রণব মুখোপাধ্যায় (ফাইল ছবি, সৌজন্য @POI13)
প্রণব মুখোপাধ্যায় (ফাইল ছবি, সৌজন্য @POI13)

'সস্তা প্রচারের জন্য' যেন প্রণবের বই প্রকাশ না আটকায়, দাদাকে পালটা শর্মিষ্ঠার

  • শর্মিষ্ঠা বলেন, ‘আর হ্যাঁ, দাদা, বইয়ের নাম হচ্ছে দ্য প্রেসিডেন্সিয়াল ইয়ার্স, দ্য প্রেসিডেন্সিয়াল মেমওয়ার্স নয়।’

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বই নিয়ে রীতিমতো সম্মুখসমরে অবতীর্ণ হলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির পুত্র ও কন্যা। তাঁর অনুমতি ছাড়া বাবার লেখা শেষ বইয়ের প্রকাশ বন্ধ রাখতে বলেছিলেন পুত্র অভিজিৎ। পালটা বই প্রকাশের ক্ষেত্রে অহেতুক বাধা প্রদান না করার আর্জি জানালেন কন্যা শর্মিষ্ঠা। সঙ্গে কড়া ভাষায় জানালেন, সস্তা প্রচারের জন্য কেউ যেন বইয়ের প্রকাশ আটকানোর চেষ্টা না করেন। 

গত শুক্রবার প্রণববাবুর লেখা শেষ বই 'দ্য প্রেসিডেন্সিয়াল ইয়ার্স'-এর কিছু অংশ প্রকাশ করেছে প্রকাশক সংস্থা রুপা। আত্মজীবনীমূলক বইয়ের সেই অংশে ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির জন্য কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি সোনিয়া গান্ধী এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে নিশানা করেছিলেন প্রণববাবু। সেই বিষয় নিয়ে কংগ্রেসের তরফে অবশ্য কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে বইয়ে নিজের মত হিসেবে প্রণববাবু জানিয়েছিলেন যে প্রথম দফায় স্বৈরতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রশাসন চালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী বছর সেই বিয়ের চতুর্থ খণ্ড প্রকাশিত হতে চলেছে। যা প্রথম ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। সেই সময় রাষ্ট্রপতি ভবনে ছিলেন প্রণববাবু।

কিন্তু মঙ্গলবার অভিজিৎ দাবি করেন, বইয়ের যে অংশ সামনে আনা হয়েছে, তা ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। প্রকাশক কমিশ মেহরাকে টুইট করে অভিজিৎ বলেন, ‘যেহেতু আমার বাবা আর নেই, তাই ছেলে হিসেবে প্রকাশের আগে বইয়ের শেষ খণ্ডের বিষয়টি খুঁটিয়ে দেখতে চাই। আমার বিশ্বাস যে বাবা বেঁচে থাকলে উনিও তাই করতেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি খুঁটিয়ে না দেখা পর্যন্ত আমার লিখিত অনুমতি ছাড়া অবিলম্বে (বই) প্রকাশ বন্ধ করার আর্জি জানাচ্ছি।’

বিষয়টি নিয়ে প্রকাশকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল ‘হিন্দুস্তান টাইমস’। তাদের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে নাম গোপন রাখার শর্তে এক আধিকারিক জানিয়েছিলেন, পাণ্ডুলিপির চূড়ান্ত খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছিলেন প্রণববাবু। এমনকী হাসপাতালে ভরতির একদিন আগে বইয়ের কভারেও সায় দিয়েছিলেন। অপর এক আধিকারিক জানিয়েছিলেন, এমন একজন আধিকারিক জানিয়েছেন, নয়া খণ্ডে অনুমোদন দিয়েছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। সে বিষয়ে অভিজিতের থেকেও বেশি জানতেন প্রণব-কন্যা শর্মিষ্ঠা।

সেই বিতর্ক শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে ওই আধিকারিকের কথায় কার্যত সায় দেন প্রণব-কন্যা। একাধিক টুইটে তিনি জানান, বইয়ে যে মত প্রকাশ করা হয়েছে, তা একান্ত প্রণববাবুর। অভিজিৎকে ট্যাগ করে শর্মিষ্ঠা বলেন, ‘আমি, স্মৃতিকথা 'দ্য প্রেসিডেন্সিয়াল ইয়ার্স'-এর লেখকের মেয়ে, আমার দাদা অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়কে আমাদের বাবার লেখা শেষ বই প্রকাশের ক্ষেত্রে অযাচিত বাধা তৈরি না করার আর্জি করাচ্ছি। অসুস্থ হওয়ার আগে উনি পাণ্ডুলিপির কাজ শেষ করেছিলেন। চূড়ান্ত খসড়ায় আমার বাবার হাতে লেখা চিঠি লেখা আছে এবং এমন মন্তব্য আছে, যা একান্ত তাঁর ব্যক্তিগত। যে মতামত প্রকাশ করেছেন, তা সম্পূর্ণভাবে তাঁর ব্যক্তিগত মত। সস্তা প্রচারের জন্য কেউ যেন বইয়ের প্রকাশ আটকানোর চেষ্টা না করেন। সেটা আমাদের প্রয়াত বাবার প্রতি সবথেকে অমানবিক কাজ হবে।’

তবে সেখানেই থামেননি প্রণব-কন্যা। একটি টুইটে বইয়ের নাম 'দ্য প্রেসিডেন্সিয়াল মেমওয়ার্স' লিখেছিলেন অভিজিৎ। ঘণ্টাখানেক পরে তা শুধরে নেন। তাতে খোঁচা দিয়ে শর্মিষ্ঠা বলেন, ‘আর হ্যাঁ, দাদা, বইয়ের নাম হচ্ছে দ্য প্রেসিডেন্সিয়াল ইয়ার্স, দ্য প্রেসিডেন্সিয়াল মেমওয়ার্স নয়।’

বন্ধ করুন