বাড়ি > ঘরে বাইরে > প্রণবদা প্রধানমন্ত্রী হলে ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি ভবনে যেতেন মনমোহন সিং: রাজামনি
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভেনু রাজামনি। ছবি সৌজন্য : টুইটার
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভেনু রাজামনি। ছবি সৌজন্য : টুইটার

প্রণবদা প্রধানমন্ত্রী হলে ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি ভবনে যেতেন মনমোহন সিং: রাজামনি

  • প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রথম এবং শেষ প্রেম ছিল সংসদ, এমনই জানালেন রাজামনি। সংসদে থাকার সময়ই প্রণবদাকে সবচেয়ে খুশি দেখাত।

নীরজ চৌহান

প্রণব মুখোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন প্রেসিডেন্ট হাউসে পাঁচ বছরের জন্য প্রেস সেক্রেটারি ছিলেন ভেনু রাজামনি। তিনি এখন নেদারল্যান্ডসে ভারতের রাষ্ট্রদূত। প্রণববাবুর ব্যাপারে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‌শুধুমাত্র সংসদীয় পদ্ধতি এবং ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসের পণ্ডিত হিসেবে নয়, প্রণব মুখোপাধ্যায়কে আমি এমন এক নেতা হিসেবে মনে রাখতে চাই যে ইউপিএ ১ এবং ইউপিএ ২–এর সময় কংগ্রেসের প্রধান সমস্যা সমাধানকারী ছিলেন।’‌

ভেনু রাজামনি স্পষ্টভাবেই বললেন, ‘‌প্রণবদার আরও প্রাপ্য ছিল। যদি তিনি প্রধানমন্ত্রী হতেন তবে ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি ভবনে যেতেন ড‌.‌ মনমোহন সিং। আর সেটি হলে ২০১৪–র পর থেকে ভারতে যা রাজনৈতিক পালাবদল এবং ঘটনা ঘটেছে তা অনেকটাই অন্যরকম হত।’‌ প্রিয় প্রণবদাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজামনি বলেন, ‘‌তাঁর জীবনকাল ও কাজের পরিধি সাধারণ মানুষকে তাঁর মতো উচ্চমানের নৈতিক ভাবনা নিয়ে বাঁচতে অনুপ্রাণিত করবে।’‌

তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রণববাবু মনে করতেন, সংবিধান রক্ষা করাই তাঁর প্রধান কর্তব্য। জনসাধারণের জন্য রাষ্ট্রপতি ভবন উন্মুক্ত করে দিয়ে এটিকে একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। এই উদ্যোগ তাঁর কাজগুলির মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য। নেদারল্যান্ডস থেকে ফোনে রাজামনি ‘‌হিন্দুস্তান টাইমস’‌কে বলেন, ‘‌তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে রাষ্ট্রপতি ভবন দেশ ও দশের নিজস্ব এবং এর বিভিন্ন কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের আরও বেশি করে অংশ নেওয়া উচিত। এর পরই রাষ্ট্রপতি ভবন ঘুরে দেখতে নিয়মিতভাবে লোকজন আসতে শুরু করেন। একইসঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারের জন্য এর ভেতরকার গ্রন্থাগার ও সংরক্ষণাগারগুলি খুলে দেওয়া হয়। প্রণবদার এই কর্মকাণ্ডগুলিকে আগামীদিন একইরকমভাবে সুরক্ষিত রাখা উচিত।’‌

তিনি আরও বলেন, ‘‌রাজনীতি, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক বিষয়গুলির ব্যাপারে পণ্ডিত ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। তাঁর জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং প্রজ্ঞা সমস্ত রাজনৈতিক দলেই সমানভাবে প্রশংসিত হত। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে প্রভেদ থাকলেও তাদের মধ্যে একটি মিল খুঁজে পেতে এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ করার অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল প্রণবদার মধ্যে।’‌

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রথম এবং শেষ প্রেম ছিল সংসদ, এমনই জানালেন রাজামনি। তিনি জানান, ‌সংসদে থাকার সময়ই প্রণবদাকে সবচেয়ে খুশি দেখাত। তিনি নিজে মনে করতেন, তাঁকে গড়ে তোলার পিছেন মূল অবদান রয়েছে এই সংসদেরই। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর অক্লান্তভাবে টিভি–তে হওয়া সংসদীয় বিতর্ক দেখতেন তিনি। তখন প্রণবদা বেশ আবেগপ্রবণ হয়েই বলতেন, ‘‌সংসদ ভবনের কথা খুবই মনে পড়ে। খুব ইচ্ছে করে ওখানে যেতে, খুব ইচ্ছে করে ওই বিতর্ক সভায় অংশ নিতে।’‌

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভেনু রাজামনি। ছবি সৌজন্য : টুইটার
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভেনু রাজামনি। ছবি সৌজন্য : টুইটার

ভেনু রাজামনি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের দুর্দান্ত মনে রাখার ক্ষমতার ব্যাপারে বলতে গিয়ে বলেন, ‘‌প্রতিটি ঘটনা, তারিখ, সংখ্যা, তথ্য মনে থাকত তাঁর। তিনি ছিলেন চলমান এনসাইক্লোপিডিয়া। উর্ধ্বতন কর্তারাও তাঁকে ব্রিফ করার সময় ভয়ে ভয়ে থাকতেন, কারণ তিনি তাঁদের চেয়ে সবসময়ই বেশি ওয়াকিবহাল ছিলেন। স্বাধীনতার পরে সংসদে উপস্থাপিত প্রথম বাজেটের প্রতিটি পরিসংখ্যান প্রণবদার ঠোটস্থ ছিল।’‌

বলা বাহুল্য, এত বছরের রাজনৈতিক জীবনে প্রণববাবু কংগ্রেসের অভ্যন্তরের অসংখ্য গোপনীয় তথ্য জেনেছেন এবং নিজের চোখে দেখেছেনও। রাজামনি বলেন, ‘‌প্রণবদা মনে করতেন, তাঁর সঙ্গেই সে সব তথ্য বা ঘটনার একদিন মৃত্যু হবে। কাকপক্ষীতেও জানতে পারবে না। এমনকী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন, যদি কেউ প্রণবদার মুখ থেকে গোপন কথাগুলি শোনার চেষ্টা করে, তবে শুধুই হাওয়া বেরোবে, কোনও কথা নয়।’‌ নেদারল্যান্ডসে ভারতের রাষ্ট্রদূত ভেনু রাজামনি জানান, প্রণবদা সারাজীবন অসংখ্য ডায়েরি লিখেছেন, তাতে অনেক অজানা তথ্য রয়েছে, তবে সে সব ডায়েরি কখনও প্রকাশ্যে আনার পক্ষপাতী ছিলেন না তিনি।

বন্ধ করুন