বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ২০১৭ সালের ‘ক্ষত’ ঘুচিয়ে শেষপর্যন্ত কংগ্রেসেই যোগ PK-র? পাবেন বড় পদ?
প্রশান্ত কিশোর। (ফাইল ছবি, সৌজন্য সন্তোষ কুমার/হিন্দুস্তান টাইমস)
প্রশান্ত কিশোর। (ফাইল ছবি, সৌজন্য সন্তোষ কুমার/হিন্দুস্তান টাইমস)

২০১৭ সালের ‘ক্ষত’ ঘুচিয়ে শেষপর্যন্ত কংগ্রেসেই যোগ PK-র? পাবেন বড় পদ?

  • সূত্রের খবর, গত ২২ জুলাই একটি বৈঠকে ভোটকুশলীকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যে বৈঠকে হাজির ছিলেন খোদ রাহুল গান্ধী।

তাহলে কি কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন প্রশান্ত কিশোর? সেই জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে খোদ পিকে বা আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেস কিছু না জানালেও শতাব্দীপ্রাচীন দলের অন্দরের খবর, সম্প্রতি একটি বৈঠকে ভোটকুশলীকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যে বৈঠকে হাজির ছিলেন খোদ রাহুল গান্ধী।

কংগ্রেসের অন্দরের তিন নেতার দাবি, গত ২২ জুলাই সেই বৈঠক হয়েছিল। তাতে হাজির ছিলেন কমল নাথ, মল্লিকার্জুন খাড়গে, অম্বিকা সোনি, কেসি ভেনুগোপাল, একে অ্যান্টনি-সহ কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটির প্রথমসারির নেতারা। সেই বৈঠকে প্রশান্তকে কী দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নাম গোপন রাখার শর্তে ওই নেতারা জানিয়েছেন, কংগ্রেসের বর্তমান যে কাঠামো আছে, তাতেই কোনও শীর্ষপদ দেওয়া হবে নাকি পিকের জন্য নয়া কোনও পদ তৈরি করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কংগ্রেসের অন্দরে।

গত ১৫ জুলাই ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ জানিয়েছিল যে গান্ধী পরিরাবের কাছে কংগ্রেসের সংগঠনের খোলনলচে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন পিকে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে শতাব্দীপ্রাচীন দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সংসদীয় বোর্ড তৈরি, নয়া পদ বানানো-সহ প্রতিটি জেলায় কংগ্রেসের কাজ করার ধরনেও আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব পেশ করেছেন।  এক কংগ্রেস নেতা বলেছেন, ‘কৌশলগত দিক থেকে প্রশান্ত দেওয়া প্রস্তাব যে গ্রহণের ইচ্ছা আছে, তা ইতিমধ্যে ফুটে উঠেছে। আলোচনার সময়ও ঐক্যমতে পৌঁছানো গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আশাবাদী, কারণ প্রশান্ত নিজেই বলেছেন যে কংগ্রেসকে ছাড়া বিজেপিকে হারানো সম্ভব নয়। তাছাড়াও উনি আমাদের কাছে প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন।’

গত মাসে পিকে দাবি করেছিলেন, কোনও তৃতীয় বা চতুর্থ ফ্রন্ট নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপিকে হারাতে পারবে না।অর্থাৎ ঘুরিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে সব বিজেপি-বিরোধী শক্তিকে একসঙ্গে আসতে হবে। তাতে থাকবে কংগ্রেসও। বিশেষত ২০১৭ সালের উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় যে পিকের সঙ্গে কংগ্রেসের যথেষ্ট দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, সেই তিনিই ঘুরিয়ে ক্ষয়িষ্ণু কংগ্রেসের গুরুত্বে সিলমোহর দেওয়ায় হাত শিবিরের অন্দরেও ইতিবাচক বার্তা গিয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

যদিও ২২ জুলাইয়ের সেই বৈঠক নিয়ে কংগ্রেসের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে অ্যান্টনির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বাকি নেতাদেরও পাওয়া যায়নি। ভেনুগোপাল বলেছেন, 'এটা একেবারেই ঘরোয়া বৈঠক ছিল। যেখানে আমরা ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি।' অন্যদিকে পিকের দাবি, ‘এই বৈঠকের বিষয়ে কোনও ধারণাই ছিল না’ তাঁর। যিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় জয়ের পর ভোটকুশলীর কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন।

বন্ধ করুন