শুক্রবার সংসদে বাজেট  অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের ভাষণ।
শুক্রবার সংসদে বাজেট অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের ভাষণ।

বাজেট অধিবেশনে CAA ব্যাখ্যার সঙ্গেই পাকিস্তানকে তোপ রাষ্ট্রপতির

  • আমরা সকলে জানি, পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের উপরে বছরের পর বছর ধরে নির্যাতন চলেছে। পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের উপরে চলা নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।উত্তর-পূর্ববাসীর সংস্কৃতি যাতে সিএএ প্রভাবমুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করতে তত্পর সরকার।

মহাত্মা গান্ধীর প্রতিশ্রুতি কার্যকর করতে জরুরি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন। বাজেট অধিবেশনের প্রারম্ভিক ভাষণে সংসদে এমনই বার্তা দিলেন রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ।

শুক্রবার তাঁর ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশভাগের পরে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন যে, সমস্ত হিন্দু ও শিখরা পাকিস্তানে থাকতে চান না, তাঁরা ভারতে আসতে পারেন। তাঁদের স্বাভাবিক জীবন দেওয়া ভারত সরকারের কর্তব্য। সংসদের উভয় কক্ষ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাশ করেছে বলে আমি আনন্দিত।’

রাষ্ট্রপতির এই বার্তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ লোকসভার ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যরা।


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা সকলে জানি, পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের উপরে বছরের পর বছর ধরে নির্যাতন চলেছে। সাম্প্রতিক নমুনা হল নানকানা সাহিবের ঘটনা। আমাদের কর্তব্য, সারা পৃথিবীকে জানানো পাকিস্তানে কী ঘটছে। পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের উপরে চলা নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘উত্তর-পূর্ববাসীর সংস্কৃতি যাতে সিএএ প্রভাবমুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করতে তত্পর সরকার।’

রাষ্ট্রপতির ভাষণে বার বার ডেস্কে চাপড় মেরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও শাসকদলের সাংসদরা সমর্থন জানালেও প্রতিবাদ আসে বিরোধীদের তরফ থেকে। কোবিন্দের ভাষণের মাঝে স্লোগান দিতে দেখা যায় একাধিক বিরোধী সাংসদকে।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও জৈন সম্প্রদায়ভুক্তদের দ্রুত ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও এই প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এই সমস্ত দেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া মুসলিমদের। আইনের এই ব্যতিক্রমের প্রতিবাদে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে কেন্দ্র বিরোধী প্রতিবাদের ঝড়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ধর্মবিশ্বাসের ভিত্তিতে দেশে বৈষম্য ও বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। যদিও সেই দাবি অস্বীকার করেছে কেন্দ্র।

পাশাপাশি, সিএএ কেন্দ্র করে বিক্ষোভের আঁচ সবচেয়ে জোরালো হয়েছে ইনারলাইন পারমিটের আওতাভুক্ত উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে। অসম, ত্রিপুরা-সহ এই অঞ্চলের রাজ্যবাসীরা এই আইন প্রয়োগের জেরে তাঁদের সাংস্কৃতিক পরিচিতি বিপন্ন হবে বলে দাবি করেছেন।

আগামিকাল, শনিবার পেশ হতে চলেছে কেন্দ্রীয় বাজেট। এ দিন বাজেট অধিবেশনের প্রথম দফা শুরু হয়েছে, যা চলবে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। অধিবেশনের দ্বিতীয় দফার শুরু ২ মার্চ, চলবে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত।

বন্ধ করুন