বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র দিতে জার্মানির উপর চাপ বাড়ছে
জার্মান চ্যান্সেলর শলৎস। ছবি ডয়চে ভেলে

ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র দিতে জার্মানির উপর চাপ বাড়ছে

  • শলৎসের কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্ত্বেও পুটিনের সদিচ্ছার উপর ইউক্রেন মোটেই নির্ভর করছে না৷ বরং আরও সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে রাশিয়ার সম্ভাব্য পালটা হামলা প্রতিহত করতে চায় সে দেশ৷

জার্মান চ্যান্সেলর শলৎসকে ইউক্রেনের জন্য আরও সামরিক সহায়তার ডাক দিচ্ছে একাধিক সূত্র৷ এরই মাঝে শলৎস টেলিফোনে রুশ প্রেসিডেন্ট পুটিনের কাছে ইউক্রেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানালেন৷ ইউক্রেন সংকটের শুরু থেকেই জার্মানির ভূমিকা নিয়ে দেশে-বিদেশে ক্ষোভের শেষ নেই৷ যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র সরবরাহের প্রশ্নে ঐতিহাসিক দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে রাশিয়ার হামলার মুখে নীতিগতভাবে ইউক্রেনকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে রাজি হলেও বাস্তবে জার্মানির ভূমিকা নিয়ে হতাশা রয়ে গিয়েছে৷ চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস ইউক্রেনকে কিছু সামরিক সরঞ্জাম দিতে রাজি হলেও সেগুলি প্রস্তুত করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাতে অনেক সময় লাগছে৷

অন্যান্য অস্ত্র ও সরঞ্জামের প্রশ্নে সরকার মনস্থির করে উঠতে পারছে না৷ বর্তমানে রুশ হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযানে ইউক্রেনের চমকপ্রদ সাফল্য সত্ত্বেও জার্মান সরকার ট্যাংকসহ অন্যান্য সরঞ্জাম পাঠাতে চাইছে না৷ ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রি কুলেবা মঙ্গলবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বার্লিন ‘দুর্বোধ্য' ভয় ও অজুহাত দেখিয়ে ইউক্রেনের ডাক উপেক্ষা করছে৷ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদোমির জেলেনস্কিও পশ্চিমা সহযোগীদের উদ্দেশ্যে আরও সামরিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন৷

জার্মানির মধ্যেও শলৎস সরকারের উপর ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র সরবরাহের জন্য চাপ বাড়ছে৷ বিরোধী দল তো বটেই, সরকারের শরিক দলগুলির কয়েকজন নেতাও প্রকাশ্যে এমন দাবি জানাচ্ছেন৷ বিশেষ করে উদারপন্থি এফডিপি ও সবুজ দল আরও সাহসি পদক্ষেপ করার জন্য চাপ দিচ্ছে৷ শলৎসের এসপিডি দলই দ্বিধা ঝেড়ে ফেলতে পারছে না৷ এ ক্ষেত্রে কোণঠাসা সরকার ‘একলা চলো রে' নীতির বদলে সহযোগী দেশেগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের উপরে জোর দিচ্ছে৷ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন অবশ্য সোমবার জার্মানি-সহ অন্যান্য পশ্চিমা সহযোগীদের ইউক্রেনকে যতটা সম্ভব সামরিক সহায়তা দিতে উৎসাহ দিয়েছেন৷ বার্লিনে মার্কিন দূতাবাসও এক বিবৃতিতে একই অবস্থান তুলে ধরেছে৷ ফলে শলৎস নিজেক দ্বিধার কারণে আরও বিপাকে পড়ছেন৷

এমনই প্রেক্ষাপটে জার্মান চ্যান্সেলর শলৎস মঙ্গলবার টেলিফোনে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনের সঙ্গে কথা বলেছেন৷ মে মাসের পর আবার এমন সংলাপে শলৎস বর্তমান সংকটের কূটনৈতিক সমাধানসূত্রের উপর জোর দেন৷ তবে তার আগে রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছেড়ে চলে যেতে হবে এবং সে দেশের সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে হবে৷

শলৎসের কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্ত্বেও পুটিনের সদিচ্ছার উপর ইউক্রেন মোটেই নির্ভর করছে না৷ বরং আরও সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে রাশিয়ার সম্ভাব্য পালটা হামলা প্রতিহত করতে চায় সে দেশ৷ এ ক্ষেত্রে আকাশসীমা সুরক্ষায় আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রণালী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে৷ জার্মানি ‘আইরিস টি' নামের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটি দ্রুত হাতে পেতে চাইছে জেলেনস্কির সরকার৷ ট্যাংক সরবরাহের ক্ষেত্রেও ছয় মাস ধরে অপেক্ষা করে ইউক্রেনে জার্মানির প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে৷ জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইলো পোডোলইয়াক এক টুইট বার্তায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, বার্লিনে ‘রাজনৈতিক' সিদ্ধান্তের অভাবে এমন বিলম্ব ঘটছে৷ ফলে রাশিয়া তার ‘সন্ত্রাস' চালিয়ে যেতে পারছে এবং ইউক্রেনের মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন৷

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনটি ডয়চে ভেলে থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবেদনই তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার কোনও প্রতিনিধি এই প্রতিবেদন লেখেননি।)

বন্ধ করুন