বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার মতোই গুরুত্বপূর্ণ, বেসরকারি ক্ষেত্র নিয়ে কুকথা না-পসন্দ মোদীর
লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। (ছবি সৌজন্য এএনআই)
লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। (ছবি সৌজন্য এএনআই)

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার মতোই গুরুত্বপূর্ণ, বেসরকারি ক্ষেত্র নিয়ে কুকথা না-পসন্দ মোদীর

  • ‘আমাদের কৃষিশিল্প, আমাদের টিকা প্রস্তুতকারক - তারা কি সব সরকারি নাকি?

বারবার নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে কয়েকজন পুঁজিপতি ‘বন্ধু’-র স্বার্থ রক্ষার অভিযোগ উঠেছে। কৃষি আইন থেকে রাষ্ট্রয়ত্ত সংস্থার বিলগ্নিকরণ - সবক্ষেত্রেই বিরোধীদের অভিযোগ, কয়েকজন পুঁজিপতিকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই আমজনতার পরোয়া করা হচ্ছে না। সেই অস্ত্র ঘায়েল করতে মঙ্গলবার নিজেই আসরে নামলেন প্রধানমন্ত্রী। স্পষ্টত ভাষায় জানালেন, দেশের উন্নয়নে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই বেসরকারি সংস্থাগুলির ভূমিকা কোনওমতেই অস্বীকার করা যাবে না।

লোকসভায় রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের ভাষণের উপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবে কৃষি আইন এবং কৃষক বিক্ষোভের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন মোদী। যে আইন নিয়ে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, বাম-সহ বিরোধীদের অভিযোগ, নিজের ‘বন্ধু’-দের জন্যই কৃষি আইন নিয়ে এসেছে মোদী সরকার। বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারিকরণ করছে। সেই অভিযোগ দেশের জনমানসের একাংশেও প্রভাব ফেলেছে। সরাসরি সেই অভিযোগের জবাব না দিলেও মোদী বুঝিয়ে দেন, দেশের স্বার্থেই বেসরকারি ক্ষেত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আমি কংগ্রেসের সতীর্থদের মনে করিয়ে দিতে চাই, দেশের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে বেসরকারি ক্ষেত্রের ভূমিকাও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।’ মোবাইলে বেসরকারি শিল্পপতিদের লগ্নি, বেসরকারি সংস্থার হাত ধরে করোনাভাইরাস টিকা উৎপাদনের মতো বিষয়গুলি তুলে ধরে মোদী বলেন, ‘আমাদের কৃষিশিল্প, আমাদের টিকা প্রস্তুতকারক - তারা কি সব সরকারি নাকি? আজ ভারত যে মানবতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তাতে বেসরকারি ক্ষেত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

বিরোধীদের আক্রমণ ভোঁতা করতে দেশের যুবপ্রজন্মের দক্ষতার পক্ষেও সওয়াল করেন। বলেন, 'আমাদের দেশের যুবপ্রজন্মের উপর ভরসা রাখতে হবে। এভাবে তাদের দোষারোপ করতে থাকব, তাঁদের প্রত্যাখ্যান করে দেব, কোনওরকম বেসরকারি ক্ষেত্রকে খারিজ করে (নাকি)। আগে হয়ত কোনও জামানা ছিল, যখন কোনও সরকার সেই কাজ করত। করেছে হয়ত। কিন্তু আজ পৃথিবী পালটে গিয়েছে। সমাজ শক্তিশালী হয়েছে। দেশের মধ্যে সামর্থ্য আছে।' সেইসঙ্গে যোগ করেন, 'ওদের সুযোগ পাওয়া উচিত। তাদের বেইমান বলা, কুকথা প্রয়োগ করা - কোনও জমানায় ভোট পাওয়ার জন্য সেই সংস্কৃতি হয়তো কাজে এসেছে, কিন্তু আজ তা কাজে দেবে না। দয়া করে এরকম করবেন না। দেশের জন্য সম্পদ যাঁরা তৈরি করেন, তাঁরা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবেই তো গরিবদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন করা হবে। নাহলে সম্পদ দেওয়া হবে কীভাবে? তাঁদের চাকরি রোজগার দেওয়া হবে কীভাবে? সবকিছু কি বাবুরাই করবেন? আইএএস হয়ে গিয়েছেন মানেই সারের কারখনা চালাবেন, আইএএস হয়ে গিয়েছেন মানে রাসায়নিকের কারখানা চালাবেন, আইএএস হয়ে গিয়েছেন মানে উড়োজাহাজ ওড়াবেন? এটা কোন ধরনের শক্তির আখড়া করে রেখেছি আমরা? বাবুদের হাতে দেশ তুলে দিয়ে আমরা কী করব? আমাদের বাবুরাও তো দেশের, যুবপ্রজন্মও তো আমাদের দেশের। আমার মনে হয়, আমাদের যুবপ্রজন্মের সুযোগ পাওয়া উচিত।

বন্ধ করুন