বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > সংরক্ষণ নয়, দক্ষতাই হবে চাকরিতে সুযোগ পাওয়ার মানদণ্ড, রায় সুপ্রিম কোর্টের
শুধুমাত্র সংরক্ষণের কারণে যোগ্য প্রার্থীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সুযোগ পাওয়ায় কখনও বাধা হতে পারে না। শুক্রবার এই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
শুধুমাত্র সংরক্ষণের কারণে যোগ্য প্রার্থীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সুযোগ পাওয়ায় কখনও বাধা হতে পারে না। শুক্রবার এই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

সংরক্ষণ নয়, দক্ষতাই হবে চাকরিতে সুযোগ পাওয়ার মানদণ্ড, রায় সুপ্রিম কোর্টের

  • যে কোনও ক্ষেত্রেই সংরক্ষণ সরকারি চাকরিতে সামগ্রিক প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করে। কিন্তু কোনও প্রার্থীর যোগ্যতামান যেন তাতে বিঘ্নিত না হয়।

সাম্প্রদায়িক সংরক্ষণের বিরুদ্ধে রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার এক মামলার রায়ে আদালত জানিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র সংরক্ষণের কারণে যোগ্য প্রার্থীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সুযোগ পাওয়ায় কখনও বাধা হতে পারে না।

বিচারপতি উদয় ললিতের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, সংরক্ষণ নীতির কথা মাথায় রেখেও আসন সংরক্ষণের সময় দক্ষ রার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। আদালতের মতে, সাধারণ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা শুধুমাত্র যোগ্যতার নিরিখেই প্রমাণিত হতে পারে।

বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভাট তাঁর রায়ে লেখেন, ‘যে কোনও ক্ষেত্রেই সংরক্ষণ সরকারি চাকরিতে সামগ্রিক প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করে। কিন্তু এই নীতি কখনই অনড় হিসেবে দেখা উচিত হবে না। বিশেষ করে দেখা দরকার, সাধারণ ক্ষেত্রে কোনও প্রার্থীর যোগ্যতামান যেন তাতে বিঘ্নিত না হয়।’

বিচারপতি ভাট আরও লিখেছেন, ‘এমন অচলাবস্থা বজায় থাকলে তা শেষ পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সংরক্ষণে পর্যবসিত হবে, যার জেরে প্রতিটি সামাজিক ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতার মানদণ্ড বিবেচনার বিষয়টি আবদ্ধ হয়ে পড়বে। অসংরক্ষিত ক্ষেত্রে সকলের জন্য উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা থাকে এবং সেখানে একমাত্র মানদণ্ড হয় প্রার্থীর যোগ্যতা।’

শীর্ষ আদালতের এই রায়ের উৎস উত্তর প্রদেশে মহিলা পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে স্বাধীনতা সংগ্রামী, প্রাক্তন সেনাকর্মীর মতো বিশেষ শ্রেণির প্রার্থীদের অগ্রাধিকার হয়েছে। রাজ্য সরকারের নীতি অনুযায়ী পুরুষ কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ শ্রেণিতে কিন্তু পাশ নম্বরের চেয়ে বেশি নম্বর অর্জনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অথচ মহিলা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি।

এর আগেও সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ে বলা হয়েছে, তফশিলি জাতি ও উপজাতি এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণির সংরক্ষিত প্রার্থীরা যোগ্যতার মানের ভিত্তিতে সাধারণ শ্রেণিতে প্রতিযোগিতা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তাঁর ছেড়ে যাওএয়া সংরক্ষিত আসনে অন্য কোনও প্রার্থী সুযোগ পেতে পারেন। কিন্তু স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পরিবার ও প্রাক্তন সেনাকর্মীদের শ্রেণিতে আসন শূন্য থাকলেও কোনও এসসি, এসটি বা ওবিসি প্রার্থী অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না। এই রীতিকে শুক্রবার কার্যত খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট।

বিচারপতি ললিতও তাঁর রায়ে লেখেন, শুন্যপদ পূর্ণ করতে কোনও ভাবেই যোগ্য প্রার্থীর বদলে সংরক্ষিত শ্রেণির অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ করা যাবে না।

সাংবিধানিক নীতি ও সদর্থক পদক্ষেপের ভিত্তিতে এ দিন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানায়, এমন অবস্থা চলতে থাকলে সংরক্ষিত প্রার্থীকে বহাল করতে গিয়ে সাধারণ শ্রেণির যোগ্য প্রার্থীর প্রতি অবিচার করা হবে। 

বর্তমান মামলাটির ক্ষেত্রেও শীর্ষ আদালত ২১ জন মহিলা প্রার্থীর স্বপক্ষেই রায় দিয়েছে, যাঁরা সংরক্ষণ তালিকার অন্তর্ভুক্ত প্রার্থীদের তুলনায় চাকরির পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেয়েছেন।

 

বন্ধ করুন