ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

সংরক্ষণ মৌলিক অধিকার নয়, সুপ্রিম রায়ে অখুশি রাজনীতিবিদরা

সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে রাজনীতিবিদরা।

সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ মৌলিক অধিকার নয়, বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার কোর্ট বলে যে রাজ্যদের জোর করে সংরক্ষণ দিতে তারা বাধ্য করতে পারে না। যতক্ষণ তথ্য না আসে যে কোনও বিশেষ গোষ্ঠী সুযোগ পাচ্ছে না, সংরক্ষণের কোনও নিয়ম জোর করে করা যাবে না. জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রাজনীতিবিদরা। রাহুল গান্ধী বলেছেন যে বিজেপি ও আরএসএস যতই চান, কোনও ভাবে সংরক্ষণ আটকানো যাবে না।

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ যে বিজেপি ও আরএসএসের আদর্শ সংরক্ষণ বিরোধী। ওরা চায় না যে তফসিলি জাতিরা এগিয়ে যাক, বলে অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ। বিজেপির সঙ্গী দল জেডিইউ ও এলজেপিও কেন্দ্রকে এই রায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেছে। অর্ডিন্যান্স আনার দাবি করেছে নীতিশের দল।

উত্তরাখণ্ড সরকারের পূর্ত দফতরে অ্যাসিসটেন্ট ইঞ্জিনিয়ারদের প্রোমোশনে তফসিলি জাতি-উপজাতিদের জন্য সংরক্ষণের দাবিতে মামলায় এই রায় দিয়েছে আদালত। সংরক্ষণ মৌলক অধিকার নয়, বলে জানান নাগেশ্বর রাও ও হেমন্ত গুপ্তা।

২০১২ সালের উত্তরাখাণ্ড হাই কোর্টের রায়কে বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সেই সময় উকিলরা বলেছিলেন সংবিধানের ১৬(৪) ও (১৬-৪-এ) ধারা অনুযায়ী তফসিলি জাতি-উপজাতিকে সাহায্য করতে রাজ্যরা বদ্ধপরিকর। শীর্ষ আদালত বলে যে রাজ্যরা যদি মনে করে কোনও বিশেষ জাতি-উপজাতি থেকে যথেষ্ট লোক নেই, তাহলেই শুধু সংরক্ষণের ব্যবস্থা করবে তারা। চাকরি বা প্রোমাশন, কোনও ক্ষেত্রেই রাজ্যকে নির্দেশ দেওয়া যাবে না, বলে জানায় সুপ্রিম কোর্ট।

বিজেপির সহযোগী দল এলজেপির নেতা চিরাগ পাসওয়ান জানিয়েছেন যে এই সিদ্ধান্ত সংরক্ষণের কনসেপ্ট বিরোধী। ভারত সরকারকে সংবিধান অনুসারে সংরক্ষণ দিতে তিনি অনুরোধ করেছেন। কংগ্রেস নেতা মুকুল ওয়াসনিক জানিয়েছেন যে তারা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে সম্মত না। বিজেপির আমলে তফসিলি জাতি-উপজাতিদের অধিকার খর্ব হচ্ছে বলে কংগ্রেস নেতার অভিযোগ। একই সঙ্গে তিনি বলেন যে সরকারের বদান্যতায় নয়, সংবিধানের মৌলক অধিকার হিসাবে সংরক্ষণ দেওয়া উচিত।

এই বিষয় নিয়ে সংসদেও হই-হট্টগোল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এখনও পর্যন্ত মোদী সরকার এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।


বন্ধ করুন