সংসদে বাজেট অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে এলেন ওয়ানাডের কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। শুক্রবার। ছবি সৌজন্যে এএনআই।
সংসদে বাজেট অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে এলেন ওয়ানাডের কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। শুক্রবার। ছবি সৌজন্যে এএনআই।

জামিয়ার বন্দুকবাজকে কে টাকা দিয়েছিল, জানতে চান রাহুল

সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সংসদ ভবনের বাইরে সিএএ, এনআরসি ও এনপিআর-এর বিরুদ্ধে গান্ধী মূর্তির সামনে প্রতিবাদ অবস্থানে শামিল হন কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে রাহুল-সহ দলের সাংসদরা।

জামিয়ার বন্দুকবাজকে কে ভাড়া করেছিল? তাকে কে টাকা দিয়েছিল? হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পড়ুয়া রক্তাক্ত হওয়ার জেরে প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে বৃহস্পতিবার এক বছর সতেরোর তরুণের গুলি চালানোর ঘটনায় এ দিন সংসদের বাইরে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দেন ওয়ানাডের কংগ্রেস সাংসদ।

এর আগে ঘটনার দিনই তিনি মহাত্মা গান্ধীর বাণী টুইট করে লেখেন, ‘হিংসায় বিশ্বাসী নই বলে আমি তোমাদের তা শেখাতে পারব না। আমি শুধু তোমাদের শেখাতে পারি, নিজের জীবনের বিনিময়েও কারও সামনে মাথা নত না করতে।’

এ দিন সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সংসদ ভবনের বাইরে সিএএ, এনআরসি ও এনপিআর-এর বিরুদ্ধে গান্ধী মূর্তির সামনে প্রতিবাদ অবস্থানে শামিল হন কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে রাহুল-সহ দলের সাংসদরা।

আরও পড়ুন'গডসের মতো প্রকৃত দেশপ্রেমী' জামিয়ার বন্দুকবাজ, তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে- হিন্দু মহাসভা


অন্য দিকে, জামিয়াকাণ্ডের জেরে টুইটারে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করে অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন সংগঠনের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি মন্তব্য করেন, 'বন্দুকবাজের পোশাক দেখে তাকে চিহ্নিত করুন। পোশাক দেখেই কারা হিংসা ছড়াচ্ছে তা সহজে বোঝা যায়।'

জামিয়াকাণ্ডের জেরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘অপরাধীকে রেহাই দেওয়া হবে না।’

এ দিন পুলিশ জানিয়েছে, জামিয়ার বন্দুকবাজ উত্তর প্রদেশের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রের বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টা-সহ ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শিএএ, এনআরসি ও এনপিআর-এর বিরুদ্ধে ডিসেম্বর মাস থেকে দেশজুড়ে আন্দোলনে নেমেছেন পড়ুয়ারা। তাঁদের সমর্থনে পথে নেমেছেন অসংখ্য দেশবাসী।

এই প্রথম দেশের কোনও আইন ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া চালু করতে চলেছে। প্রশাসন সাফ বার্তা দিয়েছে, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আগত সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও জৈনদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তালিকায় মুসলিমরা না থাকায় সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ এনেছেন সমালোচকরা। তাঁদের মতে, এর জেরে আক্রান্ত হচ্ছে সংবিধান প্রদত্ত দেশের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি।

বন্ধ করুন