রেলের বিশেষ ট্রেনে বাড়ি আসছেন যাত্রীরা
রেলের বিশেষ ট্রেনে বাড়ি আসছেন যাত্রীরা

নামেই 'শ্রমিক স্পেশ্যাল', পরিযায়ীদের বাড়ি ফেরানোর জন্য টিকিটের দাম নেবে রেলওয়ে!

চাইলে রাজ্য সরকার এই টাকা দিয়ে দিতে পারে, বলে জানিয়েছে রেল

পয়লা মে, শ্রম দিবস থেকে বিশেষ ট্রেনে পরিযায়ী শ্রমিক, ছাত্র, ট্যুরিস্ট, যারা লকডাউনে আটকে পড়েছেন, তাদের বাড়ি ফেরার পথ প্রশস্ত করতে বিশেষ ট্রেন চালাবে ভারতীয় রেলওয়ে। কিন্তু এখন জানা গিয়েছে, বিনা পয়সায় নয়, রীতিমত টিকিট কেটে ফিরতে হবে পরিযায়ী শ্রমিকদের।

প্রশ্ন হচ্ছে, অধিকাংশ পরিযায়ী শ্রমিক লকডাউনের সময় কোনও কাজ না করে আটকে ছিলেন। তাদের কাছে কি বাড়ি যাওয়ার মতো পয়সা আছে। রেলওয়ে জানিয়েছে যে রাজ্যগুলি শ্রমিকদের টিকিটের ভাড়া দিয়ে দিতে পারে।

স্লিপার ক্লাসের টিকিটের ভাড়া নেওয়া হবে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের। এর সঙ্গে সুপারফাস্ট চার্জ ৩০ টাকা ও অতিরিক্ত ২০ টাকা দিতে হবে এক বার খাওয়া ও জলের জন্য। তবে এমনি রেল পরিষেবা ১৭ মে অবধি বন্ধ থাকবে বলে রেলওয়ে জানিয়েছে।

তবে বিশেষ ট্রেনের জন্য একাধিক শর্ত মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের আর্জিতে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট 'শ্রমিক স্পেশ্যাল' ট্রেন চালানো হচ্ছে। অর্থাৎ যাত্রা শুরুর পর গন্তব্য স্টেশনে গিয়ে থামবে সেই ট্রেন। সুষ্ঠু পরিষেবার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য রেলের তরফে একজন নোডাল অফিসারও নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

একইসঙ্গে ওই ট্রেনের যাত্রীদের একাধিকবার পরীক্ষা করা হবে। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, যে স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়বে, সেই স্টেশন পর্যন্ত শ্রমিকদের স্যানিটাইজ করা বাসে আনার দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের। সামাজিক দূরত্ব ও অন্যান্য সতর্কতামূলক ব্য়বস্থা অবলম্বন করতে হবে। যাত্রীদের ক্ষেত্রে মুখোশ পরা বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। স্টেশনে আসার পর যাত্রীদের এক দফা স্ক্রিনিং হবে। শুধুমাত্র উপসর্গহীন যাত্রীদের ট্রেনে ওঠার অনুমতি দেওয়া হবে।

ট্রেনেও সামাজিক দূরত্বের বিধি চলতে হবে। তারপর গন্তব্য স্টেশনে পৌঁছানোর পর আরও এক দফা স্ক্রিনিংয়ের বন্দোবস্ত করবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য। প্রয়োজনে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। যাঁরা স্ক্রিনিংয়ে উতরে যাবেন, তাঁদের বাড়ি ফেরার জন্য রাজ্যকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, যাত্রীদের খাবার দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে রাজ্যের উপর। অর্থাৎ যে রাজ্য থেকে ট্রেন ছাড়বে তারা যাত্রীদের খাবার ও জল দেবে। তবে দূরের যাত্রার জন্য যাত্রীদের খাবারের বন্দোবস্ত করবে রেল। পাশাপাশি, সামাজিক দূরত্ব ও অন্যান্য সতর্কতামূলক ব্য়বস্থার জন্য রেলের তরফে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।এছাড়া, শুক্রবার শ্রমিক স্পেশ্যাল মোট ছ'টি ট্রেন ছাড়ার কথা। একটি লিঙ্গামপল্লী থেকে হাতিয়া পর্যন্ত। বাকিগুলি হল - আলুভা (কেরালা) থেকে ভুবনেশ্বর (ওড়িশা), নাসিক (মহারাষ্ট্র) থেকে লখনউ (উত্তরপ্রদেশ), নাসিক (মহারাষ্ট্র) থেকে ভোপাল (মধ্যপ্রদেশ), জয়পুর (রাজস্থান) থেকে পাটনা (বিহার) এবং কোটা (রাজস্থান) থেকে হাতিয়া (ঝাড়খণ্ড)।

বন্ধ করুন