বাড়ি > ঘরে বাইরে > চিনকে বার্তা? লাদাখে শহিদ ভারতীয় সেনার তিব্বতি জওয়ানের শেষকৃত্যে হাজির রাম মাধব
অশ্রুজলে বিদায় বীর সেনাকে  (PTI)
অশ্রুজলে বিদায় বীর সেনাকে  (PTI)

চিনকে বার্তা? লাদাখে শহিদ ভারতীয় সেনার তিব্বতি জওয়ানের শেষকৃত্যে হাজির রাম মাধব

  • এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লাদাখের বিজেপি সাংসদ

শয়ে শয়ে মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন ভারত ও তিব্বতি পতাকা নিয়ে। বৌদ্ধিক মন্ত্রচারণার মধ্যে দিয়েই শেষ শ্রদ্ধা শহিদ নিমা তেনজিনকে। সেখানে বিজেপির শীর্ষ সারির নেতা রাম মাধবের উপস্থিতি নিয়ে  সকাল থেকেই চাঞ্চল্য ছড়াল সোশ্যাল মিডিয়ায়। এটা কি চিনকে বার্তা দেওয়ার আরেক কৌশল, সেই নিয়ে চলল জল্পনা। এছাড়াও  ছিলেন বিজেপির লাদাখ সাংসদ জামিয়াং নামগিয়াল। 

আর্মির স্পেশাল ফোর্স ফ্রনটিয়ার নিয়ে কোনও দিন ভারত তেমন সোচ্চার হয় নি। কিন্তু প্যাংগং সো লেকের দক্ষিণ অঞ্চলে চিনা শক্তির আগ্রাসন রুখতে বড় ভূমিকা নিয়েছে এই এসএফএফ। ২৯-৩০ অগস্টের এই অপারেশনেই শহিদ হয়েছেন নিমা তেনজিন। এদিন লে-তে হল তাঁর অন্ত্যেষ্টি। 

শেষযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন শয়ে শয়ে মানুষ, ভারতীয় ও তিব্বতের পতাকা হাতে। তেরঙ্গা ও তিব্বতি পতাকায় মোড়া তেনজিনের কফিন এল সেনার ট্রাকে। তাঁর স্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয় সেই পতাকা। বিশেষজ্ঞরা বলেন এই বোধহয় প্রথমবার কোনও এসএফএফ জওয়ানের মৃত্যুতে জনসমক্ষে অন্ত্যেষ্টি করা হয়েছে, যেখানে তাঁকে সম্পূর্ণ সেনার সম্মানে অশ্রুমাখা বিদায় জানানো হয়। তেনজিনের শ্রদ্ধায় শূন্যে গুলিও ছোঁড়েন জওয়ানরা। 

তেনজিনের কফিনকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। 
তেনজিনের কফিনকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ানরা।  (REUTERS)

বিজেপি জাতীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব শেষকৃত্যের ছবিও দেন ও তেনজিনকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। তিনি আশা করেন যে তিব্বত সীমান্তে যেন শান্তি ফেরে, সেটাই হবে যথার্থ শ্রদ্ধার্ঘ্য। যদিও পরে এই টুইট ডিলিট করে দেন রাম মাধব! কিন্তু টুইটের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। 

শেষকৃত্যের সময় ঘন ঘন স্লোগান ওঠে ভারত মাতা কি জয়, তিব্বত দেশ কি জয়, বিকাশ রেজিমেন্ট ২২। এসএফএফ-কে  Establishment 22 ও Vikas Regiment-ও বলা হয়। তেনজিনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ওখানে অনেক ব্যানারও টাঙানো হয় যেখানে বলা হয় যে শত্রু চিনের বিরুদ্ধে নিজের দ্বিতীয় ভিঁটে ভারতের জন্য লড়তে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এই বীর। 

বাড়িতে শেষ বিদায়ের প্রতিক্ষায় তেনজিনের নিহর দেহ। 
বাড়িতে শেষ বিদায়ের প্রতিক্ষায় তেনজিনের নিহর দেহ।  (REUTERS)

দুই দিনের সফরে লাদাখে যাওয়া রাম মাধব ওখানে শান্তির বার্তা দেন। সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে তিনি জাননি বলেই সূত্রের খবর। কিন্তু এটা নিশ্চিত ভাবেই যে নয়া একটি দিক ভারত-চিন সম্পর্কে, তা বলাই যায়। চিনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক করার জন্য ক্রমশই তিব্বত ইস্যুতে কম গুরুত্ব দিচ্ছিল ভারত। কিন্তু এবার নতুন করে তিব্বতিদের আত্মত্যাগকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, বলেই ওয়াকিবহাল মহল মনে করে। 

তিব্বতি গেরিলাদের নিয়ে ১৯৬২ সালে তৈরী হয় এসএফএফ। এর অধিকাংশ সেনাই তিব্বতি। ১৯৭১ ও ১৯৯৯ যুদ্ধে বড় ভূমিকা পালন করেছে এরা। এবার তাদের কথা সঠিক ভাবে জানতে পারছে দেশবাসী। 

বন্ধ করুন