বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > রাজনৈতিক কারণে তোলা হচ্ছে জমি দুর্নীতির অভিযোগ, দাবি রাম মন্দির ট্রাস্টের
শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই। (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই। (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

রাজনৈতিক কারণে তোলা হচ্ছে জমি দুর্নীতির অভিযোগ, দাবি রাম মন্দির ট্রাস্টের

  • জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ উড়িয়ে দিল রাম মন্দির ট্রাস্ট।

জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ উড়িয়ে দিল রাম মন্দির ট্রাস্ট। বরং শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রের দাবি, রাজনৈতিক কারণে জমি দুর্নীতির ‘বিভ্রান্তিকর’ অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেইসঙ্গে এখনও পর্যন্ত যত জমি কেনা হয়েছে, তা খোলা বাজারের থেকে অনেক দামে পেয়েছে ট্রাস্ট।

শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের তরফে একটি বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, রাম মন্দির চত্বরের সুরক্ষা এবং পুনর্বাসন সংক্রান্ত কারণে জমি কিনছে ট্রাস্ট। সেজন্য অনলাইনে স্ট্যাম্প পেপার-সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় নথি কেনা হচ্ছে। সম্মতিপত্রের ভিত্তিতে কেনা হচ্ছে জমি। বিক্রেতাকে অনলাইনে টাকা দেওয়া হয়েছে। তারইমধ্যে ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ‘অযোধ্যার সার্বিক বিকাশের জন্য’ জমি কেনার কাজ শুরু করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। তার ফলে ওই এলাকার জমির দাম বেড়ে গিয়েছে। 

রবিবার সমাজবাদী পার্টি এবং আম আদমি পার্টির (আপ) তরফে রাম মন্দিরের ট্রাস্টের বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়। সাংবাদিক বৈঠক ডেকে সমাজবাদী পার্টির নেতা তেজনারায়ণ পান্ডে অভিযোগ করেন, ‘দু'কোটি টাকায় জমির সেই অংশ (১২,০৮০ স্কোয়ার মিটার) কিনেছিলেন রবিমোহন তিওয়ারি এবং সুলতান আনসারি। ১০ মিনিট পর গত ১৮ মার্চ ট্রাস্ট সেটি ১৮.৫ কোটি টাকায় জমি কিনেছে।’ তাঁর দাবি, কেনা চুক্তির সময় হাজির ছিলেন ট্রাস্টের সদস্য অনিল মিশ্র এবং অযোধ্যার মেয়র হৃষিকেশ উপাধ্যায়। সেইসঙ্গে আরটিজিএসের মাধ্যমে রবিমোহন ও সুলতানের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৭ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছিল। আরটিজিএসের মাধ্যমে সেই অর্থ পাঠানোর ঘটনায় তদন্তের পাশাপাশি পুরো ‘জমি দুর্নীতিতে’ সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা।

একই সুরে অভিযোগ করেন আপ নেতা সঞ্জয় সিং। সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি নথি প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, সন্ধ্যা সাতটা ১০ মিনিটে দু'কোটি টাকায় জমির সেই অংশ কিনেছিলেন রবিমোহন ও সুলতান। সাতটা ১৫ মিনিটে রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের চম্পত রাই সেই জমি কেনেন ১৮.৫ কোটি টাকায়। সেই হিসাব অনুযায়ী, প্রতি সেকেন্ডে জমির দাম বেড়েছিল ৫.৫ লাখ টাকা। সঞ্জয় প্রশ্ন করেন, ‘বিশ্বের আর কোনও এমন জায়গা আছে, যেখানে এত দ্রুত জমির দাম পালটে যায়? কিন্তু এটা হয় ভগবান রামের জন্মস্থানে।’

সঞ্জয় আরও অভিযোগ করেন, সেখানেই অনিয়মের স্বপক্ষে প্রমাণের শেষ হয়নি। তিনি বলেন, ‘অনিয়মের আরও একটি সূত্র আছে। প্রথম লেনদেনের জন্য স্টাম্প কেনা হয়েছিল ৫ টা ২২ মিনিটে। যেখানে দ্বিতীয় লেনদেনের জন্য ৫টা ১১ মিনিটে স্টাম্প কেনা হয়েছিল। অর্থাৎ যে জমি বিক্রি হয়নি, সেই জমি কেনার জন্য প্রথমে স্টাম্প জোগাড় করা হয়েছিল।’

দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে ট্রাস্টের তরফে দাবি করা হয়েছে, দুই বিক্রেতা যে দামে নথিভুক্ত করেছিলেন, সেই দামেই গত ১৮ মার্চ রাম মন্দিরের নামে জমি হস্তান্তর করে দিয়েছেন। যা রেল স্টেশনের কাছে যথেষ্ট পরিচিত জায়গা। রাম মন্দির ট্রাস্টের কেনা সমস্ত জমির দামই খোলা বাজারের থেকে কম পড়েছে। কিন্তু মানুষকে বোকা বানাতে এবং রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে জমি দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক।

বন্ধ করুন