কিছুটা হলেও করোনা যুদ্ধে সুফল পাচ্ছে ভারত। আগে যেখানে চার দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছিল, এখন তা প্রায় দশ দিন লাগছে। মৃত্যুহারেও কিছুটা হলেও কাবু পেয়েছে দেশ। শনিবারের তুলনায় রবিবারে নয়া আক্রান্তের সংখ্যাও কিছুটা কমেছে। সব মিলিয়ে এটা বলাই যায় যে গুণিতক নিয়মে বৃদ্ধি পাচ্ছে না আক্রান্তের সংখ্যা, যা দেশের পক্ষে খুবই শুভ খবর।

কিন্তু এর মধ্যেও বেশ কিছু রাজ্যে এখনও হুহু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এর মধ্যে রবিবারের বিকাল অবধি প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে, গত সাতদিনে শীর্ষ আছে পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাত ও মহারাষ্ট্র। গত সাত দিনের হিসাব অনুযায়ী নয়া রোগীর ৬৭ শতাংশ এসেছে এই তিন রাজ্য থেকে। এর মধ্যে মহারাষ্ট্র ও গুজরাতে রোগীর সংখ্যা আগে থেকেই বেশি ছিল। ফলে এখানে এতটা চড়া হারে কেস বৃদ্ধিতে চিন্তা বাড়ছে নীতি নির্ধারকদের।

তবে পশ্চিমবঙ্গ নিয়েও উদ্বেগ কম নয়। আক্রান্ত এখন ৬৪৯ কেন্দ্রের খাতায়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দলের চিঠিতে এই ইঙ্গিত মিলেছে যে রাজ্যে এখনও করোনা কার্ভের চূড়ো আসেনি বলেই মনে করা হচ্ছে। কিন্তু পরে যদি সংখ্যা আরও বাড়ে, সেরকম পর্যাপ্ত দিনে ৫ হাজার অবধি টেস্ট করার পরিকাঠামো কী আছে পশ্চিমবঙ্গে, সেই প্রশ্ন করেছে স্বাস্থ্য কমিটি।

একই ভাবে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধিতে শীর্ষে রাজস্থান, গুজরাত ও অন্ধ্রপ্রদেশ। এখানে এই কথা বলা ভালো যে পশ্চিমবঙ্গে ২০জন সরকারি ভাবে করোনায় মৃত। কিন্তু করোনা থাকাকালীন কোমর্বিডিটিতে মারা গিয়েছেন কমপক্ষে আরও ৩৯জন। তবে ডেথ অডিট কমিটি সেই মৃত্যুগুলিকে করোনার কারণে নয় বলেই জানিয়েছে।

এক নজরে দেখুন দুটি গ্রাফ-

এবার যদি জেলাওয়াড়ি হিসাবে যাই, তাহলে গত দুই দিনে চিন্তা বাড়িয়েছে মুম্বই, আমদাবাদ, নিউ দিল্লি, ইনদোর ও থানে। এই পাঁচ জেলা থেকে এসেছে ৪৯ শতাংশ নয়া কেস। অন্যদিকে বেশ কিছু নয়া রোগী ধরা পড়েছে পুনে, কলকাতা ও অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা জেলা থেকে।

আগামী তেসরা মে অবধি চলবে লকডাউন। হটস্পট ও রেড জোনে বিশেষ সতর্কতা রাখার আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বন্ধ করুন