বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > পাক পরমাণু উদ্যোগে ধাক্কা দিতেই কি মোসাদ '৮১ এর বিস্ফোরণ ঘটায়? কী বলছে রিপোর্ট
প্রতীকী ছবি। (সৌজন্য রয়টার্স) (REUTERS)

পাক পরমাণু উদ্যোগে ধাক্কা দিতেই কি মোসাদ '৮১ এর বিস্ফোরণ ঘটায়? কী বলছে রিপোর্ট

  • ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নভেম্বরের মধ্যে যে একাধিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে জার্মানি ও সুইৎসজারল্যান্ড জুড়ে তার নেপথ্যে 'অজ্ঞাত পরিচয় ঘাতক' এর অস্তিত্ব উঠে আসছে।

বিস্ফোরণের পর কেটে গিয়েছে প্রায় ৪০ বছর। তবুও ১৯৮১ সালে জার্মানি ও সুইৎজারল্যান্ডে পর পর বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে নতুন করে এক রিপোর্টের তথ্য কার্যত তোলপাড় শুরু হয়েছে কূটনৈতিক দুনিয়ায়। এক মিডিয়া রিপোর্টে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে ইজরায়েলের গুপ্তচর বিভাগ মোসাদ জার্মানি ও সুইৎজারল্যান্ডে সেই সমস্ত সংস্থাকে টার্গেট করেছিল, যাদের সঙ্গে পাকিস্তানের পরমাণু উদ্যোগের সম্পর্ক ছিল। এক্ষেত্রে '৮১ এর বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।

সুইস-জার্মান সংবাদমাধ্যম 'নয় জুকের সাইটুং' -এ প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নভেম্বরের মধ্যে যে একাধিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে জার্মানি ও সুইৎসজারল্যান্ড জুড়ে তার নেপথ্যে 'অজ্ঞাত পরিচয় ঘাতক' এর অস্তিত্ব উঠে আসছে। পর পর তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনায় সেই সময় বহু ভবন ভেঙে পড়ে যায়,তবে কোনও আহত বা মৃতের খবর আসেনি। যে ঘটনা ঘিরে বহু রহস্য দানা বেঁধেছে।

রিপোর্ট বলছে, এই বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত রয়েছে এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি। যে ব্যক্তি, এমন বহু সংস্থাকে সেই সময় ফোন করে হুমকি দিয়েছেন, যারা পাকিস্তানের গোপন পরমাণু উদ্যোগের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল বলে সন্দেহ ছিল। অনেক সময় নিজের হুমকি ফোন কল-কে তিনি রেকর্ড করে রাখার জন্যও সংস্থাগুলিকে বলেছিলেন বলে জানা যাচ্ছে এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে। প্রতিটি হামলার সঙ্গে একটি করে ফোন কল সম্পর্কিত বলে জানাচ্ছে রিপোর্ট। ফোনে যে ব্যক্তিকে কথা বলতে শোনা যেত, তিনি ইংলিশ অথবা ভাঙা ভাঙা জার্মানিতে কথা বলতেন, বলে খবর।

এই মিডিয়া রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, 'মোসাদ (ইজরায়েলি গুপ্তচর সংস্থা) এই হামলা ও হুমকি ফোনগুলির নেপথ্যে থাকতে পারে বলে সন্দেহ জাগছে।' প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানের গোপন পরমাণু উদ্যোগ ঠেকিয়ে দিতে কেন চাইবে ইজরায়েল? ঘটনার ব্যাখ্যা করে রিপোর্ট দাবি করছে, পরমাণু শক্তিতে পোক্ত হয়ে পাকিস্তান সেই সময় প্রথম পরমাণু শক্তিধর ইসলামিক দেশ হিসাবে উঠে আসত। যার জেরে ইজরায়েলের সামরিক অস্তিত্ব চ্যালেঞ্জের মধ্যে চলে যেতে পারত। উল্লেখ্য, সুইস ঐতিহাসিক আদ্রিয়ান হান্নিকে উল্লেখ করে এই সংবাদমাধ্য়ম দাবি করেছে, জার্মান ও সুইস সংস্থায় সেই সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের হাত থাকার প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে কোনও পোক্ত প্রমাণ নেই কারো কাছে। তবে বিস্ফোরণের ঘটনায় একটি 'সিক্রেট সার্ভিস' এর ঘরানা লক্ষ্য করেছেন অনেকেই বলে দাবি সংবাদমাধ্যমের। এছাড়াও ঐতিহাসিক বলছেন, গত দুই বছরে পশ্চিম ইউরোপে ইরাকি পরমাণু উদ্যোগকে রুখতে যে বোমা বিস্ফোরণ হয়েছিল তার সঙ্গে ১৯৮১ এর ওই বিস্ফোরণের ঘরানা মিলে যায়। যে ঘটনা ঘিরে মোসাদের নাম বারবার সন্দেহের মধ্যে উঠে আসছে। উল্লেখ্য, '৮১ এর ঘটনায় কোরা ইঞ্জিনিয়ারিং এর এক উচ্চ পদস্থ কর্মীর বাড়িতে হামলা সন্দেহের ধোঁয়াশার বাইরে নয়। একই সঙ্গে জার্মানির সংস্থা ওয়ালিশমিলেরকেও টার্গেট করা হয়েছিল সেই সময়। এদিকে, 'ইটিং গ্র্যাস: দ্য মেকিং অফ পাকিস্তানি বম্ব' বইটিতেও লেখর পাকিস্তানি সেনা অফিসার ব্রিগেডিয়ার ফিরোজ হাসান খান এই দুই সংস্থাকে নিয়ে বক্তব্য রাখেন। বর্ণনা করেন তাদের কাজের। এক্ষেত্রে ১৯৮৭ সালে পাকিস্তান ও ইরানের পরমাণু উদ্যোগের সঙ্গে সম্পর্কিত দুই বিজ্ঞানীর সাক্ষাতের ঘটনাটিও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এদিকে, সাম্প্রতিককালে একাধিক মার্কিন নথি পাকিস্তানের গোপন পরমাণু উদ্যোগের কার্যত মুখোশ খুলে রেখে দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বহু জার্মান ও সুইস সংস্থা পাকিস্তানকে এককালে তাদের পরমাণু উদ্যোগে পণ্য সরবরাহ করে সাহায্য করছিল। এছাড়াও উঠে আসছে আরও এক বিস্ফোরক হুমকি বার্তা। 'ওয়ালিশমিলের সংস্থার সঙ্গে যা ঘটেছে তা আপনাদের সঙ্গেও ঘটতে পারে', এমন বার্তা দিয়ে বহু হুমকিবার্তাবাহী ফোন কল সেই সময় আরও এক জার্মান সংস্থার কাছে গিয়েছিল। যে সংস্থার বিরুদ্ধেও অবৈধভাবে এমন কিছু পরিকল্পনা পাচারের অভিযোগ ছিল , যা পাকিস্তানকে পরমাণু ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। রিপোর্ট বলছে, সেই সময় বহু জার্মানি ও সুইস সংস্থা পাকিস্তানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে কাজ করে বহু মিলিয়ন ডলার রোজগার করে নিয়েছিল।

বন্ধ করুন