বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > দলত্যাগ করতে চান ১৭ জেডিইউ বিধায়ক, দাবি আরজেডি'র, মানতে নারাজ নীতিশ কুমার
নীতিশ কুমার (PTI)
নীতিশ কুমার (PTI)

দলত্যাগ করতে চান ১৭ জেডিইউ বিধায়ক, দাবি আরজেডি'র, মানতে নারাজ নীতিশ কুমার

  • দল পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ, দাবি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী

বিহারে শাসক এনডিএ-র আকাশে শঙ্কার মেঘ। বর্ষীয়ান আরজেডি নেতা শ্যাম রাজক দাবি করেছেন যে ১৭জন সংযুক্ত জনতা দল বিধায়ক বিরোধীদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত। যদিও এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। 

একদা নীতিশ ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন জেডিইউ নেতা শ্যাম রাজক জানিয়েছেন তাঁর সঙ্গে সতেরোজন বিধায়ক যোগাযোগ রেখেছে। তাঁরা এখনই যোগ দিতে চাইছে কিন্তু এখন দল ছাড়লে তাঁরা বিধায়ক পদ হারাবেন, সেই কারণে তাদের অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে বলে জানান রাজক। কম করে ২৫-২৬ জন বিধায়ক দল না ছাড়লে তাদের সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে। তবে সেই সংখ্যা খুব জলদি এসে যাবে বলেও দাবি করেন রাজক। প্রসঙ্গত, দলবদল সম্পর্কিত আইন অনুযায়ী, কোনও সংসদীয় দলের কমপক্ষে দুই তৃতীয়াংশ একসঙ্গে দল না ছাড়লে পদত্যাগী বিধায়কদের সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে। 

রাজক দাবি করেন যেভাবে নীতিশ কুমারের ওপর বিজেপি ছড়ি ঘোরাচ্ছে তাতে অতিষ্ঠ জেডিইউ নেতারা। সেই কারণেই তাঁরা দলবদল করতে চাইছেন বলে দাবি রাজকের। তবে এই সব দাবি খারিজ করে দিয়েছেন নীতিশ কুমার। তিনি বলেন যে এইগুলি অবাস্তব দাবি যার কোনও সারবত্তা নেই। 

দলের রাজ্য সভাপতি বশিষ্ঠ নারায়ণ সিং বলেন যে আরজেডির নিজেদের ঘর গোছানো উচিত। অন্যদিকে দলের মুখপাত্র রাজীব রঞ্জন বলেন যে অরুণাচলে যা হয়েছে সেটা নিয়ে তাঁরা অসন্তুষ্ট এটা ঠিকই কিন্তু তার মানে এই নয় যে জেডিইউ-র বিধায়করা দলত্যাগ করবেন। বরং অনেক আরজেডি বিধায়ক তেজস্বী যাদবের ওপর অসন্তুষ্ট বলে তিনি দাবি করেন। 

প্রসঙ্গত অরুণাচলে ছয় জেডিইউ বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এর পর থেকে দুই দলের সম্পর্ক নিয়ে নয়া জল্পনা শুরু হয়েছে। এই ঘটনা জোটধর্মের পরিপন্থী বলে বিবৃতিও দিয়েছে জেডিইউ। অন্যদিকে বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার তথা আরজেডি নেতা উদয় নারায়ণ চৌধুরী প্রস্তাব দিয়েছেন যে বিরোধীদের প্রধানমন্ত্রীর মুখ হন নীতিশ, বদলে তেজস্বীর জন্য তিনি বিহারের কুরসি ছেড়ে দিন। তার ঠিক পরের দিনেই এল শ্যাম রাজকের এই হুঁশিয়ারি যে জেডিইউ ভাঙল বলে। 

তবে এর মধ্যে নীতিশ কুমার যেভাবে দ্ব্যর্থহীন ভাবে এই জল্পনাকে খণ্ডন করেছেন তাতে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে বিজেপি। প্রসঙ্গত, নভেম্বরে হওয়া বিহার ভোটে অল্প মার্জিনে মহাগঠবন্ধনকে হারিয়ে সরকার গড়ে এনডিএ। বিজেপির থেকে অনেক আসন কম পেলেও জেডিইউ-র থেকেই নীতিশ হন মুখ্যমন্ত্রী। তবে আরজেডি সহ বিরোধীরা দাবি করে আসছে যে নীতিশ মুখ্যমন্ত্রী হলেও সরকারের কলকাঠি বিজেপির হাতে। তারওপর অরুণাচলের ঘটনার পর আরও মেঘ জমে ছিল দুই শরিকের সম্পর্কে। তবে এদিন নীতিশের বিবৃতির পর কিছুটা হলেও সেই মেঘ সরেছে। তবে আরজেডি বাস্তবে জেডিইউ-তে ভাঙন ধরাতে পারে কিনা, সেই দিকে নজর থাকবে সবার। 

বন্ধ করুন