বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > সংঘর্ষ তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ, পুলিশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ
শুক্রবার ভোরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪ অভিযুক্তের মৃত্যুর তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা পড়ল শনিবার। ছবি সৌজন্যে পিটিআই।

সংঘর্ষ তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ, পুলিশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ

আইনজীবীরা দাবি করেছেন, সংঘর্ষের সময় তেলাঙ্গনা পুলিশের সাইবারাবাদ বিভাগের পুলিশকর্মীরা সুপ্রিম কোর্টের ২০১৪ সালে জারি করা শর্তাবলী অনুসরণ করেননি।

পুলিশের গুলিতে ধর্ষণ ও হত্যামামলায় ৪ অভিযুক্তের মৃত্যুতে তেলাঙ্গানা পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের জন্য সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন চেয়ে আবেদন জমা পড়ল। শনিবার এই আবেদন জানালেন জি এস মানি এবং প্রদীপ কুমার যাদব নামে দুই আইনজীবী।

শুক্রবার হায়দরাবাদের শাদনগরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চার অভিযুক্তের মৃত্যু ঘিরে প্রবল বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। আবেদনপত্রে আইনজীবীরা দাবি করেছেন, সংঘর্ষের সময় তেলাঙ্গানা পুলিশের সাইবারাবাদ বিভাগের পুলিশকর্মীরা সুপ্রিম কোর্টের ২০১৪ সালে জারি করা শর্তাবলী অনুসরণ করেননি। ওই শর্তগুলি অমান্য করলে কোনও পুলিশি সংঘর্ষকে আইনি মর্যাদা দেওয়া যাবে না বলে সেই সময় মন্তব্য করেছিল শীর্ষ আদালত।

এ ছাড়া চার অভিযুক্তের মৃত্যুতে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) দ্বারা ঘটনার তদন্তের জন্যও এ দিন আর একটি আবেদন জমা পড়েছে শীর্ষ আদালতে। দ্বিতীয় আবেদনপত্রটি জমা দিয়েছেন আইনজীবী এম এল শর্মা। সেই সঙ্গে রাজ্যসভায় সমাজবাদী পার্টি সাংসদ জয়া বচ্চন ও দিল্লি মহিলা কমিশন প্রধান স্বাতী মালিওয়ালের বিরুদ্ধে ‘বিচার বহির্ভূত হত্যা সমর্থন’ করার অভিযোগ তুলেও সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দিয়েছেন এই আইনজীবী।

অন্য দিকে, শনিবার সকালে হায়দরাবাদ এসে পৌঁছেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিদল। শুক্রবার সংঘর্ষে নিহত ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের দেহের ময়নাতদন্ত তেলাঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের বাইরে করার জন্য আবেদন জানান মানবাধিকার আন্দোলনকারীরা। সেই আবেদনের ভিত্তিতে পুলিশকে দেহগুলি সংরক্ষণের নির্দেশ দেয় তেলাঙ্গানা হাইকোর্ট।

শুক্রবার ভোর ৫.৩০ নাগাদ পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের সময় হায়দরাবাদ ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত চার জনের মৃত্যু হয় বলে জানায় তেলাঙ্গানা পুলিশ। ওই দিন বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে তেলাঙ্গনা পুলিশের অধীনস্থ সাইবারাবাদ শাখার কমিশনার বিশ্বনাথ সি সজ্জনার জানান, চাতানপল্লির যে কালভার্টের নীচে গত ২৮ নভেম্বর ধর্ষণের পরে তরুণী পশুচিকিত্সকের দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, অপরাধের দৃশ্য পুনর্নির্মাণের জন্য চার অভিযুক্তকে সেথানে নিয়ে যাওয়া হলে তারা পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশকে নিশানা করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার জন্য পালটা গুলি চালালে ওই চার জনের মৃত্যু হয় বলে দাবি সজ্জনারের।

বন্ধ করুন