বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > রাজ্যসভা ও লোকসভা টিভিকে মিশিয়ে আসছে সংসদ টিভি চ্যানেল, লোকসান ঠেকাতে দাওয়াই
বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনই উদ্বেগ, করোনায় আক্রান্ত লোকসভার ২৪ জন সাংসদ (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনই উদ্বেগ, করোনায় আক্রান্ত লোকসভার ২৪ জন সাংসদ (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

রাজ্যসভা ও লোকসভা টিভিকে মিশিয়ে আসছে সংসদ টিভি চ্যানেল, লোকসান ঠেকাতে দাওয়াই

  • লোকসভা ও রাজ্যসভা টেলিভিশন চ্যানেলকে সংযুক্ত করে সংসদ টিভি চ্যানেল আনা হচ্ছে বলে খবর।

সংসদের অন্তর্গত দুটি টেলিভিশন চ্যানেলকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসা হচ্ছে। লোকসভা ও রাজ্যসভা টেলিভিশন চ্যানেলকে সংযুক্ত করে সংসদ টিভি চ্যানেল আনা হচ্ছে বলে খবর। যেখানে দুই কক্ষের সরাসরি সম্প্রচার থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে অনুষ্ঠান পর্যন্ত হবে। সংসদের অভ্যন্তরের বিতর্কসভা থেকে প্যাক নিউজ সম্প্রচার করা হবে। ইংরেজি এবং হিন্দিতে সব অনুষ্ঠান দেখানো হবে। আগে যা ছিল আলাদা এবার তা এক করে দেওয়া হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্ত কিছুদিন আগে ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেল দেশ দীপক বর্মা। যা এবার বাস্তবায়িত হতে চলেছে বলে খবর। গত অক্টোবর মাসে বেলগ্রেডে আয়োজিত ১৪১তম আন্তঃ–সংসদীয় ইউনিয়নের বৈঠকে এই বিষয়টি ঘোষণা করেছিলেন তিনি। যদিও এই দুই চ্যানেলকে যুক্ত করে দেওয়ার কোনও বিশেষ কারণ দেখানো হয়নি। সূত্রের খবর, পৃথকভাবে চ্যানেলগুলির রেটিং ক্রমাগত পড়ে যাচ্ছিল এবং চ্যানেলের ব্যয় কমানোর জন্য এই দু’‌টি চ্যানেলকে যুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকী চ্যানেল দু’‌টির বার্ষিক আয়ের চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যয় বেড়ে গিয়েছিল। তাই লোকসান কমানোর জন্য চ্যানেল কর্তৃপক্ষদের এই দু’‌টি চ্যানেল এক করে দেওয়ার জন্য জোর দেওয়া হয়।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক জানান, রাজ্যসভা টেলিভিশন তালকোটরা স্টেডিয়াম থেকে ভাড়া নিয়ে চলে। সেখানে এই সংযুক্ত হলে আর ভাড়া লাগবে না। জানা গিয়েছে, প্রাক্তন বস্ত্রমন্ত্রকের সচিব রবি কাপুরকে সিইও হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁকে একবছরের চুক্তিতে নিয়োগ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির পক্ষ থেকে গোটা পরিকল্পনা করা হয়েছে। যার মাথায় রয়েছেন প্রসাক ভারতীর সিইও সূর্য প্রকাশ। লোকসভা এবং রাজ্যসভা টেলিভিশন চ্যানেলকে লাভজনক করতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুটি কক্ষের সরাসরি সম্প্রচার থেকে ঝকঝকে টেলিকাস্ট এবং সংসদের সমস্ত সভা সম্প্রচার করা হবে। যা দেশের মানুষ দেখতে চায়। রাজ্যসভার এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, ‘‌এই দুটি চ্যানেলের সংযোগের ফলে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। অফিস ভাড়া, স্টুডিও ভাড়া–সহ অন্যান্য খরচ বহন করতে হতো। সেটি ছিল তালকোটরা স্টেডিয়ামে।’‌ সংসদ টেলিভিশন চ্যানেলের নতুন ঠিকানা মহাদেব রোডের একটি ছোট বাংলো। আর সংসদের গ্রন্থাগার ভবনেই রয়েছে স্টুডিও। আর যা পরিকাঠামো রয়েছে তা সংসদ টিভি চ্যানেল চালানোর পক্ষে যথেষ্ট।

উল্লেখ্য, প্রাক্তন লোকসভার স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের হাতেই জন্ম হয় লোকসভা টিভির (‌এলএসটিভি)‌। ২০০৬ সালের জুলাই মাসে চ্যানেলটি এয়ার হয়। এটি ভারতের প্রথম সংসদীয় চ্যানেল। সংসদের নিম্ন কক্ষের কাজ দেখানো হয় এই চ্যানেলে। লোকসভার সেক্রেটারিয়েট দ্বারা এই চ্যানেলটি পরিচালিত হয়। এখানে লাইভ টেলিকাস্ট দেখানো বাধ্যতামূলক ছিল। আর রাজ্যসভা টিভি সংসদের উচ্চ কক্ষের কাজ দেখাতো। সূত্রের খবর, দু’‌টি চ্যানেলকে যুক্ত করার পর গোটা প্রক্রিয়াটি প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে পরিচালিত হবে এবং সেটা যাতে সহজে হয় তার জন্য কমিটি গঠন করা হবে।

বন্ধ করুন