বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > শিক্ষক দিবসেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণের নাতি
সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণের জন্মদিন ‘‌শিক্ষক দিবসেই’‌ প্রয়াত তাঁর নাতি (HT_PRINT)
সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণের জন্মদিন ‘‌শিক্ষক দিবসেই’‌ প্রয়াত তাঁর নাতি (HT_PRINT)

শিক্ষক দিবসেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণের নাতি

  • প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব কেশব দেশীরাজু

শিক্ষক দিবসেই প্রয়াত হলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণানের পৌত্র কেশব দেশীরাজু। গোটা দেশ যখন তাঁর ঠাকুরদা সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণের জন্মদিবস ধুমধাম করে পালন করছিলেন, তখন চেন্নাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতলে নিঃশব্দে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তাঁর নাতি। রবিবার সকালে চেন্নাইয়ে ওই বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত এই আমলার হৃদরোগের সমস্যা ছিল।

দেশীরাজুর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়রাম রমেশ। তিনি তার টুইটারে লিখেছেন, ‘‌৫৭ বছর ধরে আমার প্রিয় বন্ধু ছিলেন দেশীরাজু। একজন অসাধারণ আমলা প্রয়াত হয়েছেন। যেদিন দেশ তাঁর ঠাকুরদার জন্মদিবস পালন করছে, সে দিনই তিনি প্রয়াত হলেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। কেশব এমএস শুভলক্ষ্ণীর জীবনী লিখেছেন।’‌

অবশ্য এই প্রাক্তন আমলার ক্যারিয়ার কারও চেয়ে কম আকর্ষণীয় ছিল না।ছাত্রজীবনে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে মাস্টার ডিগ্রী অর্জন করেন কেশব। এরপর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার ডিগ্রি প্রাপ্ত করেন তিনি। ১৯৭৮ ব্যাচের আইএএস অফিসার ছিলেন এই প্রাক্তন আমলা। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকের সচিব হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড সরকারের বিভিন্ন দফতরেও কাজ করেছেন তিনি। অবসর নেওয়ার সময় উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রককের সচিব ছিলেন কেশব দেশীরাজু।

অবসর গ্রহণের পর তাঁকে পপুলেশন ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়ার গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারপার্সন হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তারপর জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ অবদান ছিল। এমনকী, মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়াও সামাজিক স্বাস্থ্য নিয়েও কাজ করেছিলেন তিনি। তাছাড়া সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের গভর্নিং বোর্ডের সদস্য ছিলেন কেশব। 

২০১৬ সালে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিলের ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল। তিনি এই বিলের খসড়া তৈরি করতে সাহায্য করেছিলেন। সংসদে এই বিল পাশও হয়ে যায়।  শুধু তাই নয়, একাধারে তিনি যেমন দক্ষ আমলা ছিলেন, অন্য দিকে একজন ভাল লেখকও ছিলেন দেশীরাজু। বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন তিনি। তার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হল, ২০১৮ সালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি বই লেখেন তিনি। সর্বশেষ সঙ্গীতশিল্পী এমএস শুভলক্ষ্মীর জীবনী নিয়ে তাঁর লেখা ‌‘‌অফ গিফ্টেড ভয়েস’‌ বইও প্রকাশিত হয়েছে। সব ভূমিকাতেই দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন এই প্রাক্তন আমলা।

 

বন্ধ করুন