বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ড্রাইভার, ডেলিভারি পার্সনরা ‘পার্টনার' নাকি 'কর্মী’? খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্ট
ছবি : রয়টার্স ও হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা (Reuters, Edited by HT Bangla/Soumick Majumdar)
ছবি : রয়টার্স ও হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা (Reuters, Edited by HT Bangla/Soumick Majumdar)

ড্রাইভার, ডেলিভারি পার্সনরা ‘পার্টনার' নাকি 'কর্মী’? খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্ট

  • নিয়োগকর্তারা নিজেদেরকে 'এগ্রিগেটর' বলে। এর ফলে তারা তথাকথিত অংশীদারিত্বের চুক্তিতে প্রবেশ করে। কিন্তু এটা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই যে বাস্তবে তাদের মধ্যে নিয়োগকর্তা এবং কর্মচারীর সম্পর্কই বিদ্যমান। ফলে সমস্ত প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী তারা প্রকৃতপক্ষে নিয়োগকারী এবং কর্মী,' বলা হয়েছে পিটিশনে।

Zomato, Swiggy, Ola, Uber-এর পরিষেবা প্রদানকারীরাও কি 'অসংগঠিত কর্মী'-র পর্যায়ে পড়েন?  এ বিষয়েই পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট।

তাত্পর্য

অ্যাপভিত্তিক পরিষেবা প্রদানকারীদের সাধারণত ‘পার্টনার’ হিসাবে ধরা হয়। অর্থাত্, তাঁদের এই মুহূর্তে সরাসরি কর্মী হিসাবে ধরা হয় না।

'অসংগঠিত কর্মী'-র আওতাভুক্ত হলে তাঁরা বিমা, ভবিষ্যত তহবিল, গ্র্যাচুইটি, মাতৃত্বকালীন সুবিধা এবং অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা আইনের আওতায় পড়বেন। বর্তমানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা এই সুবিধাগুলি পান না। তবে এর মাঝে ব্যাতিক্রমও আছে। 

কেন হঠাত্ এ বিষয়ে নোটিশ দিল সুপ্রিম কোর্ট?

ইন্ডিয়ান ফেডারেশন অফ অ্যাপ-বেসড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স (IFAT) বলে একটি সংগঠন আছে। সেখানকার দুই প্রতিনিধি এই সমস্যাটি আদালতে পেশ করেন। তাঁদের মধ্যে একজন নিজেই অ্যাপক্যাব চালক।

চারটি অ্যাপ-ভিত্তিক অপারেটর - ওলা, উবার, সুইগি এবং জোমাটোর কথা উল্লেখ করে এ বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের বিবেচনার আবেদন করেন তাঁরা। সেই পিটিশনের ভিত্তিতেই নোটিশ জারি করে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাও এবং বিআর গাভাইয়ের বেঞ্চ চার সপ্তাহ পরে এই বিষয়ে নোটিশ দেন।

কী বলেছিলেন আবেদনকারীরা?

আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং বলেন, 'আমরা আদালতের কাছে থেকে একটি ঘোষণা চাই। অ্যাপ-ভিত্তিক পরিষেবার জন্য কাজ করা এই ড্রাইভার এবং ডেলিভারি পার্সনরাও 'কর্মী'। এই সংস্থাগুলি দাবি করে যে তাঁরা স্বাধীন ঠিকাদার ভিত্তিতে কাজ করেন। এটা মানা সম্ভব নয়।'

 ফাইল ছবি : রয়টার্স
 ফাইল ছবি : রয়টার্স (REUTERS)

আইন

প্রযোজ্য আইনের মধ্যে রয়েছে The Workmen's Compensation Act, ১৯২৩; শিল্প বিরোধ আইন, ১৯৪৭; কর্মচারীর রাষ্ট্রীয় বিমা আইন, ১৯৪৮; কর্মচারীর ভবিষ্যত তহবিল এবং বিবিধ বিধান আইন, ১৯৫২; মাতৃত্বকালীন সুবিধা আইন, ১৯৬১; দ্য পেমেন্ট অফ গ্র্যাচুইটি অ্যাক্ট, ১৯৭২ এবং 'অসংগঠিত শ্রমিক' সামাজিক কল্যাণ নিরাপত্তা আইন, ২০০৮।

ব্রিটেনেও এই নিয়ে পিটিশন জমা পড়েছিল

জয়সিং ব্রিটেনের সুপ্রিম কোর্টের এক সাম্প্রতিক রায়ের উল্লেখ করেন। সেখানে আদালত পর্যালোচনা করে জানায়, অ্যাপ-ভিত্তিক পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা এবং সেখানে যাঁরা কাজ করছেন তাঁদের মধ্যে একটি 'নিয়োগকর্তা-কর্মচারী সম্পর্ক বিদ্যমান'।

ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য রয়টার্স
ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য রয়টার্স (Reuters)

'ব্রিটেনের মতোই ভারতেও উবার, ওলা, জোমাটো এবং সুইগির ড্রাইভার বা ডেলিভারি কর্মীদের সঙ্গে সংস্থাগুলির শর্তাবলী প্রায় একই। প্রতিটিই একটি নির্দিষ্ট-মেয়াদী কর্মসংস্থান চুক্তি। পরিষেবা প্রদানকারী কর্মীদের তাঁদের জীবিকা নির্বাহের জন্য উল্লিখিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই,' উল্লেখ করা হয়েছে অপর আইনজীবী নূপুর কুমারের আবেদনে।

পিটিশনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে সংসদ সামাজিক নিরাপত্তা সম্পর্কিত সমস্ত আইন সংশোধন ও একীভূত করার জন্য এবং সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের সমস্ত কর্মচারী ও শ্রমিকদের জন্য উল্লিখিত আইনগুলির অধীনে সুবিধাগুলি প্রসারিত করার জন্য সামাজিক সুরক্ষা কোড, ২০২০ প্রণয়ন করেছে। তাতে 'অসংগঠিত শ্রমিক, গিগ কর্মী এবং প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা' সম্পর্কিত একটি পৃথক অধ্যায় রয়েছে। এটি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু এখনও কার্যকর হয়নি।

ভারতের সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ

ভারতের সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'অসংগঠিত শ্রমিক' হিসাবে তাঁদের নিবন্ধন করতে বা বিদ্যমান আইনের অধীনে তাঁদের সামাজিক সুরক্ষা দিতে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার উল্লেখ করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদের মধ্যে পড়ছে কাজ করার অধিকার, জীবিকার অধিকার, কাজের শালীন এবং ন্যায্য অবস্থার অধিকার। এটি আইনের সমতার অধিকার এবং আইনের সমান সুরক্ষাকেও অস্বীকার করে। কারণ তাঁরা প্রযোজ্য সামাজিক নিরাপত্তা আইনের অধীনে অন্যান্য সমস্ত ক্ষেত্রের কর্মীদের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছেন, পিটিশনে বলা হয়েছে।

পার্টনার নাকি কর্মী?

 

আইনজীবী গায়ত্রী সিং উল্লেখ করেন, 'উবার, ওলা, জোমাটো এবং সুইগির মতো সংস্থাগুলির দাবি, তাদের এবং পরিষেবা প্রদানকারীদের মধ্যে চাকরির কোনও চুক্তি নেই। তাদের ব্যাখ্যা, পুরোটাই অংশীদারিত্ব(পার্টনারশিপ) ভিত্তিক কাজ।'

'নিয়োগকর্তারা নিজেদেরকে 'এগ্রিগেটর' বলে। এর ফলে তারা তথাকথিত অংশীদারিত্বের চুক্তিতে প্রবেশ করে। কিন্তু এটা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই যে বাস্তবে তাদের মধ্যে নিয়োগকর্তা এবং কর্মচারীর সম্পর্কই বিদ্যমান। ফলে সমস্ত প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী তারা প্রকৃতপক্ষে নিয়োগকারী এবং কর্মী,' বলা হয়েছে পিটিশনে।

 

 

বন্ধ করুন