বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > শিশুদের ভ্যাকসিন নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত 'অবৈজ্ঞানিক', বলছেন এইমসের বিশেষজ্ঞ
 শিশুদের ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত 'অবৈজ্ঞানিক', বলছেন এইমসের বিশেষজ্ঞ।ফাইল ছবি : পিটিআই (PTI)
 শিশুদের ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত 'অবৈজ্ঞানিক', বলছেন এইমসের বিশেষজ্ঞ।ফাইল ছবি : পিটিআই (PTI)

শিশুদের ভ্যাকসিন নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত 'অবৈজ্ঞানিক', বলছেন এইমসের বিশেষজ্ঞ

  • চিকিৎসক সঞ্জয় কে রাইয়ের বক্তব্য, 'ভ্যাকসিন সম্পর্কে আমাদের যা জ্ঞান রয়েছে , তাতে তা খুব তাৎপর্যপূর্ণভাবে সংক্রমণে থাবা বসাতে পারছে বলে মনে হচ্ছে না।

এইমসের চিকিৎসক সঞ্জয় কুমার রাই একজন বিখ্যাত মহামারী বিশেষজ্ঞ হিসাবে পরিচিত। এইমসের তরফে কোভ্যাক্সিনের ট্রায়াল খতিয়ে দেখার ভারও তাঁর ওপর ছিল। এই মহামারী বিশেষজ্ঞ এবার দাবি করেছেন, কেন্দ্রের তরফে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, শিশুদের ভ্যাকসিনেশন নিয়ে , তা সম্পূর্ণ রূপে 'অবৈজ্ঞানিক'। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তের হাত ধরে কোনও বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে না।

ইন্ডিয়ান পাবলিক হেল্থ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ডক্টর সঞ্জয় কুমার রাই। তাঁর মতে, শিশুদের ভ্যাকসিন দেওয়া নিয়ে যে সিদ্ধান্ত এসেছে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই ইস্যুতে বিভিন্ন দেশের ডেটা সংগ্রহ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। উল্লেখ্য, শনিবার রাতে এক ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়ে দেন, এবার ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের এবার ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এই ভ্যাকসিনেশন আগামী ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় উঠে আসে পড়ুয়াদের স্কুল, কলেজ যাওয়ার দিকটি। তিনি বলেছেন, ভ্যাকসিনেশনের ফলে বালক বালিকাদের স্কুল, কলেজ যাওয়া নিয়ে চিন্তা কমবে। উল্লেখ্য, বিভিন্ন রাজ্যে কোভিডের ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে খুলছে স্কুল ও কলেজ। সেদিকে নজর রেখে মোদী নিজের ভাষণে বলেন, যাতে স্কুল শিক্ষার প্রক্রিয়া স্বাভাবিকের দিকে যায় ও কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার হয়, সেই দিকে নজর দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে, চিকিৎসক সঞ্জয় রাই তাঁর এক টুইটার পোস্টে লিখেছেন, ' যেভাবে তিনি স্বার্থহীন পরিষেবা দিচ্ছেন দেশকে,সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তাতে আমি নরেন্দ্র মোদীর খুব বড় ফ্যান। তবে আমি সম্পূর্ণভাবে হতাশ শিশুদের ভ্যাকসিনেশনের মতো অবৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নিয়ে।'

চিকিৎসক সঞ্জয় কে রাইয়ের বক্তব্য, 'ভ্যাকসিন সম্পর্কে আমাদের যা জ্ঞান রয়েছে , তাতে তা খুব তাৎপর্যপূর্ণভাবে সংক্রমণে থাবা বসাতে পারছে বলে মনে হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে বুস্টার শট নিয়েও বহু রোগী করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।' তাঁর মতে, ভ্যাকসিন করোনা ভাইরাস সংক্রমণকে রুখে দিতে পারে না। তবে, ভ্যাকসিন রোগের গুরুতর দিক ও সংক্রমণের জেরে মৃত্যুকে ঠেকাতে পারে। সঞ্জয় রাই জানাচ্ছেন, ভ্যাকসিনেশনের ফলে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ মৃত্যু রোখা যায়। তাঁর মতে পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখলে যদি 'ঝুঁকি'র মাত্রা লক্ষ্য করা যায়, তাহলে এটা প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য বড়সড় সুবিধা এনে দিতে পারে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি খানিকটা আলাদা বলে দাবি করেন তিনি। কোভিডে শিশুদের মত্যুর হার অনেকটাই কম, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বক্তব্য সামনে রেখে তিনি প্রশ্ন তোলেন শিশুদের ভ্যাকসিন দেওয়ার ফলাফল নিয়ে। এরফলে কোভিডের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কতটা কার্যকরী হবে, তা নিয়ে রয়েছে মহামারী বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসকের প্রশ্ন।

বন্ধ করুন