বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > জোড়া ধাক্কার মুখে সেরাম, কোভিশিল্ড জোগানের ঘাটতিতে করোনা টিকার আকাল একাধিক দেশে
জোড়া ধাক্কায় জর্জরিত সেরাম, জোগানের ঘাটতিতে করোনা টিকার আকাল একাধিক দেশে। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
জোড়া ধাক্কায় জর্জরিত সেরাম, জোগানের ঘাটতিতে করোনা টিকার আকাল একাধিক দেশে। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

জোড়া ধাক্কার মুখে সেরাম, কোভিশিল্ড জোগানের ঘাটতিতে করোনা টিকার আকাল একাধিক দেশে

সেরামের তরফে সারা বিশ্বে ৯২টি দেশে ভ্যাকসিন পাঠানোর কথা।সেরামের কাছে কমপক্ষে ২০ কোটি ডোজের অর্ডার দেওয়ার কথা ছিল কোভ্যাক্সের।কিন্তু মাত্র ৩ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ পাঠানো সম্ভব হয়েছে।

‌শুধু ভারত কেন, সারা বিশ্বে এখন ভ্যাকসিনের চাহিদা তুঙ্গে।কিন্তু এখন যে পরিমাণে ভ্যাকসিন সরবরাহ করার কথা, সেটা সম্ভব হচ্ছে না। সেটি হল সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া।ভারতে তরফে ভ্যাকসিন বিদেশে রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর হাত পা বাঁধা সেরাম। সেইসঙ্গে কয়েক মাস আগে কারখানায় আগুন লেগে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে এই ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থাকে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থা হল সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে ভ্যাকসিন সরবরাহের ক্ষেত্রে সেরামের কাজের প্রশংসাও করা হয়েছে।কিন্তু এখন এই সংস্থার তরফে ভ্যাকসিন সরবরাহের ক্ষেত্রেই ঘাটতি দেখা দিয়েছে।সেরামের তরফে সারা বিশ্বে ৯২টি দেশে ভ্যাকসিন পাঠানোর কথা।সেরামের কাছে কমপক্ষে ২০ কোটি ডোজের অর্ডার দেওয়ার কথা ছিল।কিন্তু মাত্র ৩ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ পাঠানো সম্ভব হয়েছে।গত এপ্রিল মাস থেকে ভারত থেকে ভ্যাকসিন রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।এরফলে আর সেরাম থেকে ভ্যাকসিন বাইরের কোনও দেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।এর ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে উন্নতশীল দেশগুলি।বাংলাদেশ, নেপালের মতো অনেক দেশই রয়েছে যারা এই একটি মাত্র ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থার ওপর নির্ভর করে ছিল।কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই সব দেশও সমস্যার মধ্যে পড়ে গিয়েছে।সেরামের থেকে ভ্যাকসিনের জোগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বিশ্বের অন্য ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, নেপালে ২০ লাখ ভ্যাকসিন ডোজের প্রয়োজন।তারমধ্যে অর্ধেক ডোজ পাওয়া গিয়েছে।মার্চের মধ্যে বাকি ডোজ পৌঁছোনোর কথা ছিল।কিন্তু নেপালের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, নেপালে ভ্যাকসিন ডোজের প্রবল ঘাটতি দেখা দিয়েছে।২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের দেশে এখনও পর্যন্ত মাত্র ২৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ এসে পৌঁছেছে।১০ লাখ ডোজ সরাসরি সেরাম থেকে, ১০ লাখ ডোজ ভারতের তরফে সাহায্য করা হয়েছে।বাকি ডোজ কোভ্যাক্স থেকে মিলেছে।পরিস্থিতি এখন যা দাঁড়িয়েছে, তাতে ভারতের ভ্যাকসিনের চাহিদা না মেটা পর্যন্ত সেরামের তরফে বিদেশে ভ্যাকসিন রফতানি কতটা করা সম্ভব হবে বা আদৌ ছাড়পত্র মিলবে কিনা, তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।তবে এই সমস্যা শুধু সেরামের ক্ষেত্রেই নয়, সারা বিশ্বে ভ্যাকসিনের যত চাহিদা রয়েছে, তার থেকে ভ্যাকসিনের উৎপাদন যথেষ্টই কম হচ্ছে।ফলে সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষই সমস্যায় পড়েছেন।

বন্ধ করুন