মধ্যপ্রদেশের বান্ধবগড় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্প এলাকার মধ্যে একের পর এক হাতির মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার সকালে জানা যায়, এদিন আরও তিনটি হাতির মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। যার জেরে মৃত হাতির সংখ্যা বেড়ে হল সাত!
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সন্ধেবেলা জঙ্গলে চারটি হাতির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্য়েই বুধবার সকালে উদ্ধার হয় আরও তিনটি হাতির মৃতদেহ। এছাড়াও, আরও দু'টি হাতির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ধারণা, বিষক্রিয়ার জেরেই একের পর এক হাতিকে এভাবে প্রাণ হারাতে হচ্ছে! ইতিমধ্যেই দিল্লি থেকে জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ (এনটিসিএ)-এর একটি প্রতিনিধিদল বান্ধবগড়ে পৌঁছেছে। তারা গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখছে।
বান্ধবগড় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্পের ডেপুটি ডিরেক্টর প্রকাশ ভার্মা এই প্রসঙ্গে বলেন, 'আটজন চিকিৎসক মৃত হাতিগুলির দেহের ময়নাতদন্ত করছেন। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে তাদের সমাধিস্থ করা হবে। এর জন্য ৩০০ বস্তা নুন আনার বরাত দেওয়া হয়েছে। দু'টি আর্থ মুভারের সাহায্যে হাতিদের দেহ সমাধিস্থ করার জন্য মাটি খোঁড়া হচ্ছে।'
অন্যদিকে, বান্ধবগড়, সঞ্জয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্র, এবং জবলপুরের স্কুল অফ ওয়াইল্ডলাইফ ফরেন্সিক অ্য়ান্ড হেল্থ-এর পশু চিকিৎসকরা অসুস্থ দু'টি হাতির চিকিৎসা করছেন।
মঙ্গলবার মুখ্য বন সংরক্ষক (পিসিসিএফ) বিজয় এন আম্বাডে বলেন, 'খিতুয়ালির সালখানিয়া বিট এবং পাতুরের গভীর জঙ্গলে চারটি হাতিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। দেহগুলি পরস্পরের থেকে মাত্র ১০০ থেকে ২০০ মিটার দূরে পড়ে ছিল। এছাড়া, আরও পাঁচটি হাতিকে জঙ্গলে শুয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। তাদের অবস্থাও ভালো নয়।'
পরবর্তীতে এই পাঁচটি হাতির মধ্যে তিনটি হাতির মৃত্যু হয়। তাদের চিকিৎসা শুরু করা হলেও তাতে কোনও লাভ হয়নি।
সংশ্লিষ্ট এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের ৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সেই তদন্ত করছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ। তদন্তের কাজে একসঙ্গে পাঁচটি দল ব্যবহার করা হচ্ছে। সঙ্গে ডগ স্কোয়াডও রয়েছে।
এই তদন্তকারী দলগুলির সদস্যরা আশপাশের সমস্ত এলাকা পরীক্ষা করে দেখবেন। সংশ্লিষ্ট মাঠ, জঙ্গল, জলাজমি, পুকুর সমস্ত কিছু পরীক্ষা করে দেখা হবে। পাশাপাশি, হাতির পায়ের ছাপ সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। তারা একই ধরনের কোনও বিষাক্ত জিনিস খেয়েছে কিনা, সেটাও পরীক্ষা করে দেখবেন তদন্তকারীরা।
ওই আধিকারিক আরও জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এটি বিষক্রিয়ার ঘটনা বলে মনে হলেও হাতিগুলির মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই জানা যাবে।
মৃত্যুর কারণ নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আধিকারিক ও পশু চিকিৎসকরা দেরাদুনের ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে বান্ধবগড় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্প এলাকায় প্রায় ৬০টি হাতি রয়েছে।