বাড়ি > ঘরে বাইরে > পরিযায়ীরা ঘরে ফেরার পরে উত্তর পূর্বে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা
মণিপুরে ফেরার চেষ্টায় চেন্নাই বাস স্ট্যান্ডে শিশু নিয়ে অপেক্ষায় মা। ছবি: পিটিআই। (PTI)
মণিপুরে ফেরার চেষ্টায় চেন্নাই বাস স্ট্যান্ডে শিশু নিয়ে অপেক্ষায় মা। ছবি: পিটিআই। (PTI)

পরিযায়ীরা ঘরে ফেরার পরে উত্তর পূর্বে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা

  • প্রশাসনিক কর্তাদের অভিযোগ, গত ৪ মে রাজ্যের সীমান্ত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তই এর জন্য দায়ী।

এপ্রিলের শেষেও সারা দেশের তুলনায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল নগণ্য, কিন্তু বর্তমানে উত্তর পূর্বের সাত রাজ্যে লাফিয়ে বাড়ছে Covid-19 সংক্রমণ। আপাতত এই অঞ্চলে ২,১জজ এরও বেশি রোগীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

উত্তর পূর্বের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য অসমে প্রায় ১,৫০০ করোনা রোগীর খোঁজ মিলেছে। বাকি ৬ রাজ্যেও রোজই বাড়ছে সংক্রমণের দাপট। প্রশাসনিক কর্তাদের অভিযোগ, গত ৪ মে রাজ্যের সীমান্ত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তই এর জন্য দায়ী।

উত্তর পূর্ব ভারতে প্রথম কোভিড সংক্রমণের খবর মেলে গত ২৪ মার্চ, যখন ব্রিটেন ফেরত মণিপুরের এক তরুণীর নমুনা করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। ৫ মে সেই মণিপুরেই মোট কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৩। 

৫ মে অসমে কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৪, সেরে ওঠা রোগী ৩২, চিকিৎসারত ১১ এবং মৃত এক জন। জুন মাসের ১ তারিখে রাজ্যে করোনা আক্রান্ত মোট ১,৪৮৬ জন, ২৮৫ জন সেরে উঠেছেন, ১,১৯৪ জন চিকিৎসারত ও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এঁদের মধ্যে ১,৩৩৭ জনই ৪ মে ভিনরাজ্য থেকে অসমে ফেরেন। 

সোমবারই ত্রিপুরায় সর্বোচ্চ সংখ্যক বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত ধরা পড়েন, যখন একদিনে ১০৭ জন করোনা পজিটিভ প্রমাণিত হন। রাজ্যে মোট আক্রান্ত ৪২১ যার মধ্যে বিএসএফ কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্য মিলিয়ে ১৬৬ জন। অথচ ৫ মে ত্রিপুরায় মাত্র ৪২ জন আক্রান্ত ছিলেন। 

মঙ্গলবার সকালে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা টুইট করেন যে, তাঁর রাজ্যে ১২ জন নতুন করোনা আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১০ জন দিল্লি এবং ২ জন কলকাতা থেকে ফিরেছেন। তার আগে ওই রাজ্যে মাত্র একজন করোনা রোগীর খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল, যিনি চিকিৎসার পরে সুস্থ হয়ে গত ৯ মে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। 

নাগাল্যান্ডে মঙ্গলবার সকালে নতুন ৬ জন করোনা রোগীর খোঁজ মিলেছে। তার ২৫ মে রাজ্যের প্রথম তিন কোভিড রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়, যাঁরা সকলেই শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনে চেন্নাই থেকে ফিরেছিলেন। 

৫ মে পর্যন্ত মেঘালয়ে কোভিড রোগীর সংখ্যা ছিল ১৩ জন। তাঁরা সকলেই এক পরিবারের সদস্য এবং শিলংয়ের বাসিন্দা। দুই সপ্তাহ পরে চেন্নাই থেকে ফেরা একজনের নমুনা করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। বর্তমানে এই রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ২৮। 

অরুণাচল প্রদেশকে গত ৫ মে ‘কোভিডমুক্ত’ ঘোষণা করা হয় যখন রাজ্যের একমাত্র করোনা রোগী এপ্রিল মাসে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। কিন্তু পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরে আসার পরে বর্তমানে নাগাল্যান্তে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২২। 

বন্ধ করুন