বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > কংগ্রেসে বিরোধীদের ষড়যন্ত্রে ২ বার প্রধানমন্ত্রিত্বের সুযোগ পাননি পাওয়ার, দাবি প্যাটেলের
বিরোধীদের বাধায় প্রধানমন্ত্রিত্বের স্বপ্ন পূর্ণ হয়নি শরদ পাওয়ারের, দাবি সহকর্মী প্রফুল প্যাটেলের।
বিরোধীদের বাধায় প্রধানমন্ত্রিত্বের স্বপ্ন পূর্ণ হয়নি শরদ পাওয়ারের, দাবি সহকর্মী প্রফুল প্যাটেলের।

কংগ্রেসে বিরোধীদের ষড়যন্ত্রে ২ বার প্রধানমন্ত্রিত্বের সুযোগ পাননি পাওয়ার, দাবি প্যাটেলের

  • দুই বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেয়েও কংগ্রেসে তাঁর বিরোধীদের বাধায় সেই স্বপ্ন পূর্ণ হয়নি এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারের।

জীবনে দুই বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেয়েও কংগ্রেসে তাঁর বিরোধীদের বাধায় সেই স্বপ্ন পূর্ণ হয়নি এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারের। সম্প্রতি শিবসেনা মুখপত্র ‘সামনা’য় প্রবীণ নেতার ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এমনই দাবি করেছেন এনসিপি নেতা প্রফুল প্যাটেল।

প্যাটেল লিখেছেন, ‘১৯৯১  সালে লোক সভা নির্বাচনের সময় রাজীব গান্ধীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পরে কংগ্রেস দল দিশাহারা হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি সামলাতে পাওয়ারকে দলের সভাপতি করার দাবি উঠেছিল, কিন্তু কয়েক জন ড্রয়িইংরুম রাজনীতিকদের চালে তা আটকে যায়। তাঁরা কেউ দলের নেতৃত্ব শক্তপোক্ত করতে চাননি বলেই পি ভি নংসিংহ রাওকে সভাপতি করা হয়।’

প্যাটেল আরও লিখেছেন, ‘লোক সভা নির্বাচনে সংসদে নিরঙ্কুশ আসনে জয়ী হয় কংগ্রেস এবং ফের পাওয়ারকে প্রধানমন্ত্রী করার দাবি ওঠে। কিন্তু ফের ওই একই নেতারা সনিয়া গান্ধীর নাম অপব্যবহার করে রাওকে প্রধানমন্ত্রী করেন।’

প্যাটেলের মতে, ‘পাওয়ারের বিরুদ্ধে সেই ১৯৮৯ সালেতিনি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় থেকেই ষড়যন্ত্র হয়ে চলেছে।. আমি দেখেছি কীভাবে দিল্লিতে ওঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমি দেখেছি প্রধানমন্ত্রীর সিংহাসনের প্রায় নাগাল পেয়েও তা হাতছাড়া হয় তাঁর।’

প্যাটেলের দাবি, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন পাওয়ারের সঙ্গে কীভাবে দূরত্ব বেড়েছিল নরসিংহ রাওয়ের।

পরে ১৯৯৬ সালের লোক সভা নির্বাচনে কংগ্রেস পরাজিত হয়। এই পরিস্থিতিতে ফের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ আসে পাওয়ারের সামনে।

প্যাটেল লিখেছেন, ‘১৪৫টি আসন জেতার সম্ভাবনা ছিল কংগ্রেসের। এইচ ডি দেবেগৌড়া, মুলায়ম সিং যাদব এবং বাম নেতারা সরকারের অংশ হওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন যদি রাওয়ের বদলে পাওয়ার প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী  হতেন। কিন্তু রাও রাজি ছিলেন বলে দেবেগৌড়াকে বাইরে থেকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় কংগ্রেস।’

পরবর্তীকালে ১৯৯৭ সালে তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি সীতারাম কেশরী দেবেগৌড়া সরকারের থেকে সমর্থন তুলে নেয়। প্যাটেল লিখেছেন, ‘কংগ্রেসের ১২৫ জন সাংসদ পাওয়ারের বাসভবনে এসে তাঁর প্রতি সমর্থন জানান। কিন্তু কংগ্রেসে ফাটল আটকাতে সে বারও রাজি হননি পাওয়ার। এ ভাবেই প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর দ্বিতীয় সুয়োঘ তাঁর হাতছাড়া হয়।’

প্রফুল প্যাটেলের দাবি, এর পরেও কংগ্রেসে তাঁর বিরোধীদের লাগাতার ষড়যন্ত্রের জেরে শেষ পর্যন্ত স্বাধীন দল গড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন শরদ পাওয়ার। উল্লেখ্য, প্যাটেলের কোনও অভিযোগেরই জবাব দেয়নি কংগ্রেস।

বন্ধ করুন