বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ষাটোর্ধ্বের পরিবর্তে বুস্টার ডোজ কি ৫০ বছর থেকেই চালু করা উচিত বাংলাদেশের?
বাংলাদেশে করোনার বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে৷ কিন্তু সুরক্ষা অ্যাপটি পুরোপুরি আপডেটেড না হওয়ায় আগামী ২৮ ডিসেম্বরের আগে পুরোমাত্রায় শুরু হচ্ছে না৷ (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য বিপিন কুমার/হিন্দুস্তান টাইমস)
বাংলাদেশে করোনার বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে৷ কিন্তু সুরক্ষা অ্যাপটি পুরোপুরি আপডেটেড না হওয়ায় আগামী ২৮ ডিসেম্বরের আগে পুরোমাত্রায় শুরু হচ্ছে না৷ (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য বিপিন কুমার/হিন্দুস্তান টাইমস)

ষাটোর্ধ্বের পরিবর্তে বুস্টার ডোজ কি ৫০ বছর থেকেই চালু করা উচিত বাংলাদেশের?

  • বাংলাদেশে করোনার বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে৷

বাংলাদেশে করোনার বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে৷ কিন্তু সুরক্ষা অ্যাপটি পুরোপুরি আপডেটেড না হওয়ায় আগামী ২৮ ডিসেম্বরের আগে পুরোমাত্রায় শুরু হচ্ছে না৷

আর এটা আপাতত পাবেন ষাটোর্ধ্বরা৷ অবশ্য বুস্টার ডোজ নিতে নথিভুক্তিকরণের  প্রয়োজন নেই বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদি সাবরিনা ফ্লোরা৷

১৯ ডিসেম্বর অনেকটা ঘটা করেই বুস্টার ডোজ নেন পাঁচ মন্ত্রী৷ নিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক৷ আর নিয়েছেন সেই স্টাফ নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তা, যিনি বাংলাদেশে প্রথম করোনার টিকা নিয়েছিলেন৷

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রন’ বাংলাদেশেও এসে গিয়েছে৷ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন৷ বলা হচ্ছে, সেই কারণেই প্রধানত বুস্টার ডোজের উদ্যোগ৷ তাহলে সেটা শুধু ষাটোর্ধ্ব নাগরিকদের জন্য কেন? এর জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশে এই পর্যন্ত যাঁরা করোনায় মারা গিয়েছেন, তাঁদের ৮৫ শতাংশেরই ৬০-এর বেশি বয়স৷ দেশের সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য এই উদ্বেগ আর সুরক্ষা অবশ্যই প্রশংসনীয়৷ তবে প্রশ্ন আছে দেশের সব নাগরিকের সুরক্ষা কি সম্ভব হয়েছে? সবাইকে কি টিকার আওতায় আনা গিযেছে? সবাইকে টিকা না দিয়ে বুস্টার ডোজ শুরু করা কোনও অসাম্য কিনা?

দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে সরকারের৷ সেই হিসেবে মোট ১২ কোটি ৮০ লাখ মানুষকে টিকা দিতে হবে৷ আর দুই ডোজ করে টিকা দিতে মোট টিকা লাগবে ২৫ কোটি ৬০ লাখ ডোজ৷ এপ্রিল মাসের মধ্যে এই টিকা দিতে হলে এখন পর্যন্ত যা দেওয়া হয়েছে, সেই বিবেচনায় আরও ১৫ কোটি ডোজ টিকা লাগবে৷ কিন্তু সরকারের হাতে আছে এখন টিকা আছে চার কোটি ৬৩ লাখ৷

তবে সরকার বলছে, চলতি মাসেই আরও ছয় কোটি ৫৫ লাখ টিকা আসবে৷ ২০২২ সালের প্রথম তিন মাসের মধ্যে ৯ কোটি ডোজ টিকা পাওয়া যাবে৷ সেই হিসেব করলে মার্চ মাসে ১৬ কোটি ডোজের বেশি টিকা আসছে বাংলাদেশে৷ সেটা হলে টিকা নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা নয়৷ কিন্তু সরকারের পরিকল্পনায় সবার জন্য যদি বুস্টার ডোজের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে কিন্তু এই টিকায় কুলোবে না৷ আর বুস্টার ডোজ তো সবার প্রাপ্য৷

তাই প্রশ্ন এখানে দুটি:

১.সবাই দুই ডোজ টিকা পাওয়ার আগে বুস্টার ডোজ কি অসাম্য সৃষ্টি করবে?

২. সবাইকেই কি বুস্টার ডোজ দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের আছে?

ষাটোর্ধ্ব কত নগরিক এখন পর্যন্ত টিকা পেয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাতে সঠিক সংখ্যাটি এখনও নেই৷ তারা বলছে, ষাটোর্ধ্বদের ৬০ ভাগ টিকা পেয়েছেন৷ কিন্তু তারা সবাই কি দুই ডোজ পেয়েছেন? এই হিসাব করতে আরও সময় নেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রক৷ হিসাব থাকলে তারা বলে দিতে পারত, ষাটোর্ধ্বদের বুস্টার ডোজ দিতে কত টিকা লাগবে৷ তবে সাধারণভাবে একটি হিসাব বের করা যায়৷ দেশের মোট নাগরিকদের ৬.১ ভাগ ষাটোর্ধ্ব ৷ জনসংখ্যা ১৭ কোটি ধরলে তাঁদের সংখ্যা এক কোটির বেশি৷ তার ৬০ ভাগ ৬০ লাখের বেশি৷ তাহলে বুস্টার ডোজ দিতে ৬০ লাখের বেশি টিকা লাগবে৷ আর দেশের সবাই যদি টিকা পেয়ে যান, তাহলে সবাইকে বুস্টার ডোজ দিতে লাগবে ১২ কোটি ৮০ লাখ অতিরিক্ত টিকা৷

কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রথম ডোজ পেয়েছেন ছয় কোটি ৯৪ লাখ ২৯ হাজার ৮০১ জন৷ দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন চার কোটি ৭৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪২৫ জন৷ বুস্টার ডোজ পেয়েছেন ১০ জন৷ শতকরা হিসেবে প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৫০ ভাগের বেশি মানুষ৷ আর দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৩৫ ভাগের বেশি৷ এটা মোট জনসংখ্যার ৮০ ভাগের হিসেবে৷ বুস্টার ডোজ নিবন্ধন করেই নিতে হবে৷ তাই সুরক্ষা অ্যাপটি আপডেটেড না করা পর্যন্ত আসলে বুস্টার ডোজ ওই অর্থে শুরু হচ্ছে না৷

উল্লেখ্য, করোনায় এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে মারা গিয়েছেন ২৮ হাজার ৫২ জন৷ মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৮১ হাজার ৯৮৬ জন৷ যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সের সর্বোচ্চ আট হাজার ৭০১ জন৷ শতকরা হিসাবে ৩১.২ ভাগ৷ মৃত্যুর দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সিরা৷ তাঁদের সংখ্যা ছয় হাজার ৬১৪ জন৷ শতকরা হার ২৩.৫৮৷ তৃতীয় অবস্থানে ৭১ থেকে ৮০ বছর বয়সিরা৷ তাঁদের সংখ্যা চার হাজার ৮৬৯ জন৷ শতকরা হিসেবে ১৭.৩৬ ভাগ৷ এই হিসেব দেখলে এটা স্পষ্ট যে এখনকার বুস্টার ডোজের বয়স সীমা সর্বনিম্ন ৫০ থেকে ধরা উচিত ছিল৷

(বিশেষ দ্রষ্টব্য : প্রতিবেদনটি ডয়চে ভেলে থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবেদনই তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার কোনও প্রতিনিধি এই প্রতিবেদন লেখেননি।)

বন্ধ করুন