বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > তিন দশক পরে সুবিচার, সিস্টার অভয়া খুনে দোষী সাব্যস্ত কনভেন্টের ফাদার ও নান
হত্যা মামলায় ফাদার টমাস কাট্টুর ও সিস্টার সেফির বিরুদ্ধে এই রায় ঘোষণা করেছে আদালত।
হত্যা মামলায় ফাদার টমাস কাট্টুর ও সিস্টার সেফির বিরুদ্ধে এই রায় ঘোষণা করেছে আদালত।

তিন দশক পরে সুবিচার, সিস্টার অভয়া খুনে দোষী সাব্যস্ত কনভেন্টের ফাদার ও নান

  • সিবিআই চার্জশিট অনুযায়ী, কনভেন্টের দুই যাজক ও এক সন্ন্যাসিনীর মধ্যে অবৈধ সম্পর্কের বিষয়ে জেনে ফেলার কারণেই অভয়াকে খুন করা হয়েছিল।

প্রায় তিন দশক পার করে সিস্টার অভয়া হত্যাকাণ্ডে ক্যাথলিক চার্চের এক যাজক ও এক সন্ন্যাসিনীকে দোষী সাব্যস্ত করল সিবিআই আদালত। মঙ্গলবার এই মামলায় ফাদার টমাস কাট্টুর ও সিস্টার সেফির বিরুদ্ধে এই রায় ঘোষণা করেছে আদালত। 

রায়ের সবিস্তার কপি পাওয়ার পরে বিচারের পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান সম্পর্কে জানা যাবে। আগামিকাল ২৩ ডিসেম্বর রায় সম্পর্কে দোষীদের বক্তব্য শুনবেন বলে জানিয়েছেন সিবিআই বিচারক সনল কুমার। 

১৯৯২ সালের ২৭ মার্চ কেরালার কোট্টায়মে পায়াস দশম কনভেন্টের এক কুয়োর মধ্যে পাওয়া যায় দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সিস্টার অভয়ার দেহ। প্রাথমিক তদন্তে স্থানীয় পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চ ঘটনাটি আত্মহত্যা মনে করলেও জোরালো প্রতিবাদের জেরে পরে সিবিআই-কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

আদালতে জমা দেওয়া সিবিআই চার্জশিট অনুযায়ী, কনভেন্টের দুই যাজক ও এক সন্ন্যাসিনীর মধ্যে অবৈধ সম্পর্কের বিষয়ে জেনে ফেলার কারণেই অভয়াকে খুন করা হয়েছিল। তাঁকে ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার পরে কুয়োয় ছুড়ে ফেলা হয় বলেও সিবিআই তদন্তে প্রকাশ পায়। 

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্টে সিবিআই প্রথমে জানিয়েছিল, সিস্টার অভয়া আত্মঘাতী হয়েছেন। কিন্তু আদালত সেই রিপোর্ট খারিজ করে পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেয়। 

এর পর ১৯৯৭ সালের মার্চ মাসে সিবিআই তার দ্বিতীয় রিপোর্টে জানায়, অভয়াকে খুন করা হয়েছে। সেই রিপোর্টও খারিজ পরে পুনরায় অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয় আদালত। 

২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তার তৃতীয় রিপোর্টে সিবিআই এর্নাকুলমের আদালতকে ফের জানায়, অভয়াকে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা সংস্থা। ধৃত ক্যাথলিক যাজক ফাদার টমাস কোট্টুর, ফাদার জোসে পুত্রুকায়িল এবং সন্ন্যাসিনী সেফির বিরুদ্ধে খুন, সাক্ষ্য-প্রমাণ লোপাট ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনে সিবিআই। 

ছয় মাস জেলে কাটানোর পরে ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে তিন অভিযুক্তই জামিনে ছাড়া পান। ওই বছরের জুলাই মাসে মামলায় আদালতে চার্জশিট জমা দেয় সিবিআই। তিন অভিযুক্তর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা) ও ২০১ (সাক্ষ্য-প্রমাণ লোপাট) ধারায় মামলা করা হয়। অভিযোগ অস্বীকার করে খালাস পাওয়ার জন্য আদালতে পালটা একাধিক আবেদন জানায় তিন অভিযুক্ত। 

ইতিমধ্যে মামলায় একাধিক সাক্ষী বয়ান প্রত্যাহার করে নেন। এর পর তিন অভিযুক্তর নার্কো অ্যানালিসিস টেস্ট করার নির্দেশ দেয় আদালত। 

২০১৮ সালের মার্চ মাসে ফাদার পুত্রুকায়িলকে প্রমাণাভাবে মুক্তি দেয় আদালত। 

২০১৯ সালের অগস্ট মাসে ২৭ বছর পরে ফের মামলার শুনানি শুরু হয়। সিস্টার অভয়ার সুবিচার চেয়ে আবেদনকারী প্যানেলের একমাত্র জীবিত সদস্য বর্তমানে বেঁচে আছেন মানবাধিকার কর্মী জোমন পুতেনপুরাক্কাল। 

বন্ধ করুন