বাড়ি > ঘরে বাইরে > উত্তরপ্রদেশ থেকে কর্মী নিতে গেলে অন্য রাজ্যদের অনুমতি নিতে হবে, সামাজিক সুরক্ষা দিতে হবে- যোগী
যোগী আদিত্যনাথ 
যোগী আদিত্যনাথ 

উত্তরপ্রদেশ থেকে কর্মী নিতে গেলে অন্য রাজ্যদের অনুমতি নিতে হবে, সামাজিক সুরক্ষা দিতে হবে- যোগী

তবে সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের ভিত্তিতে যোগী সরকারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। অনুমান বিশেষজ্ঞদের।

আগে প্রয়োজন ছাড়পত্রের। তবেই উত্তরপ্রদেশের শ্রমিকদের কাজে নিয়োগ করতে পারবে অন্য রাজ্যগুলি, বললেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

একটি ভিডিয়ো কনফারেন্সে যোগী জানিয়েছেন, ভিনরাজ্য থেকে যে পরিযায়ী শ্রমিকরা উত্তরপ্রদেশে ফিরেছেন, তাঁদের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের দক্ষতা জানা হয়েছে। কোনও রাজ্য বা সংস্থা যদি সেই শ্রমিকদের কাজে ডাকে, তাহলে তাঁদের সামাজিক, আইনি এবং আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর কথায়, 'যদি কোনও রাজ্য লোকবল চায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে কর্মী বা শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা ও বিমা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের অনুমতি ছাড়া ওরা (রাজ্যগুলি) আমাদের মানুষদের নিতে পারবে না। কারণ ওঁদের (শ্রমিকরা) সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যে খারাপ ব্যবহার করা হয়।'

পরিযায়ী শ্রমিকদের অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে নজরদারির জন্য একটি বিশেষ কমিশন গঠনের নির্দেশও দিয়েছেন যোগী। তিনি জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত কমিশনটি শ্রমিকদের যেমন শোষণের হাত থেকে রক্ষার বিষয়গুলি দেখভাল করবে, তেমনই পরিযায়ীদের সামাজিক, আইনি এবং আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সহায়তা প্রদান করবে।

যদিও সাংবিধানিকভাবে বিজেপি শাসিত সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। অধ্যাপক অমিতাভ কুন্ডুর মতে, সংবিধানে যেহেতু চলাচল, বসবাস এবং চাকরির স্বাধীনতার অধিকার দেওয়া হয়েছে, সেজন্য যোগী সরকারের সিদ্ধান্ত আইনি বাধার মুখে পড়তে পারে। তিনি বলেন, ‘(সংবিধানের) ১৯ (১) (ডি) ধারায় দেশের যে কোনও প্রান্তে বাধাহীন চলাচলের স্বাধীনতা এবং ১৯ (১) (ই) ধারায় দেশের যে প্রান্তে বসবাস করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সেজন্য অনুমতি প্রয়োজনের (বিষয়টিকে) আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে।’ অর্থাৎ সংবিধানের মৌলিক ধারার আওতায় বাধার মুখে পড়তে পারে যোগী সরকারের সিদ্ধান্ত।

এটা তো শুধু গেল আইনি দিক। বাস্তবে বিশাল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজের সুযোগও কীভাবে তৈরি করবে যোগী প্রশাসন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।অমিতাভবাবুর মতে, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে শ্রমের চাহিদা উত্তরপ্রদেশের কর্মসংস্থানের সুযোগের থেকে ঢের বেশি। তাঁর কথায়, 'যাঁরা ফেরত এসেছেন, তাঁদের সবাইকে গ্রহণ করার (কর্মসংস্থানের সুযোগ করার) ক্ষমতা নেই উত্তরপ্রদেশের। কারণ জাতীয় গড়ের থেকে (উত্তরপ্রদেশে) জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি।' ফলে ‘জনমুখী’ সিদ্ধান্তের ঘোষণা করলেও তা বাস্তবায়নের আগে যোগী সরকারকে একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

বন্ধ করুন