বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > Covid-19-এ পড়ুয়ারা একটা বছর হারিয়েছে, তবে অনেক শিক্ষাও পেয়েছে: মোদী
ব্যারাকপুরের এক ছাত্র পরীক্ষায় নম্বর কম আসলে কী হবে, তাই নিয়ে প্রশ্ন করে। তাকে নম্বরের ভয় না পেয়ে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি : পিটিআই (PTI)
ব্যারাকপুরের এক ছাত্র পরীক্ষায় নম্বর কম আসলে কী হবে, তাই নিয়ে প্রশ্ন করে। তাকে নম্বরের ভয় না পেয়ে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি : পিটিআই (PTI)

Covid-19-এ পড়ুয়ারা একটা বছর হারিয়েছে, তবে অনেক শিক্ষাও পেয়েছে: মোদী

'পরীক্ষা পে চর্চার' চতূর্থ পর্বে শিক্ষায় করোনা পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন মোদী।

নব্বইটি দেশের ১৩ লক্ষ পড়ুয়া, শিক্ষক ও মা-বাবার সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হযেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। 'পরীক্ষা পে চর্চার' চতূর্থ পর্বে শিক্ষায় করোনা পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন মোদী।

প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই ভিডিয়ো আলোচনা চলে। প্রধানমন্ত্রী জানান, করোনা পরিস্থিতির প্রভাব প্রতিটা পরিবারেই কোনও না কোনওভাবে পড়েছে। এটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির গবেষণা করা উচিত্।

'করোনা এমনই একটা শাস্তি, যেটা বিনা কারণে, বিনা দোষেই আমাদের পেতে হচ্ছে। এটা কিন্তু জীবনের একটা শিক্ষা হিসাবে দেখা যেতে পারে। অনেক সময়েই এমন ঘটনা হবে, যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। পড়ুয়ারা তাঁদের জীবনের একটা বছর হারিয়েছে। সেটি সামাল দেওয়া মোটেও সহজ কাজ নয়,' বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এই পরিস্থিতি আমাদের ক্লাসরুম সেটআপের গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করেছে। আবার একইসঙ্গে বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকার ফলে প্রিয়জনের গুরুত্বও আমরা উপলব্ধি করেছি আরও বেশি করে।

সামনেই বিভিন্ন বোর্ডের পরীক্ষা। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আসন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে অনেক পড়ুয়াই আশঙ্কায় ভুগছে। সেকথা মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'পড়ুয়াদের উদ্বুদ্ধ করার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল সঠিক প্রশিক্ষণ। এটা বিভিন্নভাবে হতে পারে, বই থেকে, গল্প থেকে বা বড়দের অভিজ্ঞতার কথা থেকে।'

মা-বাবাদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'সন্তানকে ভোরে উঠতে জোর করবেন না। বরং তাঁদের এ সংক্রান্ত কোনও বই পড়ান। তাঁদের বুঝিয়ে বলুন যে ভোরে ওঠার কত উপকারিতা রয়েছে।'

যে কোনও বিষয়েই সন্তানের উপর যাতে মা-বাবারা জোর না করেন, সেকথাই মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'ভয় দেখিয়ে কিছু হয় না। ভয় আস্তে আস্তে কমে গেলেই শিশুরা নিজের পুরনো অভ্যাসেই ফিরে যাবে। তার চেয়ে ইতিবাচক অনুপ্রেরণা দিন। এর প্রভাব সারা জীবন থেকে যাবে।'

পরীক্ষার আগে কীভাবে বইয়ের পড়া মনে রাখব? এক ছাত্রে প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ করে বুঝিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, 'যাই পড় না কেন, সেটাকে মনের মধ্যে কল্পনা করবে ছবির মতো। জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময়ে যেমন সারা ভারতের একটা ছবি মনের মধ্যে ভেসে ওঠে, ঠিক সেইভাবে। এরকমভাবে বুঝে ও মনে মনে কল্পনা করে কোনওকিছু পড়লে তা সহজেই মাথায় থাকে।'

পরীক্ষা নিয়ে অহেতুক ভীতির বিষয়টিও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায়। তিনি বলেন, 'পরীক্ষা কোনও জীবন-মরণ ব্যাপার নয়। মা-বাবা সন্তানদের এত চাপ দেন যে পড়ুয়াদের পরীক্ষা ভীতি তৈরী হয়। চাপ কমান। তবেই তাদের মনে সাহস, উদ্যম আসবে।'

বন্ধ করুন