বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > দেশের Top Ten ধনী কীভাবে স্বাস্থ্য-শিক্ষার হাল ফেরাতে পারেন! উপায় বলল গবেষণা
দেশের শিশুশিক্ষার অগ্রগতিতে ভারতের ১০ সবচেয়ে ধনী এই বড় ভূমিকা নিতে পারেন। বলছে অক্সফ্যামের গবেষণা। (ছবি সৌজন্য এএনআই)। প্রতীকী ছবি। (Nitin Sharma)

দেশের Top Ten ধনী কীভাবে স্বাস্থ্য-শিক্ষার হাল ফেরাতে পারেন! উপায় বলল গবেষণা

  • অনেককেই তাক লাগাচ্ছে অক্সফ্যামের এই সমীক্ষার রিপোর্ট। যেখানে একটি পরিসংখ্যানে তুলে ধরা হয়েছে দেশের বিত্তশালীদের পরিস্থিতি। আর তাঁদের থেকে উন্নয়ন কীভাবে উপকৃত হতে পারে, তার পন্থা।

দেশের ১০ ধনীর সম্পত্তি দেশের স্কুল ও উচ্চ শিক্ষায় বিনিয়োগ হলে আগামী ২৫ বছরের জন্য দেশে ব্যাপক পরিমাণে অগ্রগতি হতে পারে শিশু শিক্ষায়। অক্সফ্যাম ইন্ডিয়ার এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, ভারতের ১০ শতাংশ ধনী ব্যক্তির থেকে যদি বাড়তি ১ শতাংশ কর ধার্য করে আদায় করা যায় তাহলে দেশ পেতে পারে ১৭.৭ লাখ বাড়তি অক্সিজেন সিলিন্ডার, ওই একই শতাংশের কর যদি দেশের ৯৮ শতাংশ ধনী পরিবারের জন্য ধার্য করা যায়, তাহলে 'আয়ুষ্মান ভারত' প্রকল্পের গোটাটাই তাঁরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।

'ওয়ার্ল্ড ইকোনিক ফোরাম , ডাভোস অ্যাজেন্ডা ইকোনমিক সামিট'-এ পেশ করা হয়েছে, অক্সফ্যামের এই সমীক্ষার রিপোর্ট। যেখানে একটি পরিসংখ্যানে তুলে ধরা হয়েছে দেশের বিত্তশালীদের পরিস্থিতি। আর তাঁদের থেকে উন্নয়ন কীভাবে উপকৃত হতে পারে। দেশের ১৪২ জন বিলিয়নিয়ারের মোট সম্পত্তি ৭১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় ৫৩ লাখ কোটি টাকারও বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের প্রথম ৯৮ শতাংশ ব্যক্তিদের সম্পত্তির পরিমাণ ওই অঙ্কের কাছাকাছি চলে যায়। গবেষণা বলছে, যদি ভারতের সবচেয়ে ধনী ১০ জন ব্যক্তি ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রতিদিন খরচ করেন, তাহলেও ৮৪ বছর লেগে যেতে পারে, তাঁদের এই সম্পত্তির পরিমাণের টাকা শেষ করতে। রিপোর্ট বলছে, যদি ধনীদের সম্পত্তির ওপর বার্ষিক কর চাপানো যায়, তাহলে ৭৮.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রতি বছর উঠে আসবে। যা দেশের সার্বিক স্বাস্থ্য প্রকল্পে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। উল্লেখ্য, কোভিড পরিস্থিতিতে যেভাবে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে পড়েছে, তাতে এই পদক্ষেপ একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হতে পারে। তাক লাগানো পরিসংখ্যানে অক্সফ্যামের রিপোর্ট বলছে, দেশের জাতীয় সম্পত্তির ৪৫ শতাংশ দেশের ১০ ধনীর কাছে থেকে যাচ্ছে। যেখানে জনসংখ্যার নীচের ৫০ শতাংশের অংশ মাত্র ৬ শতাংশ।

গবেষণা বলছে, সরকার যেন নিজের আয় বাড়াতে সম্ভাব্য কয়েকটি উৎসের দিকে নজর দেয়। রিপোর্টে ইঙ্গিত রয়েছে, সরকারি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে পাশাপাশি বেসরকারি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্র সমান তালে এগিয়ে চলেছে। সেই জায়গা থেকে আয়ের উৎস যদি সরকার আরও বাড়িয়ে নিতে পারে,তাহলে বহু সমস্যার সমাধান হতে পারে। রিপোর্ট বলছে, দেশের কর ব্যাবস্থায় আরও অগ্রগতি আনা উচিত সরকারের। ধনীদের ক্ষেত্রে সম্পত্তি গচ্ছিতকরণের দিক থেকেও পরিকাঠামো ব্যবস্থাগত দিক গুলি আরও বেশি করে খতিয়ে দেখা উচিত সরকারের । রিপোর্ট বলছে, দেশের প্রথম ১০০ জন বিলিয়নিয়ারের সম্পত্তি যদি একত্রিত করা হয়, তাহলে 'রুরাল লাইভলিহুড মিশন স্কিম' সেই সম্পত্তি থেকেই চালিয়ে নেওয়া যাবে। শিক্ষার বৈষম্যের দিক থেকে, সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে ভারতের ৯৮ জন বিলিয়নেয়ারের সম্পদের উপর যদি ১ শতাংশ করও ধার্য করা যায়, তাহলে সেই অর্থ শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনে স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের মোট বার্ষিক ব্যয় বহন করতে পারে। সেক্ষেত্রে ওই সম্পত্তিতে যদি ৪ শতাংশ কর লাগু করা যায় তাহলে তা দেশের স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল চালিয়ে দিতে পারে ১৭ বছরের জন্য। এছাড়া ৯৮ শতাংশ ধনীর সম্পত্তিতে ৪ শতাংশ কর ধার্য করা হলে মিশন পোশন, বা অঙ্গনওয়াড়ি প্রকল্পগুলি আগামী ১০ বছরের জন্য এগিয়ে যেতে পারে।

বন্ধ করুন