বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আদালতের, চাষী আইন মুলতুবি রাখার পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট
সিঙ্ঘু সীমান্তে চলছে প্রতিবাদ (PTI)
সিঙ্ঘু সীমান্তে চলছে প্রতিবাদ (PTI)

কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আদালতের, চাষী আইন মুলতুবি রাখার পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট

  • কোনও আইন শৃঙ্খলার সমস্যা হলে দায় কে নেবে, প্রশ্ন শীর্ষ আদালতের। 

কৃষি আইন নিয়ে তীব্র ভাষায় সরকারকে তুলোধোনা করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি বোবডের বেঞ্চ এদিন আলোচনায় কোনও সমাধানসূত্র না খুঁজে পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। আলোচনার জন্য কমিটি গঠন ও আপাতত আইন মুলতুবি রাখার পক্ষে এদিন সওয়াল করে শীর্ষ আদালত। সরকারের পক্ষ থেকে আইন মুলতুবি রাখার প্রস্তাবের তীব্র ভাষায় বিরোধিতা করা হয়। 

এদিন শুনানির শুরু থেকেই নিজেদের অসন্তোষ স্পষ্ট করে দেয় শীর্ষ আদালত। প্রসঙ্গত, তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে এক মাসের ওপর সময় ধরে দিল্লি সীমান্তে বিক্ষোভ করছে চাষীরা। আট দফায় আলোচনা হয়েছে কেন্দ্রের সঙ্গে, কিন্তু সমাধানসূত্র মেলেনি। তার জেরে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করল শীর্ষ আদালত। এদিন সিজেআই বলেন যেভাবে আলোচনা চলছে, তাতে তারা অসন্তুষ্ট। কেন আপাতত আইনগুলি মুলতুবি করে আলোচনা করা সম্ভব নয়, সেই প্রশ্ন করেন বিচারপতি বোবডে। কেন্দ্র কী সমস্যার মূলে না সমাধান করতে পারবে, সেই প্রশ্নও করেন তিনি। সিজেআই বলেন যে আপনারা কি আইনটি আপাতত মুলতুবি করবেন না আমরা করব, এই প্রশ্ন অ্যাটর্নি জেনারেলকে জিজ্ঞেস করেন তিনি। কেন্দ্র যদি আইন আপাতত মুলতুবি না করে, তাহলে শীর্ষ আদালতই করবে, স্পষ্ট জানান বিচারপতি বোবডে। 

প্রতিবাদে যে অনেক সংখ্যক বয়স্ক মানুষ ও মহিলারাও অংশ নিচ্ছেন, সেই নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। আইন শৃ্ঙ্খলার কোনও সমস্যা হতে পারে, এই আশঙ্কাও করেন সিজেআই। তেমন কিছু হলে যে সবাই দায়ী থাকবে, সেই কথা বলেন তিনি। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন যে কোনও পিটিশনে এটা বলা হচ্ছে না যে আইনগুলি অসাংবিধানিক। আইন এভাবে মুলতুবি করা যায় না, এটা হঠকারি, বলে অভিমত দেন তিনি। পালটা সিজেআই বলেন যে আপনারা সমস্যার সমাধান করতে পারেননি বলেই এই পথে যেতে হচ্ছে। আইনগুলির ফলেই এই সমস্যা ও কেন্দ্রকে সেটা মেটাতে হবে, সাফ জানান সিজেআই। সুপ্রিম কোর্ট চাইলে যে কোনও আইনের প্রণয়ন করা আটকাতেই পারে, সেকথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। 

এদিন প্রধান বিচারপতি এটা সাফ করে দেন যে তারা আইনভঙ্গকারীদের সমর্থন করবেন না। যদি কেউ আইন অমান্য করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। সরকারের পক্ষ থেকে এই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে কৃষকরা প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে অশান্তি করবে। তবে সেই সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেন কৃষকদের আইনজীবী দুষ্মন্ত দাভে। পঞ্জাবের কৃষকদের পরিবার সেনাদের পরিবারও এই কথা মনে করিয়ে দাভে বলেন যে তাদের যেন রামলীলা মাঠে প্রতিবাদ করার অনুমতি দেওয়া হয়। কমিটি নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে বলে জানান দাভে।  

প্রধান বিচারপতি ফের বলেন যে সরকার ঠিক ভাবে কাজ করছে না। কোনও রক্তক্ষয় হলে তার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তিনি করেন। সাংবিধানিক আদালত হিসেবে তাদের কোনও ধারা ২১-এর আওতায় ( জীবনের অধিকার) কোনও একটা সিদ্ধান্ত নিতেই হবে বলে জানান তিনি। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন যে চাষীদের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা শুধু আইন বাতিল করার দাবি করবে না। সেই অবধি আইন স্থগিত না রাখার আর্জি জানান তিনি। এতে মেজাজ হারায় আদালত। বেঞ্চ বলে যে ধৈর্য্য রাখা নিয়ে তাদের জ্ঞান দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেন্দ্রের তরফ থেকে বলা হয় যে সাধ্যমতো চেষ্টা করা হয়েছে চাষীদের বোঝানোর। সুপ্রিম কোর্ট বলে যে কোনও কাজের কাজ কিছু হয়নি। মঙ্গলবার ফের চলবে শুনানি। আজ বা কাল, অর্ডার দিতে পারে শীর্ষ আদালত। 

 

 

বন্ধ করুন