বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > এবিভিপি-র রোষে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি থেকে বাদ অরুন্ধতী রায়ের লেখা বই
এবিভিপি-র আপত্তিতে অরুন্ধতী রায়ের লেখা বই ‘ওয়াকিং উইথ দ্য কমরেডস’ পাঠ্যসূচি থেকে বাদ দিল তামিল নাডুর তিরুনেলভেলি জেলার মননমণিয়ম সুন্দরনর বিশ্ববিদ্যালয়।
এবিভিপি-র আপত্তিতে অরুন্ধতী রায়ের লেখা বই ‘ওয়াকিং উইথ দ্য কমরেডস’ পাঠ্যসূচি থেকে বাদ দিল তামিল নাডুর তিরুনেলভেলি জেলার মননমণিয়ম সুন্দরনর বিশ্ববিদ্যালয়।

এবিভিপি-র রোষে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি থেকে বাদ অরুন্ধতী রায়ের লেখা বই

  • বইটির মূল বিষয় মাওবাদী বনাম ভারত সরকারের সংঘর্ষ, যা এবিভিপি-র নজরে রাষ্ট্র বিরোধী।

এবিভিপি-র আপত্তির জেরে সাহিত্যিক তথা সমাজকর অরুন্ধতী রায়ের লেখা বই ‘ওয়াকিং উইথ দ্য কমরেডস’ পাঠ্যসূচি থেকে বাদ দিল তামিল নাডুর তিরুনেলভেলি জেলার মননমণিয়ম সুন্দরনর বিশ্ববিদ্যালয়।

২০১১ সালে প্রকাশিত বইটির মূল বিষয় মাওবাদী বনাম ভারত সরকারের সংঘর্ষ, যা এবিভিপি-র নজরে রাষ্ট্র বিরোধী। এই কারণে অরুন্ধতীর লেখা বইটির পরিবর্তে পাঠ্যসূচিতে পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত প্রয়াত এম কৃষ্ণানের লেখা ‘মাই নেটিভ ল্যান্ড: এসেস অন নেচার’ বইটি অন্তর্ভুক্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি সম্পর্কে বিশদে জানিয়ে তামিল নাডুর রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বনওয়ারিলাল পুরোহিতের দফতরে ইমেল পাঠানো হয়েছে।

অরুন্ধতী রায়ের লেখা বই সম্পর্কে আপত্তি জানিয়ে গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ জমা দিয়েছিল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। তার জেরে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন বিভাগের ডিনদের নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটিতে ছিলেন ২০১৭ সালে অরুন্ধতীর বইটি পাঠ্যসূচির অন্তর্গত করা প্রাক্তন চেয়ারম্যানও। জানা গিয়েছে, ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তর স্তরে বইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ সব কলেজের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। 

আলোচনার পরে বইটির সংবেদনশীল বিষয়বস্তুর কারণে পাঠ্যসূচি থেকে ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্তে পৌঁছয় কমিটি, জানিয়েছেন উপাচার্য কে পিচুমানি। তাঁর কথায়, ‘আমরা ঝামেলা এড়াতে চেয়েছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পড়ুয়াদের জন্য কী ভাবে পাঠ্যসূচি সাজাব, তা আমাদের খেয়াল রাখতে হয়। সিন্ডিকেট সদস্যদের থেকেও পর্যন্ত আমরা এই নিয়ে একাধিক ফোন ও অভিযোগপত্র পেয়েছি।’

উল্লেখ্য, হিস্দুস্তান টাইমস-এর হাতে আসা এবিভিপি-র অভিযোগপত্রে স্পষ্ট লেখা হয়েছে যে, বইটি পাঠ্যসূচিতে রাখা হলে তারা বিক্ষোভে নামবে। সেই কারণেই উপাচার্য জানান, ‘অতিমারী আবহে আমরা ছাত্রদের মধ্যে কোনও অশান্তি চাই না।’

জানা গিয়েছে, প্রায় দশ দিন আগে বইটির বিষয়বস্তু আরএসএস-এর নজরে আনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন পড়ুয়া। আরএসএস সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের তিরুনেলভেলি শাখার সদস্য গোপী গঙ্গাধরণের মতে, ‘বইটিতে নকশালপন্থায় জোর দেওয়া হয়েছে। বইটি ভারত বিদ্বেষী, মানবতা বিদ্বেষী। আমাদের দাবি যুক্তিপূর্ণ। এই সাফল্যের ভিত্তিতে এবার আমরা তামিল নাডুর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিও খতিয়ে দেখব।’

বন্ধ করুন