ছেলেকে উদ্ধার করতে স্কুটিতে ১,৪০০ কিমি পাড়ি দিলেন রাজিয়া বেগম।
ছেলেকে উদ্ধার করতে স্কুটিতে ১,৪০০ কিমি পাড়ি দিলেন রাজিয়া বেগম।

ছেলেকে করোনার গ্রাস থেকে উদ্ধার করতে ১,৪০০ কিমি স্কুটি চালালেন অসমসাহসী মা

এর আগে স্কুটি চালিয়ে কখনও শহরের বাইরে যাননি রাজিয়া। কিন্তু অসম্ভব মনের জোর কাজে লাগিয়ে গুগল ম্যাপ-এর সাহায্যে পরের দিন সকালে তিনি রেহমতাবাদ পৌঁছে যান।

করোনা সংক্রমণ থেকে ছেলেকে উদ্ধার করতে স্কুটিতে ১,৪০০ কিমি পাড়ি দিলেন এক মা। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে দিন-রাত দু’ চাকা ছোটালেন সাহসিনী।

দুই সপ্তাহ আগে অন্ধ্র প্রদেশের নেলোর জেলায় রেহমতাবাদ শহরে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র তেলাঙ্গনার বোধান শহরের বাসিন্দা মহম্মদ নিজামউদ্দিন। ২৩ মার্চ ফেরার রেলটিকিট কাটা থাকলেও দেশজুড়ে লকডাউন জারি হওয়ায় তিনি বন্ধুর বাড়িতেই আটকে পড়েন।

এ দিকে নেলোরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার তীব্রতর হলে উদ্বেগে অস্থির হন নিজামউদ্দিনের মা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া বেগম (৫০)। ফোনে ছেলের সঙ্গে কথোপকথনে জানতে পারেন, চেষ্টা করেও তেলঙ্গানা ফিরতে পারছেন না নিজামউদ্দিন।

সাহায্য চেয়ে বোধানের সহকারী পুলিশ কমিশনার ভি জয়পাল রেড্ডির দ্বারস্থ হন রাজিয়া। পুলিশকর্তাস তাঁকে অনেক বুঝিয়ে নিরস্ত করার চেষ্টা করলেও পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজের স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন প্রধান শিক্ষিকা। ঠিক করেন ১,৪০০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করে বাড়ি ফিরিয়ে আনবেন। সঙ্গে নেন পুলিশ সহকারী প্রধানের অনুমতিপত্র।

গত ৬ এপ্রিল ভোরে রওনা দেন রাজিয়া। পথে নানান জায়গায় তাঁকে পুলিশের ব্যারিকেডে থামতে হলেও অনুমতিপত্র দেখিয়ে ছাড়া পান রাজিয়া। পুলিশকর্মীরা তাঁর মনোবল ও সাহস দেখে অবাক হন।

ঘটনা হল, এর আগে স্কুটি চালিয়ে কখনও শহরের বাইরে যাননি রাজিয়া। কিন্তু অসম্ভব মনের জোর কাজে লাগিয়ে গুগল ম্যাপ-এর সাহায্যে পরের দিন সকালে তিনি রেহমতাবাদ পৌঁছে যান। পথে পেট্রল ভরতে এবং জিরিয়ে নিতে অল্প বিশ্রাম নেন কয়েক বার।

৭ এপ্রিলই দুপুরে ফের ছেলেকে নিয়ে নেলোর ছাড়েন রাজিয়া। ৮ এপ্রিল সকালে পৌঁছে যান নিজের বাড়ি। দীর্ঘ পথ স্কুটি চালিয়ে প্রচণ্ড ক্লান্ত মা জানান, ছেলেকে উদ্ধার করার তীব্র বাসনাই তাঁকে এই অসম সাহসিকতায় উদ্বুদ্ধ করেছে।

মায়ের অসামান্য মনোবল ও সাহসিকতায় মুগ্ধ ছেলে নিজামউদ্দিন। অল্প বয়সে বাবাকে হারালেও মা-ই যে তাঁকে বরাবর আগলে রেখে সে অভাব বুঝতে দেননি, তা স্বীকার করেছেন তিনি। রাজিয়া বেগমের কীর্তিকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বোধান শহরের সহকারী পুলিশ কমিশনার ভি জয়পাল রেড্ডিও।

বন্ধ করুন