বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > Durga Puja 2022: দুর্গাপুজোর মুখেই থার্মোকল ‘ব্যান’, বিপাকে শিল্পীরা
প্রতীকী ছবি: পিটিআই (PTI)

Durga Puja 2022: দুর্গাপুজোর মুখেই থার্মোকল ‘ব্যান’, বিপাকে শিল্পীরা

  • শিল্পীদের একাংশের মতে, এভাবে সরাসরি নিষিদ্ধ করার ফলে বেজায় সমস্যা হচ্ছে। বরং ধাপে ধাপে বন্ধ করতে পারত কেন্দ্র। সেটা করলে, থার্মোকলের বিকল্প খোঁজার আরও সময় পেতেন তাঁরা। 

দুর্গা পুজোর মণ্ডপ সজ্জার অন্যতম কাঁচামাল হল থার্মোকল। এদিকে পুজোর ঠিক ৩ মাস আগেই থার্মোকল(পলিস্টাইরিন) নিষিদ্ধ করেছে কেন্দ্র সরকার। তার যুক্তিযুক্ত কারণও আছে। পরিবেশ দূষণ রোধ করতেই এই পদক্ষেপ। এদিকে থার্মোকলের বিকল্প খুঁজতে গিয়ে নাকাল পুজো উদ্যোক্তারা। চিন্তায় শিল্পী-কারিগররাও। এতদিন তো প্যান্ডেল সাজাতে এগুলিরই ব্যবহার করেছেন। প্রতিমার অলঙ্কারেও থার্মোকলের অবাধ ব্যবহার হত। কিন্তু থার্মোকল তো এখন 'ব্যান' হয়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায় উপায় কী?

শিল্পীদের একাংশের মতে, এভাবে সরাসরি নিষিদ্ধ করার ফলে বেজায় সমস্যা হচ্ছে। বরং ধাপে ধাপে বন্ধ করতে পারত কেন্দ্র। সেটা করলে, থার্মোকলের বিকল্প খোঁজার আরও সময় পেতেন তাঁরা। সেই সঙ্গে পরিবেশের উপর থার্মোকলের খারাপ প্রভাব সম্পর্কেও সচেতনতামূলক প্রচার করা যেত। এতে ধীরে ধীরে অন্য কোনও পণ্যে অভ্যস্ত হয়ে যেতেন শিল্পীরা।

গত ১ জুলাই থেকে পলিস্টাইরিন বন্ধ করেছে কেন্দ্র। এছাড়াও প্লেট, কাপ এবং স্ট্র-এর মতো একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের উত্পাদন, আমদানি, মজুত, বিতরণ, বিক্রি এবং ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

থার্মোকল এক ধরণের সিন্থেটিক পলিমার। নিরাপদ প্যাকেজিং, তাপ নিরোধক এবং শিল্পসজ্জার কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে এটি বায়োডিগ্রেডেবল নয়। অর্থাত্ মাটি বা জলে ফেলে দিলে নিজে থেকে পরিবেশের স্বাভাবিক নিয়মে পচনশীল নয়। ফলে প্লাস্টিকের মতোই এটি একেবারেই পরিবেশবান্ধব নয়।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী সনাতন দিন্দা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। তবে তিনি এটাও বলেন যে, অন্য কোনও পণ্যে খাপ খাওয়ানোর জন্য কারিগরদের কিছুটা সময় দেওয়া উচিত ছিল।

তাঁর মতে, বর্তমানে বেশিরভাগ শিল্পীই থার্মোকল দিয়ে কাজ করেন। তাঁদের প্রথমে অন্যকিছু ব্যবহার শেখার সময় ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। তারপরেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত ছিল।

সনাতন দিন্দা জানান, তিনি নিজে বহুকাল যাবত্ থার্মোকলের ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে একসময়ে ব্যবহার করতেন। বর্তমানে তিনি মাটি, লোহা, কাগজ, ফাইবার গ্লাসের মতো পচনশীল বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান নিয়ে কাজ করেন। এবারের দুর্গাপুজোতেও ২টি মণ্ডপের দায়িত্বে আছেন তিনি।

অপর এক শিল্পী প্রদীপ দাসও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারকে এটাও নিশ্চিত করতে হবে যাতে, থার্মোকলের উত্পাদন করা বন্ধ হয়। বাজারে না থাকলেই স্বাভাবিকভাবে মানুষও সেটা আর ব্যবহার করতে পারবেন না। আপাতত কাপড়ের টুকরো নিয়ে একটি মণ্ডপে বিশেষ থিমের উপর কাজ করছেন প্রদীপ দাস।

পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র বলেন, প্রত্যেককে ভারত সরকারের নিয়মগুলি মেনে চলতে হবে।

তবে কারও কারও কাজ ইতিমধ্যেই অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। কারিগর রঞ্জিত সরকার প্রতিমার জন্য অলঙ্কার তৈরি করেন। তার পাশাপাশি থার্মোকল দিয়েও বিভিন্ন জিনিস বানান। তিনি বলেন, বেশিরভাগ আইটেম ইতিমধ্যে তৈরি করা হয়ে গিয়েছে। ফলে এই বছর এই নিয়ম নিয়ে খুব বেশি কিছু করার নেই। তবে এর পর থেকে থার্মোকলের বিকল্প নিয়ে ভাবতে হবে বলে মনে করছেন তিনি। তাঁরও মতে, এত দ্রুত ব্যান করার আগে, শিল্পীদের জন্য প্রচার ও বিকল্প খোঁজার সময় দেওয়া উচিত্ ছিল কেন্দ্রের।

শিল্পী ভবতোষ সুতারও একই মত। তাঁর মতে, পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি, পুজো হয়ে গেলে চারদিকে টুকরো টুকরো থার্মোকল পড়ে থাকে। এর ফলে দৃশ্য দূষণ হয়।

তাঁর মতে, এখন থার্মোকলের একটা বিকল্প খোঁজা দরকার। তিনি বলেন, শোলা ব্যবহার করা যেতে পারে, এটি একটি প্রাকৃতিক পণ্য। শোলা গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। জলাভূমিতে জন্মায়।

অনেকে শোলা আর থার্মোকল একই উপাদান ভাবেন, কিন্তু তা সত্যি নয়।

শোলা (Aeschynomene aspera) পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জলা জায়গায় পাওয়া যায়। এটি সংগ্রহ ও শৈল্পিক কাজে ব্যবহারের সঙ্গে বহু মানুষ যুক্ত।

তবে, থার্মোকলের তুলনায় শোলা অনেক বেশি ব্যয়বহুল। ফলে বিকল্প উপাদান হিসাবে এর ব্যবহার করা হলে উৎপাদন খরচ বাড়বে বলে জানান শিল্পী।

বন্ধ করুন