বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > Motor Panir? এটা কী খাবার? ভাইরাল ৯০ দশকের বিয়েবাড়ির মেনুকার্ড
ছবি : টুইটার (Twitter)
ছবি : টুইটার (Twitter)

Motor Panir? এটা কী খাবার? ভাইরাল ৯০ দশকের বিয়েবাড়ির মেনুকার্ড

তুলনামূলকভাবে কম পুরনো, ৯০ দশকে বিয়ের মেনু কেমন ছিল? তারই আঁচ মিলল সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি বিয়েবাড়ির মেনুতে। 

অনেক পুরনো মেনুকার্ডের ছবি এর আগে ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু তুলনামূলকভাবে কম পুরনো, ৯০ দশকে বিয়ের মেনু কেমন ছিল? তারই আঁচ মিলল সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি বিয়েবাড়ির মেনুতে। 'আমার মা-বাবার বিয়ের মেনু কার্ড,' শেয়ার করলেন এক টুইটার ব্যবহারকারী। তাতে লেখা আছে, ‘Motor Panir’। 

১৯৯০ হুগলির বাবুগঞ্জে বিয়েবাড়িটি হয়েছিল। তারই মেনু দেখে নস্ট্যালজিক সকলে।

ছবি : টুইটার
ছবি : টুইটার (Twitter)

এই মেনুকার্ডে যদি ভালো করে লক্ষ্য করেন, মেন কোর্সে চিলি ফিশ ও ভেজিটেবিল ফ্রায়েড রাইস এবং চিকেন রেজালা দেখতে পাবেন। আসলে ৮০-র দশক এবং ৯০-এর দশকে ধীরে ধীরে ভারতে দেশি চাইনিজের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তার আগে এখনকার মতো তখন চিলি চিকেন, চিলি ফিশ, ফ্রায়েড রাইস, মোমোর মতো দেশি চাইনিজ খাবারের এতটা চল ছিল না। সেটা কলকাতার ট্যাংরা এবং শহরের বড় রেস্তোরাঁর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। মফস্বলে সেই তুলনায় কমই ছিল।

ফ্রায়েড রাইস চিলি চিকেন/ফিশ এক সময়ে বিয়েবাড়িতে বেশ জনপ্রিয় ছিল। ছবি : ফেসবুক
ফ্রায়েড রাইস চিলি চিকেন/ফিশ এক সময়ে বিয়েবাড়িতে বেশ জনপ্রিয় ছিল। ছবি : ফেসবুক (Soumick Majumdar)

৭০-এর দশকের শেষে বা ৮০-র দশকের শুরুতে বিয়েবাড়িতে জনপ্রিয় মেন কোর্স হিসাবে সাদা ভাত-মটন কষা, পোলাও-মটন/মাছের কালিয়া-ই থাকত। এখনকার মতো বিরিয়ানিরও এত চল ছিল না বাঙালি হিন্দু বিয়েবাড়িতে।

যদিও ৮০-র দশকের মাঝামাঝি থেকে সেটা ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে। ধীরে ধীরে চিলি চিকেন, চিলি ফিশ, ফ্রায়েড রাইস জনপ্রিয় হতে শুরু করে। ফলে চিলি ফিশ-ফ্রায়েড রাইস সেই সময়ে সকলের বেশ পছন্দের খাবার ছিল। রাঁধুনি-ঠাকুরের স্থান পাকাপাকিভাবে নেয় ক্যাটারার।

সেই সঙ্গে মটনের পাশাপাশি চিকেনও বিয়েবাড়িতে আগের তুলনায় বেশি করে হতে শুরু করে। সেই মতোই ভাইরাল হওয়া মেনুতে দেখা গিয়েছে চিকেন রেজালা। এই রেজালা বিষয়টিতেও অভিনবত্ব আছে বৈকি। তার কারণ, এই ৮০-৯০-এর দশক থেকেই বিয়েবাড়ির মেনু কার্ডে সাধারণ চিকেন কষার জায়গায় একটু নতুন ধরনের ডিশ স্থান পেতে থাকে। যেমন, রেজালা, দো-পেঁয়াজা, চাপ, হান্ডি কাবাব ইত্যাদি।

মনে রাখতে হবে, সেই সময়ে কিন্তু এখনকার মতো এত রেসিপি সহজলভ্য ছিল না। ইউটিউব খুললেই রেসিপি মিলত না। রেসিপি শেখার উপায় ছিল রান্নার বই, কোনও পাকা পেশাদার বা শখের রাঁধুনির কাছে প্রশিক্ষণ বা বড়জোর রেডিয়োর রান্নার শো। 

তবে ৯০ দশকের শেষ থেকে সেই ট্রেন্ড ফিকে হয়ে যায়। চাইনিজ নিয়ে বিয়েবাড়ির সেই ফ্যাশিনেশনটা কমতে থাকে। ধীরে ধীরে ফের পোলাও স্থান পেতে থাকে। সেই সঙ্গে মটন বা চিকেন কষা। আর ২০০০ -এর দশকের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে বিয়েবাড়ির মেনুতে বেশি করে স্থান পেতে শুরু করে বিরিয়ানি।

অন্যদিকে স্টার্টারের রাধাবল্লভী, আলুর দম এখনও বহু বিয়েবাড়িতেই হয়। যদিও অনেকেই এখন বেবি নান, চানা মশলার দিকেই বেশি ঝোঁকেন। তবে রাধাবল্লভীর এখনও মার্কেট আছে বৈকি।

ভেজের মধ্যে আছে 'Motor' পনির। মটর পনিরও সেই সময়ে ধীরে ধীরে ভেজ মেনু হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। উত্তর বা পশ্চিম ভারতের এই আইটেম ধীরে ধীরে বাঙালিরা আপন করে নেয়। বিয়েবাড়ির শেষ পাতে ছিল কমলাভোগ। এটা হয়তো একটু অন্যরকম। এখন রসগোল্লা বা রাজভোগের চলই বেশি। তবে কমলাভোগ এখনও করেন কেউ কেউ। শেষে ‘আপনার সন্তুষ্টিই আমাদের অনুপ্রেরণা,’ গোছের মন্তব্য এখনও মফস্বলের কোনও কোনও ক্যাটারারের মেনু কার্ডে দেখা যায়। সেটিও বেশ মজার বিষয় বটে।

বন্ধ করুন