বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > লুঙ্গি পরে অনলাইনে পরীক্ষা, ৩ ছাত্রকে বহিষ্কার বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের
লুঙ্গি পরে অনলাইনে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ, ৩ ছাত্র বহিষ্কার বাংলাদেশে: ছবি (সৌজন্যে ফেসবুক) 
লুঙ্গি পরে অনলাইনে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ, ৩ ছাত্র বহিষ্কার বাংলাদেশে: ছবি (সৌজন্যে ফেসবুক) 

লুঙ্গি পরে অনলাইনে পরীক্ষা, ৩ ছাত্রকে বহিষ্কার বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের

  • পরীক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে।

লুঙ্গি পরে অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা দিতে বসেছিলেন বেশ কয়েকজন ছাত্র। তা নজরে আসামাত্রই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার করল তিন ছাত্রকে। ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশে।

অনলাইনে পরীক্ষা চলাকালীন লুঙ্গি পরে পরীক্ষা দিয়েছেনবাংলাদেশের দিনাজপুরের হাজী মহম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্র। সেইসঙ্গে শিক্ষকদের অভিযোগ, পরীক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন অভিযুক্ত ওই ছাত্ররা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে গত ৮ অগস্ট অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই পরীক্ষাগুলো নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়। পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২ থেকে ফুড অ্যান্ড প্রসেসিং ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের জেনারেল কেমিস্ট্রি কোর্সের পরীক্ষা নেওয়া শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।  পরীক্ষা চলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা এক শিক্ষক ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল ঠিক করতে গিয়ে দেখেন, এক ছাত্র লুঙ্গি পরে পরীক্ষা দিচ্ছেন। সঙ্গে সঙ্গে পরিদর্শক এই ঘটনাটিকে অনলাইনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার শিষ্টাচার-বহির্ভূত বলে জানান ওই ছাত্রকে। তারপর তাকে জুম থেকে বের করে দেওয়া হয়।

একইরকমভাবে অপর এক ছাত্রকে পরীক্ষা দেওয়ার সময় বেশি আলো প্রবেশ করায় জানালার পর্দা টেনে দিতে বলেন পরীক্ষক। ছাত্রটি চেয়ার ছেড়ে উঠতেই পরীক্ষক দেখতে পান যে, ওই ছাত্রটিও লুঙ্গি পরে রয়েছেন। তখন তাকেও অনলাইন পরীক্ষা থেকে বের করে দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, এরকমই মোট তিনজন ছাত্রকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে শিক্ষকরা জানিয়েছেন, পরীক্ষার নির্দেশাবলীতেই জানানো হয়েছিল যে, লুঙ্গি পরে পরীক্ষা দেওয়া যাবে না। তার সত্ত্বেও একাধিক ছাত্র নিয়মভঙ্গ করেছেন। একই সঙ্গে পরীক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে ছাত্রদের বিরুদ্ধে। সেই কারণেই তাদের পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। জুম থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থীর বলেন, 'পরীক্ষা দেওয়ার সময় আমার পিছনের জানালা থেকে আলো আসছিল। সে কারণে জানালার পর্দা টেনে দিতে বলেন পরীক্ষক। সেই সময় পর্যায়ে দেওয়ার জন্য চেয়ার ছেড়ে উঠলে, ওই পরীক্ষক আমায় লুঙ্গি পরা অবস্থায় দেখতে পান। তারপরে তিনি অনলাইনে ড্রেসকোডের কথা বলে আমাকে জুম থেকে বের করে দেন।'

এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. সাজ্জাত হোসেন সরকার বলেন, 'অনলাইনে পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়মাবলী রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ড্রেসকোড রয়েছে। পরীক্ষা চলার সময় ওই পরীক্ষার্থীদের পরনে লুঙ্গি পরা অবস্থায় দেখা গিয়েছে। ড্রেসকোড অনুযায়ী লুঙ্গির বদলে পোশাক পরতে বলা হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন ছাত্ররা। একজন শিক্ষকের সঙ্গে ছাত্ররা দুর্ব্যবহার করবেন, এটা কখনওই কাম্য নয়।'

বন্ধ করুন