বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > 'শুভেন্দু আগে জানালে কি দেখা করতেন?' রাষ্ট্রপতির কাছে SG-কে অপসারণের দাবি TMC-র
মহুয়া মৈত্র এবং তুষার মেহতা। (ছবি সৌজন্য এএনআই এবং হিন্দুস্তান টাইমস)
মহুয়া মৈত্র এবং তুষার মেহতা। (ছবি সৌজন্য এএনআই এবং হিন্দুস্তান টাইমস)

'শুভেন্দু আগে জানালে কি দেখা করতেন?' রাষ্ট্রপতির কাছে SG-কে অপসারণের দাবি TMC-র

  • সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে অপসারণ করতে হবে। দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল।

সলিসিটর জেনারেল (এসজি) তুষার মেহতাকে অপসারণ করতে হবে। এমনই দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল। সেইসঙ্গে রাষ্ট্রপতির হাতে একটি চিঠিও তুলে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং সুখেন্দুশেখর রায়।

তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেলের পর সলিসিটর জেনারেলই দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আইনি আধিকারিক। যিনি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কেন্দ্রকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। নারদ মামলাতেও তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআইয়ের হয়ে সওয়াল করেছেন। সেই পরিস্থিতিতে নারদ এবং সারদা মামলায় অভিযুক্ত শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করে ‘অন্যায় নিয়ে গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন’ তুলে দিয়েছেন। কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া এবং রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখরের স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজেও আইনজীবী ছিলেন। 'সম্মান এবং নীতি-নৈতিকতার' সঙ্গে কাজ করেছেন। অনুশীলন করেছেন সুপ্রিম কোর্টে। তাই আইনি পেশার নীতি-নৈতিকতার বিষয়ে তিনি ভালোভাবেই অবহত। সেই পরিস্থিতিতে মেহতার আচরণ যে নীতি-নৈতিকতার বিরুদ্ধে গিয়েছে, তা নিয়ে দ্বিধা নেই। সেই আচরণের জন্য মেহতার বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত। সেই সময় তাঁর ইস্তফা দেওয়া উচিত। তবে তিনি ইস্তফা না দিলেও ‘দেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা নিয়ে যাতে মানুষের বিশ্বাস ধাক্কা না খায়’, সেজন্য মেহতাকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আর্জি জানানো হয়েছে। যিনি সলিসিটর জেনারেলকে নিয়োগ করেন। 

দিনকয়েক আগে দিল্লি সফরে গিয়ে সলিসিটর জেনারেলের বাড়িতে গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। দু'জনের মধ্যে বৈঠক হয় বলে একটি মহল থেকে দাবি করা হয়। তা নিয়ে আসরে নাম তৃণমূল। সলিসিটর জেনারেলের পদ থেকে মেহতার অপসারণ চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লেখা হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে মেহতাকে বিবৃতি দিয়ে দাবি করতে হয়, যে বৈঠক নিয়ে এত চর্চা, সেই বৈঠকই হয়নি। তিনি বলেছিলেন, বলেন, 'আগেভাগে না জানিয়েই গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুর তিনটে নাগাদ আমার বাসভবন-অফিসে এসেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। যেহেতু আমার চেম্বারে আগে থেকেই একটি বৈঠক করছিলাম, আমার কর্মীরা অফিসের ওয়েটিং রুমে তাঁকে (শুভেন্দু) অপেক্ষা করতে বলেন। সঙ্গে এককাপ চা দেন। বৈঠকের পর আমার ব্যক্তিগত সচিব তাঁর (শুভেন্দু) আসার কথা জানান। আমি যে দেখা করতে পারব না, তা তাঁকে জানিয়ে দিতে বলি। সেইসঙ্গে অপেক্ষা করার জন্য আমার তরফে ক্ষমাও চাইতে বলি। সাক্ষাতের জন্য জোরাজুরি না করেই শুভেন্দু চলে যান। তাই আমার সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠকের প্রশ্নই উঠছে না।'

তাতেও অবশ্য রেহাই পাননি মেহতা। বরং সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনার দাবি তোলেন সর্বভারতীয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাষ্ট্রপতিকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তাতেও একই দাবি তুলেছে তৃণমূল। সেইসঙ্গে মেহতার বয়ানকে হাতিয়ার করে পালটা চিঠিতে জানানো হয়েছে, মেহতা জানিয়েছেন যে আগেভাগেই না জানিয়ে শুভেন্দু দেখা করতে এসেছিলেন। সেজন্য মেহতা ‘ক্ষমাও’ চেয়ে নিয়েছিলেন। তাহলে আগেভাগে জানিয়ে এলে কি শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা করতেন সলিসিটর জেনারেল? চিঠিতে লেখা হয়েছে, 'আমরা নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করতে চাই, সলিসিটর জেনারেল কি নিজের নীতি-নৈতিকতা ভুলে গিয়েছেন, যা উচ্চ মর্যাদার অফিসে তাঁর আচরণকে নির্দিষ্ট নিয়মে বেঁধে রাখে?'

বন্ধ করুন